ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

আজ বাজার থেকে সাত কেজি ওজন একটি বোয়াল মাছ কিনে আনলাম, গিন্নি রান্না-বান্না শেষ করলে খেতে বসে আমার মেয়ে শিরোপা আর আমার কথোপকথনঃ
> বাবা, তুমি কি বোয়াল মাছের আস্ত মাথা খেতে পারো?
< না মামনি, আমি ছোট থাকতে খেতে পারতাম, যখন তোমার দাদু মাছের মাথা খাওয়া ভুলে গিয়েছিলো, তখন।
> বাবা, আমি ছোট মানুষ, তবু মাছের আস্ত মাথা খেতে পারি, আর তুমি বড় মানুষ তবু খেতে পারো না?
< আমি আগে খেতে পারতাম মামনি, এখন তোমরা বড় হচ্ছ তো, তাই আমি মাছের মাথা খাওয়া ভুলে গেছি।
সৃষ্টিকর্তা চাইলে একদিন শিরোপাও বড় হবে, ওরও সন্তান হবে। আমার পাগলি মামনিটা জানেই না, ও নিজেও একদিন মাছের মাথা বা অন্য কোন প্রিয় খাবার খাওয়া ভুলে যাবে, গলা দিয়ে নামবে না।
“যে খাবারগুলো সন্তান পছন্দ করে, বাবা- মায়েরা সেগুলো নিজের জন্য অখাদ্য মনে করে।”
আমার অর্ধাঙ্গিনী বলে, তোমার তো সামর্থ্য আছে, অনেকগুলো মাছ একসাথে নিয়ে আসবা, তুমিও তো মাছের মাথা পছন্দ করো। আমি হেসে বলি, আঙ্গুর আনলে তো আর ২-৪ টা আনি না, এক কেজি আনলেও তো অনেকগুলো আঙ্গুর। কিন্তু খেতে তো মনে চায় না।
আমার ছোটবেলায় যখন বাবার সাথে খেতে বসতাম, বাবা মাছের মাথাটা সবসময় আমার থালায় দিতেন। আমি ভাবতাম, বাবা কত বোকা! মাছের মাথার স্বাদও বোঝে না। এখন নিজে বাবা হয়ে বুঝতে পারলাম, বাবা- মায়েরা কেন বোকা হয়ে যায়, কেন তাদের ক্ষুধা কমে যায়!
ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবা-মা। সন্তানরা বাবা-মা হওয়ার আগেই যেন নিজের বাবা-মায়ের গুরুত্ব এবং মর্যাদা বুঝতে পারে।