ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

তিউনিশিয়ায় গন আন্দোলন, আন্দোলনের মুখে মিশর। শাসনক্ষমতার পরিবর্তন চায় প্রতিবাদী সাধারণ মানুষ। বাঁচতে চাওয়ার অধিকার সবারই আছে। এই আন্দোলনের মুখে ক্ষমতায় থাকা কর্তাব্যক্তিরা কি করছেন? ইন্টারনেটসহ পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিচ্ছেন।

একটা বিষয় লক্ষ্যনীয়, প্রতিবাদী জনগন কিন্তু এখন রাজপথে নামার আগে প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ করেই নামছে। সরকারও তেমনি আসল যায়গাতেই আঘাত হেনেছে। ফল আবারও রাজপথে। আসলে রাজপথ ছাড়া কোনো পরিবর্তন হয় নাকি?

বিপ্লবের একটা মাধ্যম হয়ে উঠেছে সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো।

আমাদের দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণই আলাদা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২ বছরের শাসন পেরিয়ে আবারও গণতন্ত্রে ফেরা। কিন্তু এ কেমন ফেরা? একদল সিংহভাগ আসন নিয়ে নিজের দেশ, নিজের বাড়ি বানিয়ে ফেলে নিজের শাসন তন্ত্র কায়েম করেছে । আরেক দল লেজ গুটিয়ে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে জানান দেয়…. মরি নাই, মরি নাই…রক্তের প্রয়োজন।

তবে, উপনির্বাচন ঘিরে আবারও কিন্তু সরগরম রাজনীতি। কিন্তু এই রাজনীতি মঞ্চের ভবিষ্যত কার হাতে? কে দায়িত্বে আসছে আগামী সময়ে?

শেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়া কতোদিন বাঁচবেন আর? আগামী ২০ বছর পর কাদের হাতে যাচ্ছে দেশের গনতন্ত্র? কে উঠে আসছেন আলোর প্রদীপ হাতে?

এর একটাই উত্তর হতে পারতো…. তারেক জিয়া। মেজর জিয়াউর রহমান- খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে, দক্ষ জনসংগঠক হিসেবে দেশের প্রয়োজন ছিলো তাকে। কিন্তু যে ভরাডুবি সে ঘটিয়েছে বাঙালি কোনোদিনও কি তাকে রাজনীতির মঞ্চে মেনে নেবে? মেনে নিলেও কি কলঙ্ক ঘুচবে তার? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিএনপি দলের বর্তমান কর্মীদের কি চিন্তাভাবনা? কে হচ্ছে বিএনপির কান্ডারি? বিএনপির অন্যযেসব মুখ আছে, খালেদা জিয়ার পরে কে যে কোথায় ভেসে যাবে.. তারা সেটা ভালো করেই জানে।

আগামী দিনের রাজনীতির দ্বিতীয় অপশন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তার সম্ভবনা ছিলো তারেক জিয়ার সঙ্গে সমানে সমান। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাছের মানুষ চায়। সবকিছুর মধ্যে, বাঙালির প্রতিটি ঘটনে-অঘটনে যে দেশে থাকবে তাকেই নেতা হিসেবে মেনে নেবে দেশের মানুষ। যেমনটি বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমানদের ক্ষেত্রে ঘটেছিলো । তাই প্রায় বিদেশি জয়কে আগামীর নেতা হিসেবে কেমন করে মানবে জনগন সেটি আওয়ামীলীগের সমর্থকদের মনে সন্দেহ থেকেই যেতে পারে। তারপর দেশে এসে বাঙালি রাজনীতির হাল-হকিকতে তিনি আদৌ টিকতে পারবেন কিনা সেটিও প্রশ্ন সাপেক্ষ।

শেখ রেহানা আওয়ামী লীগের হাল ধরতে পারবেন কি? তিনি সবকিছুতেই তো বর্তমান প্রধাণমন্ত্রীর ওপর নির্ভরশীল। বঙ্গবন্ধুর কণ্যা হিসেবে শেখ হাসিনা রাজনীতির চাল-চলন যতোখানি মানিয়ে নিয়েছেন শেখ রেহানা তার কাছে বিন্দু-বিসর্গ।

আর জাতীয় পার্টির কি অবস্থা? আগেই ছন্নছাড়া জাতীয় পার্টি তো একটা মুখের ওপরেই নির্ভরশীল। আর বর্তমানে তার অবস্থা সবারইতো জানা। সেখানে ভরসা করার মতো আছে নাকি কেউ?

এটুকু বলা চলে আগামী দশকেই নেতৃত্বশূণ্য হতে চলেছে দেশ। তবে, নতুন আলোর মশাল জ্বেলে কোনো নেতা-নেত্রীর এখনও উঠে আসার সম্ভাবনা জাগেনি। তাই সংশয় তৈরি হয়েছে.. আগামী দশকে কি অরাজকতা আর জঙ্গিবাদে .. অবব্যস্থাপনায় ভরে যাবে দেশ? জোর যার মুল্লুক তার অবস্থা হবে যোগ্য নেতা – নেত্রীর অভাবে? যদিও বাঙালি সবসময় সব সমস্যার সমাধান তাদের নিজস্ব পথেই করেছে তাই আশার প্রদীপ জ্বলছেই । কেউ হয়তো উঠে আসবে… আমরা এখন থেকেই নেতা-নেত্রী খুঁজছি।