ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 


স্টিভ জবস যে গাড়িটি ব্যবহার করতেন সে গাড়িটিতে কোনো নাম্বারপ্লেট ছিলোনা। কিন্তু তিনি নাম্বারপ্লেট ছাড়া কিভাবে গাড়ি চালাতেন সে বিষয়টিই একটি রহস্য! আশ্চর্য কি তিনি নাম্বারপ্লেট ছাড়া গাড়ি চালালেও কখনোও ঝামেলায় পড়েননি।

আর দশটা সাধারন আমেরিকানের মতোই জবসের ব্যবহৃত গাড়িটি ছিলো সিলভার ২০০৭ মার্সিডিজ-বেঞ্জ এসএল৫৫ এএমজি। কিন্তু এ গাড়িটিতে তিনি কোনো লাইসেন্সপ্লেট কেনো লাগাননি? এ রহস্য নিয়ে সিলিকন ভ্যালিতে নানা কথা, গুজব চালু ছিলো। এর মধ্যে একটি হলো, স্টিভের গাড়িতে আধুনিক প্রযুক্তির কোড ফিল্ড বা কাস্টম-বিল্ট মেকানাইজড প্লেট রিঅ্যাক্টর লাগানো ছিলো। তার মতো প্রযুক্তিবিদের কাছে এটা অবশ্য মামুলি ব্যাপার ছিলো।যেখানে স্টিভের বন্ধু ওজনিয়াক গাড়ির কি সমস্যা না ধরেই বলে দিতে পারেন, সেখানে জবসের কাছে গাড়ির চিপ তৈরি করা কোনো ব্যাপারই না।

আবার অনেকেই মনে করেন, ক্যালিফোর্নিয়ার গাড়িতে নাম্বার প্লেট লিখতে যে ফন্ট ব্যবহার করা হয়, স্টিভ সেটি মোটেও পছন্দ করেননি তাই প্লেটই লাগাতে চাননি! চাইবেন কি করে । তিনি যে ক্যালিগ্রাফি বিশেষজ্ঞ ছিলেন। যেনো তেনো ফন্ট কি আর তিনি গাড়িতে লাগিয়ে গাড়িটির সম্মানহানি করবেন!

স্টিভের নাম্বারশুন্য গাড়িটি চালাতে কোনো অসুবিধা হতো কিনা সেটিও এক রহস্য। তিনি নাম্বার ছাড়া ট্রাফিকে কোনো সমস্যায় পড়েছিলেন কিনা সেটি ঘেঁটে দেখা গেছে, চলতে তার কোনো অসুবিধা হয়নি বা তিনি কখনও বিপদে পড়েননি বা পুলিশ তাকে আটকে রাখেনি। এর কারন হতে পারে জবসের গাড়িটি নতুন মডেলের। এটি ২০০৬ সালে বাজারে এসেছে। জবসের গাড়িটি ঘেঁটে দেখা গেছে, এটি ২০১১ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত ২১ হাজার ৮০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছে।

৫ বছরে মাত্র এইটুকু দুরুত্বই পাড়ি দিয়েছেন জবস!

হিসেব করে দেখা গেছে, প্রতি বছরে মাত্র সাড়ে ৫ হাজার মাইল গাড়ি চালিয়েছিলেন তিনি যেখানে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর গড় ১২ হাজার মাইল। এ হিসেবে জবস গাড়ি চড়তেন খুব কমই।

অনেকেই মনে করতেন প্রাইভেসি বজায় রাখতেই তিনি নাম্বার প্লেট ব্যবহার করতেন না। কিন্তু এটি তো তাকে খুঁজে বের করতে আরো সহজ হবার কথা! কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে জবস যে মডেলের গাড়ি ব্যবহার করতেন সেটি অনেকেই ব্যবহার করেন সেটিও তার নাম্বারহীন গাড়ির একটি কারন হতে পারে।

আসল কথা, নাম্বার প্লেটবিহীন গাড়ির রহস্যজট লুকিয়ে রয়েছিলো তার চরিত্রের মধ্যেই। নাম্বারপ্লেটহীন গাড়িটি চললেই বোঝা যেতো গাড়িটিতে কে রয়েছেন।

গাড়ির নাম্বারপ্লেট ব্যবহার না করার কারনটিই জবসের আর দশটা আইকনের মতো বিষয়ই ছিলো। ব্লুজিনস, ব্ল্যাক টার্টলনেক এবং স্নিকারের সঙ্গে নাম্বারহীন গাড়িই ছিলো ‘ইঞ্জিনিয়ার মস্তিষ্ক শিল্পী মন’ স্টিভের প্রতিচ্ছবি।