ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এক কথায় বলা যায় নজিরবিহীন। এ সরকারের অধীনে এমন নির্বাচন হতে পারে তার একটা নতুন নজির সৃষ্টি হলো। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন আর এ নির্বাচনের তুলনা করতে গেলে বলতে হয়, এ নির্বাচন দেখে হয়তো বিনা ভোটে নির্বাচিত এমপিরা মুচকি হেসেছেন। তারা মনে মনে বলছেন, হায়…আমরা এমপি হলাম, অথচ একটি ভোটও পেলাম না। তাদের কত না সৌভাগ্য। তারা নিশ্চয় জনগণের এমপি নন। তারা জনগণের দরদও বোঝার কথা নয়। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এ সরকারের জন্য একটি বিরাট স্বস্তি। বিএনপির কারচুপির দাবিও ডাহা মিথ্যা বলে আমার মনে হয়। কারণ এ নির্বাচনে একটি ককটেলও ফাটানো হয়নি আমার জানা মতে।

সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি হিসেবে স্বীকার করার মধ্যে আনন্দ আছে। আছে রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে সুস্থতা ফিরে আসার আভাস। কিন্তু এর মধ্যে কেউ কি কনসপিরেসি কিংবা প্লট কিংবা ম্যাচিনেশন করার চিন্তা করতে পারে? সাধারণ চোখ দিয়ে দেখা যায়, এ নির্বাচনে কোনো ভেজাল হতেই পারে না। কারণ বিগত যতগুলো জাতীয় কিং অন্য প্রকারের রাজনৈতিক নির্বাচন হয়েছে তাতে কমবেশি জালিয়াতি, জালভোট, কেন্দ্র দখল ইত্যাদি খেলা ছিল। গণমাধ্যম সেগুলো লাইভ দেখিয়েছে। তাতে সাধারণ জনগণও জানতে পেরেছে নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ। কিন্ত নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন নিয়ে তাদের কিছুই বলার নেই। কারণ এটা নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ নির্বাচনের মতো আমরা কি জাতীয় নির্বাচন পাব? সরকার কি তা করতে সফল হবে? না ক্ষমতা নামক জন্তুর লোভে আমরা আবার প্রাগৈতিহাসিক নির্বাচনে ফিরে যাব। কেন্দ্র দখলের অনুমতি দেব কিংবা জালভোটের সয়লাব বইয়ে দেব। তা আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগণ দেখতে পারবে বলে আশা করি।

নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সরকারের একটা টোপ বলেও মনে করতে পারেন সরকারবিরোধীরা। কিন্তু তার প্রমাণ তাদের হাতে নেই। কারণ আইভী জয়ী হয়েছেন জাস্ট জনগণের ভোটে। এখানে কারচুপি কিংবা ডিজিটাল তেলেসামাতি আছে বলে আমার মনে হয় না। বিএনপির পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করা হয়েছে। আমি মনে করি এটা হাস্যকর এবং অনভিপ্রেত। এটা রাজনৈতিক দলের চরিত্র হতে পারে না।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য একটা বড় সুযোগ। এতে প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমেনি। ক্ষমতাসীনদের কেউ হয়তো ৫ জানুয়ারির অসার নির্বাচন নিয়ে এখন স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলছেন। তাদের ধারণা হতে পারে, জালিয়াতির নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসার পর হয়তো মানুষ আমাদের অন্যায় অনিয়ম ভুলে গেছে। তাই ফের আইভীকে নির্বাচন করেছে। কিন্তু তা মোটেও নয়। আইভী তার দলের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজের প্রভাব জনগণের মধ্যে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। এ হিসাবটা করেই বিএনপির এ নির্বাচন সুষ্ঠু হিসেবে মেনে নেয়া উচিত। তাতেই সত্যিকারের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়া হবে। নচেৎ বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করার মতো একঘেয়েমি হয়ে যাবে। আমরা জনগণ আশা করি, আগামী জাতীয় নির্বাচনও এ সরকারের অধীনে হলেও এরকম সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। তবে কেউ যদি কু বাসনা নিয়ে নির্বাচনকে প্রকল্প বানাতে চায় তাতে সেই পুরোনো চেহারায় ফুটে উঠবে। আশা করি মাননীয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়টি খুব ভালভাবে উপলব্ধি করবেন।