ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

আমি যখন লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে এইচএসসি’র ছাএ তখন আমার একজন প্রিয় শিক্ষক ছিলেন, শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত । একঝাঁক সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত (বিসিএস শিক্ষা ) শিক্ষকদের মধ্যে সত্যিকার অর্থেই তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম! উল্লেখ করা প্রয়োজন যে শিক্ষক হিসেবে শিক্ষাদান পদ্ধতির বা পাঠদানের কৌশলের জন্য কিন্তু তিনি আমার প্রিয় ছিলেন না, তিনি আমার প্রিয় ছিলেন ব্যতিক্রমধর্মী চলাফেরার ধরনের (Life-style) জন্য। তিনি সব সময় দামি দামি ব্রান্ডের শার্ট-প্যান্ট-জুতা পরতেন, এমনকি চশমাটা ও ছিল অনেক দামি ব্রান্ডের! সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত অন্য শিক্ষকরা যেখানে কলেজ হোস্টেল ও ম্যাচে বসবাস করতেন সেখানে তিনি থাকতেন লক্ষ্মীপুর শহরের সবচেয়ে দামি আবাসিক হোটেলে , ঐ সময়ে আমাদের কাছে ঐ হোটেলের ভাড়া আকাশচুম্বি মনে হত!

ওনার নামটাও ছিল ব্যতিক্রম। এরকম নাম আমি ঐ সময়ে আর শুনিনি, নাম ছিল নেহাল আহাম্মেদ! নেহাল যে কারও নাম হতে পারে তা আমার কাছে বিশ্বাস যোগ্য মনে হয়নি! তাঁর মামা ছিলেন ঐ সময়ের প্রভাবশালী এক ব্যক্তি! জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ালেখা করেন এবং জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটারের সাথে জড়িত ছিলেন। থিয়েটারের সাথে জড়িত ছিলেন বলেই হয়তো তাঁর চলা-ফেরার ধরন (Life-style) ছিলো একটু ব্যতিক্রম!

প্রথমদিন ক্লাসে এসেই খুবই কঠিন এক ভাব দেখালেন! কাউকেই ক্লাসে কথা বলতে দেখলেই দাঁড় করিয়ে রাখতেন বা ক্লাস থেকে বের করে দিতেন এবং তিনি কোন কিছুকেই ভয় পান না, যে কোন রকম অপরাধ করবে তাকে কোন ভাবেই ক্ষমা করবেন না বলে ঘোষনা দিলেন! প্রয়োজনে তিনি নিজেই কলেজ থেকে অপরাধীকে বহিঃস্কারের ব্যবস্থা করবেন বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করলেন! দুষ্ট প্রকৃতির ছাএগুলোর উপর এর প্রভাব মোটামুটি ভালোই পড়লো মনে হলো! ক্লাস একেবারে …!

দুর্ভাগ্যক্রমে এর একদিন পরই ছাএ সংগঠনগুলোর ব্যাপক সংঘর্ষ হয় এবং দুইজন নিহত হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ  প্রায় এক সপ্তাহ কলেজ বন্ধ ঘোষনা করতে বাধ্য হয়। এক সপ্তাহ পর যখন ক্লাস শুরু হয় যথারীতি তিনিও তাঁর নির্ধারিত ক্লাসে আসেন এবং ক্লাস নিতে শুরু করেন, এবার দেখি অন্য রকম এক স্যার! ক্লাস যথারীতি হট্টগোল চলছে কিন্তু স্যার থামানোর চেষ্টা করছেন না , যখন হট্টগোলের কারনে তিনি কোন কথাই বলতে পারছিলেন না তখন তিনি হঠাৎ করেই বলে ওঠলেন, “সাহিত্যের ক্লাস! কথা তো বলতেই পারেন, তবে একটু আস্তে বলেন” !!!

মাঝে-মধ্যে এখনও অসহায়-ভয়ার্ত এক শিক্ষকের কথা আমার কানে বাজে, “সাহিত্যের ক্লাস ! কথা তো বলতেই পারেন, তবে একটু আস্তে বলেন” !!!!