ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

র-তে রাজনীতি, ম-তে মন্ত্রী আর দ-তে দৌড়। আমাদের দেশে রাজনীতিতে এখন মন্ত্রীত্ব পেতে ভালো দৌড়ও জানতে হয়, সেকথাই জানা গেলো… অন্তত সরকারি দলের সাংসদ গোলাম মাওলা‘র দাবী যদি সত্যি হয়!

আমাদের যোগাযোগ মন্ত্রী তো চ্যাম্পিয়ন দৌড়বিদ বলেই এখন সবার জানা হয়ে গেছে। তো আগামীতে মন্ত্রী হতে গেলে কি কেবল দৌড়েই হবে নাকি অন্য কোনো বিশেষ’ কিছু করার ক্ষমতা থাকতে হবে?যেমন যিনি নেমৈন্ত্রী হবেন তাকে অবশ্যই সাঁতার চ্যাম্পিয়ন, বিমান মন্ত্রীকে হাই-জাম্প চ্যাম্পিয়ন আর পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে হাডুডু চ্যাম্পিয়ন হতে হবে?

আমাদের দেশে বর্তমানে আলোচিত কয়েকজন মন্ত্রীকে নিয়ে নিত্যনৈমিত্তিক খবর বেরুচ্ছে। কখনও বিরোধী দল বা কখনও নিজের দলের লোকজনই তা বের করছেন। অবশ্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে, কারো কোনো সহযোগীতাই লাগছে না। নিজেই জানিয়ে দিচ্ছেন নিজের কথা- যেমন অর্থমন্ত্রী বললেন- ‘কেমনে হবে জানিনা’ ‘আমি কিছু বললেই নামে ধ্বস’ এরকম নানান কথা।

বর্তমান সরকার কি যোগ্যতা বলে নিয়োগ দিয়েছেন অন্যান্য মন্ত্রীদের? একটা না হয় দৌড়ের প্রথম পুরস্কার… বাকিগুলো কিসের ভিত্তিতে? কোনো সহৃদয় এমপি বা জানাশোনা কেউ কি প্রকাশ করতে এগিয়ে আসবেন? অবশ্য, একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, যিনি দায়িত্ব দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করছেন..তার কোনো আক্ষেপ রয়েছে কিনা সেটিও তো যাচাই করা প্রয়োজন।

সরকারদলের এমপির মতে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একটা সরলতা কাজ করে। অনেক সময় তিনি অনেকের সঙ্গে গান শুরু করেন, আলাপ-আলোচনা করেন, একটা পারিবারিক আবহ সৃষ্টি করেন।’

এটা তিনি কাদের জন্য করেন? তার কাছের মানুষগুলোর জন্য নিশ্চয়..একনিষ্ঠ ভক্তদের জন্য নিশ্চয়ই..যে বা যারা তার সরল কথা শুনে কোনো বাছ-বিছার না করেই দৌড় লাগাতে পারে তার জন্য তিনি গিফট দেন..মন্ত্রী বানান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কি তার সরল মনে দেশের সাধারণ মানুষকে একটা গিফট দিতে পারেন না? তারা কি দৌড়ে বা অন্য কোনো খেলায় মন্ত্রীদের চেয়ে কম যান? শেখ হাসিনার জন্য অনেক সাধারণ মানুষ মন্ত্রীর দৌড়ের চেয়ে অনেক বেশি দৌড়েছেন। নির্বাচন বা কোনো আন্দোলনে নেতাদের চেয়ে তাদের অংশগ্রহন অনেক বেশি .. কিন্তু তাদের জন্য একটু ভালো উপহার প্রধানমন্ত্রীর দেবার ক্ষমতা নেই। পাছে..কাছের মানুষের ভাগে কম পড়ে! অবশ্য, তিনি সহজ-সরল কিনা! ভুলেই গেছেন…দেশের মন্ত্রী ছাড়া মানুষ আছে!

আগামীতে আওয়ামী লীগ যদি আবার ক্ষমতায় আসে তবে মন্ত্রীত্ব পেতে তো প্রতিযোগীতার ধুম পড়ে যাবে। রাজনীতির পাশাপাশি নেতা-নেত্রীরা.. হাই-জাম্প, লংজাম্প, হাডুডু, গোল্লাছুট, বর্ষানিক্ষেপ, সাঁতার এমনকি লুডু খেলাও শুরু করবেন..বলা তো যায়না কখন কোনটির ফল কোন মন্ত্রী বানিয়ে দেয়। অবশ্য, দৌড়ের কথা নাই বা বললাম…১০০ মিটার স্প্রিন্টে উসাইন বোল্ট হবার চক্করে অনেককেই হয়তো দেখা যাবে…!

রোড মার্চে বেরিয়েছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। উনি সবখানেই ঢাকা ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়ে আসছেন। হয়তো দেখা যাবে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সাধারণ মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়ে আন্দোলন করতে ঢাকায় আসছে… কারণ ইদানীং ঢাকায় তো বিএনপি নেতা-নেত্রীরা কোনঠাসা! এতো কষ্ট করে বিএনপিকে যদি ক্ষমতায় বসাতে পারে.. তখন ‘নতুন নেতৃত্বর’ চাপে কি সাধারন এসব খেলোয়াড়দের বিএনপি মনে রাখবে? বিএনপি কোন প্রক্রিয়ায় মন্ত্রী নির্বাচন করবে? ‘আল্লার মাল আল্লা নিছে’ বইলা ঔষধ বিক্রি করা খেলোয়াড়দের?

রাজনীতিতে মন্ত্রীত্ব বাগানোর ধান্দায় ‘গোপন খেলাধুলা চর্চা’ আমাদের দেশের সাধারণ মানুষকে যে কতোটা কষ্ট দিচ্ছে..আমাদের সরল নেত্রীরা যদি একবার সরল চোখে চেয়ে দেখে একটা গিফটও দিতেন!!!