ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

হ্যান্ডশেক করা মানে হাত নাড়ানো। হাতে হাতে মিলন। মনের ভাবাবেগ হাতের ঝাঁকুনির অনুভূতির মাধ্যমে প্রকাশ। ছেলে ছেলে হ্যান্ডসেক হয়, হয় মেয়ে মেয়ে এমনকি মেয়ে-ছেলেও। হ্যান্ডসেক ভালো নাকি মন্দ … বিচার করবে কে?

সোমালিয়ার আল সাবাব ইসলামিক গ্রুপ ছেলে-মেয়ের মধ্যে হ্যান্ডসেক নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। হ্যান্ডসেক তো দূরের কথা একসঙ্গে ছেলে মেয়ে চলতেও পারবেনা। কথা বলা, আলাপ করা তো নিষিদ্ধও। তবে প্রেম করা কি হতে পারে?

এই আইন যারা মানবে না তাদের নাকি শরীয়াহ মোতাবেক কঠোর শাস্তিও দেয়া হবে।

তো শরীয়াহ মোতাবেক কোনটি সঠিক? আমাদের দেশ কি এই রকম চালু করবে? করতেও তো পারে! এতোদিন হয়তো এমনটি দেখাই যেতো। মাত্র ২ বছর আগেও এমন পরিস্থিতি শুরু হয়েছিলো। বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করার মতো অবস্থাও হয়েছিলো। কিন্তু বর্তমানে সে পরিস্থিতির কতোটা উন্নতি হয়েছে? হয়েছে সামান্যই। সম্প্রতি তো স্কুলে বোরকা পরার বাধ্যবাধ্যকতা নিয়ে ঝড় উঠেই গেলো।

আসলে সঠিক কোনটা। সহনীয় ধর্মবোধ নাকি উগ্র রক্ষণশীলতা। আমরা বেছে নিয়েছি কোনটা? আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় ইভ টিজিং ঢুকে গেছে। রক্ষণশীলদের মতে, সোমালিয়ার মতো পরিস্থিতি এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে। যেখানে হ্যান্ডসেক পাপ বলে ঘোষণা করা হবে, বা পর্দা বাধ্যতামূলক করা হবে। তো আমরা এমন পরিস্থিতি কি মেনে নিতে প্রস্তুত?

রক্ষণশীলতার মধ্যে না পড়লেও আমাদের দেশে ছেলে-মেয়ের মধ্যে হ্যান্ডসেক প্রবণতা কিন্তু বেশ কম। আমাদের ছেলে-মেয়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে একসঙ্গে ওঠাবসার আচরণ থেকে। আমরা এখন অনেকটাই প্রগতিশীল হয়ে উঠছি কিনা! ইভ টিজিংয়ের ধোঁয়া তুলে নয় আমরা মুক্তমনা হিসেবে, প্রগতিশীল হিসেবে, রক্ষণশীলতা রুখে দিয়ে এগোতে চাই।