ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

মানুষের সম্পর্কের পরিধি অনেক বড়, বরং পৃথিবীটা ছোট । পেট্রোল বোমা মারার আগে অন্তত একবার ভেবে দেখুন, আমার কোন প্রিয়জন, আপনার কোন স্বজন আপনার ছোড়া পেট্রোল বোমার গন্তব্য হওয়া কাকতালীয় কোন ঘটনা হবে না । ‘৫২, ‘৬৬, ‘৬৯, ‘৭১, ‘৯০ সহ কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলন বৃথা যায় নি, যেতে পারে নি; মানুষের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, মুক্তির প্রেরণা, গণজোয়ার দাবিয়ে রাখা যায় নি । ওই গুলো ছিল বাঁচার- বাঁচানোর সংগ্রাম । আজ আবার মানুষ মারার নামও আন্দোলন (!) হয়ে গেছে । আমি ভেবে অবাক হই, ক্লান্তি আমার প্রতিবাদের ভাষাকে অবরুদ্ধ করে রাখতে পারে না ।

কোন সুস্থ্য মস্তিষ্কের মানুষ কখনো জীবন্ত মানুষকে বন্দি করে পুড়িয়ে মারতে পারে না, নজির নেই । আজ গণহত্যার অর্বাচীন নাম হয়েছে “আন্দোলন” ।

বাংলার দুঃখী মানুষ সেই ১৭৫৭ থেকে অপেক্ষায় আছে দু’ বেলা দু’ মুঠো ভাত খাবে, মোটা কাপর পড়ে হাসিমুখে বেঁচে থাকবে, প্রাণ খুলে কথা বলবে প্রাণের বাংলা ভাষায় । বারবার আমাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের খুব কাছে গিয়েও স্বপ্নই রয়ে গেছে । যখনই আমরা সেই স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে, তখনই সেই পুরনো শকুনদের আঁচড় ।
আমরা আর হারতে চাই না, তাকাতে চাই না পিছের দিকে । আমরা আজ প্রাণপণ করে পথে নেমেছি; মরে যাবো, তবু আমাদের অনুজদেরকে সোনার বাংলা দেখাব, ইনশাআল্লাহ্‌ ।

আন্দোলন- সংগ্রামের সুদীর্ঘ পরিক্রমা পাড়ি দেওয়া বাঙালী জাতি হার মানতে জানে না, হার মানবে না । আমরা এদেশের মানুষকে আলোর পথে নিয়ে চলব, আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে, ‘৭১ এর চেতনা । এ আমাদের প্রতিজ্ঞা ।

আসুন আমরা সবাই সচেতন হই- ঐক্যবদ্ধ হই; দুর্বার প্রতিবাদ গড়ে তুলি সকল নাশকতা- সহিংসতার বিরুদ্ধে । আমরা আর কোন হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হতে চাই না, চাই বীর হতে । শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মুখাপেক্ষী হয়ে না থেকে নিজেদের জানমাল নিজেদেরকেই বাঁচাতে হবে; মনে রাখতে হবে, আমার সামনে যতগুলো অন্যায় ঘটবে, আমি কোনটা থেকেই শতভাগ দায়মুক্ত নই, বরং বিবেকের কাছে ভীষণভাবে অপরাধী । অন্যের উপর কোন আক্রমন দেখে নিরব থাকা মানে একই বিপদ নিজের উপর ডেকে আনা । সামাজিক সচেতনতাই পারে সামাজিক ব্যাধিসমুহকে দূর করতে ।

জয় হোক শান্তিকামী মানুষের