ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

পৈতে ছাড়াও বামুন হয়। চেনা বামুনের পৈতে লাগেনা। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মু. এরশাদ চেনা একজন বামুন একথা তো নিঃসন্দেহ। কিন্তু রাজনীতির এ পাঠে এসে হঠাৎ তাকে নিয়ে আবার রাজনীতি শুরু হয়েছে, খেয়াল করেছেন নিশ্চয়ই! মহাজোটের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হতে এখনো ঢের বাকী। তিনি হঠাৎ করেই জানিয়ে দিলেন, ‘আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি একাই নির্বাচন করবে।’ তো তিন বছরের মধ্যে হঠাৎ কেনো তিনি মত পাল্টালেন? মহাজোটের ক্ষমতার মধ্যে তার আশা-প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটছে না নিশ্চয়ই। তবে, একা নির্বাচন করবেন ভালো কথা। নিজের দলের পায়ের নীচে ভীতটি কতোটা শক্ত আছে সেটি কি তিনি খোঁজ রাখেন?

রোডমার্চে বেরিয়ে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এরশাদকে নিয়ে নির্বাচন করার যে স্বপ্ন দেখছেন, সে গুঁড়েও বালি পড়বে।’ এর অর্থ তিনি টের পেয়েছেন, আমাদের চেনা বামুনটি এবার নড়েচড়ে বসবেন। আর তাতে কিছুটা লাভবান নিশ্চয়ই বিএনপি হবে। কারণ ‘শত্রু’র’ ঘর ভাঙলে আখেরে কিছুটা লাভ আসেই। কিন্তু তাতে চাপও কি বাড়েনা? আওয়ামীলীগ কি বসে আছে? এরশাদকে কাজে লাগাতে তারা যে ছক কেটে বসে নেই, দাবার গুটি সাজিয়ে নেই তার খোঁজ কার কাছে আছে?

এরশাদের একটা প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতে অবশ্যই আছে। এখনো কিছু মানুষ ‘মহিলা-শাসন’ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এরশাদকে স্বপ্নদেখে। কিন্তু তিনি কখনও একক’ সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। এবার কি পারবেন?

শেষতক আবার না কেঁচে-গন্ডুষ বানিয়ে ফেলেন। যে দলে সুবিধা বেশি শেষতক সেই দলে যেয়ে ভেড়েন!

আওয়ামী সরকার চাইছে ত্ত্ত্বাবধায়ক সরকার তুলে দিয়ে একটা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে, আর বিরোধী বিএনপি তাতে মোটেও রাজী নয়। এমনকি ইভিএম পদ্ধতিতেও তারা আপত্তি তুলেছে। বিএনপি বলছে, তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচনে যাবোনা। কিন্তু আওয়ামীলীগ চাইছে বিএনপি না এলে তাতে কি? এরশাদ বিরোধী দল হিসেবে আছে না?
কিছুদিন আগেই ‘রাজনীতির খেলা’ বলে নেতারা বড়ো বড়ো বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। কেউ বলছেন, ফাইনাল খেলা দেরী আছে, কেউ বলছেন খেলা সবে শুরু। কিন্তু খেলার মাঠ কই, কই? আওয়ামী-বিএনপি ঠিকই খেলবে ‘বলের লাথি কি এরশাদের ঘাড়েই?’ নাকি জাতীয় পার্টিও, হু.মু এরশাদ এবার কোনো খেল দেখাবেন?

জনগন এবার ‘চেনা বামুন’টার গোল দেয়াটা কেমন হয় সেটাই দেখার আশায় রয়েছে বোধ হয়।