ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

হিন্দি ‘ফিদা’ কথাটির অর্থ মনে হয় ‘দেওয়ানা’। আধুনিক চিত্রশিল্পে মকবুল ফিদা হুসেইন তেমনি একটি অনন্য নাম। তার আঁকা ছবি বিষয়ে নাকি বলা হয়, তিনি ছবি আঁকার আগেই কোটি কোটি রুপিতে ১০০ টিরও বেশি অর্ডার জমে যায়। শিল্প আর শিল্পীর মধ্যে অপূর্ব মেলবন্ধনের নাম মকবুল ফিদা হুসেইন।

শিল্পের সঙ্গে সাধারনের দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধ চিরকালের। সাধারণ যেখানে সাধারণ দেখে সেইখানে শিল্পী দেখেন শিল্প। মকবুল ফিদা হুসেইন জীবনে শিল্পের সন্ধান করেছেন। বিখ্যাত চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি, মাইকেল অ্যাঞ্জেলো বা ভ্যানগগের সঙ্গে তার তুলনা করা হয়। কারণ তিনি আধুনিক সময়ের দৃষ্টিতে ভেবেছেন শিল্পীসত্তাকে। তাইতো তাকে ‘ইন্ডিয়ার পিকাসো’ বলা হয়।

০৯ জুন ৯৫ বছর বয়সে দেহত্যাগ করলেন তিনি। জীবনের এই লম্বা সময়টা তার কেটেছে শিল্পের সঙ্গে শিল্পীসত্তাকে খুঁজে ফেরার প্রত্যয়ে। এবার মৃত্যুর মধ্যেই তিনি আরেকটি চিত্রের বিমূর্ততা খুঁজে পেলেন। বেশ কিছু দিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দু-একদিনের মধ্যে তার বাসায় ফেরার কথা ছিলো। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

তবে হিন্দু দেবীদের নগ্ন চিত্র আঁকায় ভারতে কট্টর হিন্দুদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। এর প্রতিবাদ জানাতে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে চিত্রকর্ম ভাংচুর করে তারা। তার বিরুদ্ধে আদালতেও মামলা হয়।

২০০৬ সালে দেশ ছাড়েন মকবুল ফিদা। ২০১০ সালে কাতারের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন তিনি। তখন থেকে দুবাই ও লন্ডনে ছিলেন এ চিত্রশিল্পী। এক যুগ আগে বলিউডে ‘গজগামিনী’ নামে একটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছিলেন ফিদা, যাতে অভিনয় করেন মাধুরী দীক্ষিত।

সৌন্দর্য পিপাসু বলেই তার নাম ছিলো বেশি। তিনি বার্ধক্যে এসে ভারতীয় অভিনেত্রী বিদ্যা বালানে মুগ্ধ হয়েছিলেন। তিনি এমন টাই মুগ্ধ হয়েছিলেন মাধুরীতেও। সেসময় তিনি মাধুরীর ছবিও আঁকেন। এছাড়াও আনুশকার প্রতিও তার একটা টান দেখা গিয়েছিলো।

তবে, বিদ্যাতে তার মুগ্ধতা প্রকাশ পাবার পর টাইমস অফ ইন্ডিয়া মজা করে লিখেছিলো ‘ এবার বিদ্যাতে ফিদা (দেওয়ানা) হুসেন’।

তিনি ৭ সেপ্টেম্বর ১৯১৫ সালে জন্মগ্রহন করেন। তার বিখ্যাত ছবি ‘মাদার ইন্ডিয়া’। তিনি ভারতীয় হিন্দু পুরাণকে তার আঁকার বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

***
ফিচার ছবি: ডিউক ইসলামিক স্টাডিজ সেন্টার