ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

ক্ষমা শ্রেষ্ঠ গুণ। এজন্য ক্ষমা যেখানে আছে সেখানে অাছে শান্তিময় পরিবেশ। শুধু ক্ষমা করে দেয়ার কারণে যুদ্ধাক্রান্ত একটি জনপদ শান্তিময় হয়ে উঠতে পারে। ইতিহাসে এর উদাহরণ ভুরি ভুরি। কিন্তু আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে প্রস্তুত নই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমার সঙ্কট আরও প্রকট। দেশ স্বাধীনের পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তাতে জীবন রক্ষা হয়েছিল হাজার হাজার রাজাকারের। এই ক্ষমা শুধু বঙ্গবন্ধুর মতো ব্যক্তিত্বই করতে পারে। তবে এ ক্ষমার কারণে রাজাকারেরা আবার মাথাচড়া দিয়ে উঠেছিল। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার শক্তহাতে তাদের দমন করে জাতির ঘাড় থেকে কলঙ্ক মুছে ফেলার চেষ্টা করছেন। আশাকরি তিনি সফল হবেন।

Hasina-Khaleda

লেখাটি যে কারণে লেখা- বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করে দেয়ার বিষয়টি তুলেছেন। কি কারণে কেন ক্ষমা এসব প্রশ্ন না তুলে ক্ষমা করার মানসিকতার প্রশংসা করি আমি। তিনি বলেছেন, ‌‘শহীদ জিয়াউর রহমানের পরিবারের ওপর শেখ হাসিনা যে বৈরী আচরণ করেছেন, তার জন্য আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। প্রতিহিংসার আচরণ আমি করব না।’ তার এ বক্তব্যে প্রাথমিক যে ধারণা হয়, তা হলো- তিনি ক্ষমার মতো মহান গুণ অর্জন করার চেষ্টা করছেন। রাজনীতিতে এই সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত নেই। কিন্তু তিনি আদালতে প্রতিপক্ষ শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা বললেন। এ বিষয়টি অাপাতত কৌশল মনে হলেও একবারে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ আমরা যে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় হয়েছি, তাতে এ ধরনের দৃষ্টান্ত নেই।

সমালোচকেরা খালেদা জিয়ার এই ক্ষমা ঘোষণা নানাভাবে দেখবেন। কেউ বলবেন, ক্ষমা করা ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই তার। রাজ্যহীন রাজা ইত্যাদি কথা বলতে পারেন। কিন্তু আমার কথা হল, ক্ষমা করার ঘোষণা কিংবা ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা আমাদের রাজনীতিতে নেই বললেই চলে। খালেদা জিয়ার এ ক্ষমা ঘোষণার একটা প্রতিক্রিয়া রাজনীতিতে থাকবেই। উদাহরণ হিসেবে ব্যবহারও হবে। কিন্তু তিনি যদি ক্ষমতায় যান তাহলে কি এই ঘোষণার দাবি রক্ষা করতে পারবেন? তিনি না হয় করলেন, তার দলের নেতাকর্মীরা কি করবে? নানা প্রশ্ন থেকেই যায়। সবকিছুর পরে ক্ষমার দৃষ্টান্ত রাজনীতিতে আসুক। সুস্থ রাজনীতি দেশে বিরাজ করুক। এই কামনার মধ্যে অন্তত কোনো অকল্যাণ নেই।