ক্যাটেগরিঃ প্রতিবন্ধী বিষয়ক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

১৫ জুলাই, ২০১১ শুক্রবার, বিকাল ৪:০০ টায় জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশী সিস্টেমস চেঞ্জ অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক (বি-স্ক্যান) এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মো. আনোয়ার হোসেন সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এছাড়াও সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী পরিচালক, ল্যবরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম ও প্রধান উপদেষ্টা বি-স্ক্যান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জনপ্রিয় উপস্থাপক এবং গতি মিডিয়া লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও ডা. আব্দুন নূর তুষার। আরো উপস্থিত ছিলেন বি-স্ক্যান আহ্বায়ক সাবরিনা সুলতানা ও বি-স্ক্যান সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব।

অনুষ্ঠানে বি-স্ক্যান এর দুবছরের কার্যক্রমকে তুলে ধরে প্রেজেন্টেশন করা হয়। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্য বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ নিষ্ঠুর নয়। সবাই বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়ার জন্য আন্তরিক। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই দেশ এখনো সকলের আশা পূরণ করতে পারে নাই। বিশ্বের অনেক অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি প্রতিবন্ধিতাকে জয় করে বিশ্বের দরবারে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত জ্বল জ্বল করছেন। আমাদের সর্বস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেন প্রতিবন্ধীরা সহজে শিক্ষা অর্জন করতে পারে তার জন্য সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে। প্রতিবন্ধীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষিত করে তোলা হলে দেশ গঠনে তাদের ভূমিকাও অনস্বীকার্য হয়ে দাঁড়াবে।

বিশেষ অতিথি ডা. আব্দুন নূর তুষার তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের সরকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজ অবধি প্রতিবন্ধীবান্ধব হয়ে উঠেনি। বাংলাদেশের বাজেটেও প্রতিবন্ধী মানুষেরা অবহেলিত। তাই আমাদের উচিত প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার, দেশ গঠনে এগিয়ে আসা। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বি-স্ক্যান এর প্রধান উপদেষ্টা তার ধন্যবাদ বক্তব্যে বলেন, বি-স্ক্যান প্রতিবন্ধী মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে যেভাবে এগিয়ে এসেছে এবং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে আশা করি তা অচিরেই সুফল পাবে। তিনি বি-স্ক্যান এর কার্যক্রমের সাথে সকলের সম্পৃক্ততা আশা করেন।

বি-স্ক্যান এর পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারা দেশব্যাপী বেশ কিছু স্কুলে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দুটি গ্রুপে বিভক্ত এই প্রতিযোগিতায় মোট ছয়জন বিজয়ীকে পুরুস্কার প্রদান করা হয়। এ পর্যায়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিজয়ীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ করেন। পুরস্কার প্রাপ্ত তিনটি স্কুলকেও সম্মাননা ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়। এছাড়াও সারা ইন্টান্যাশনাল স্কুল এ্যান্ড কলেজকে একীভূত শিক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত রাখার জন্য সম্মাননা সনদ দেয়া হয়।

নিবেদিত সংগঠক, এসোসিয়েশন ফর দ্যা ওয়েলফেয়ার অব দ্যা ডিজেবল্ড পিপল (এডব্লিউডিপি) এর কর্ণধার, প্রাক্তন সহ সভাপতি জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম ও বি-স্ক্যান উপদেষ্টা মরহুম মোঃ মাহবুবুল আশরাফ সাহেবের নামে বি-স্ক্যান থেকে এ বছর একটি এককালীন বৃত্তি চালু করা হয় যা প্রতিবছর একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে দেয়া হবে । এ পর্যায়ে এবার শারীরিক প্রতিবন্ধী সাভারের সাজ্জাদ হোসেনকে বৃত্তি দেয়া হয়। সে এবার এসএসসি পাশ করেছে। উচ্চতর শিক্ষা লাভের সহায়তা হিসেবে সাজ্জাদের হাতে বৃত্তি স্বরূপ ১০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী ।

শারীরিক প্রতিবন্ধী আফিয়া আক্তার লাকী, বি-স্ক্যান এর স্বনির্ভর প্রকল্পের আওতায় নিজের ব্যবসা শুরু করার লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা হিসেবে তার হাতে ১০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন ডা. আব্দুন নূর তুষার। এরপর বিশেষ অতিথিদের বি-স্ক্যান এর পক্ষ থেকে উপহার প্রদান করা হয়।

প্রতিবন্ধী ও অপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সাজানো ছিল নানা আয়োজনে । ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন এর পরিবেশনায় মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘আঁখি এবং আমরা কজন’ অবলম্বনে নাট্যাংশে একীভূত শিক্ষায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সমস্যাটি চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়।

চমক হাসানের মনোমুগ্ধকর পুঁথিপাঠ সবার মন কেড়ে নেয়। তিনি বি-স্ক্যান এর চারটি লক্ষ্য সহ প্রতিবন্ধী মানুষের সার্বিক পরিস্থিতি এবং তাদের প্রতি যে বিরূপ ধারণা পোষণ করা হয় তা চমৎকারভাবে তার পুঁথিতে তুলে আনেন।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শরিফুল ইসলাম ও আবুল হোসেন, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী গোলাম মঈনুদ্দিন রাব্বী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী জর্জিনা বেগম সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

সবশেষে চুয়েটের ডিবেটিং সোসাইটির পরিবেশনায় ছিল অন্যরকম আয়োজন মাইম বা মুকাভিনয়। এখানে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি যে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করা হয় এবং সে কারণে যে তারা নিজেদের গুটিয়ে রাখে চারদেয়ালের ভিতর তা সুন্দরভাবে তুলে আনা হয়।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন রুদ্র–অক্ষর।

***
মূল পোস্টের লিংক