ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

ইছামতির জলে দূর্গাপ্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে কাঁটাতারের সীমানা আর রাজনৈতিক বিভেদ বিস্মৃত হয়ে আবার দু’দেশের মানুষের মুখে একটা সুর বেজে উঠেছিল ‘আসছে বছর আবার দেখা হবে’। টাকির দুর্গা বিসর্জন, যা বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার মানুষকে একটি বন্ধনে আবদ্ধ করেছিল তা পৃথিবীর অনেক ফটোগ্রাফারকেও একত্রিত করেছিল ইছামতির তীরে। দূর্গাবিসর্জনের দিন দু’দেশের শত শত নৌকা, ট্রলার, লঞ্চ ইছামতির তীরে ভাসছিল একে অপরের সাথে মিলিত হবার জন্য।
সহস্র যুবা, শিশু, বৃদ্ধের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছিল সেদিনটা। দুটো দেশের মানুষের জন্য সেদিন একটা সুযোগও তৈরি হয়েছিল অপর দেশে ভিসাবিহীন অবাধ ভ্রমনের। সাতক্ষীরআর হাজার মানুষ সেদিন টাকিতে গিয়েছিল তাদের বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয় সজনের সাথে দেখা করতে ঠিক যেমনটি ওপারের হাজার মানুষ এসেছিল এপারে।

অল্প সময় দেখতে না দেখতেই পেরিয়ে যায়। শেষ বেলায় দুদিকের তীর থেকেই মানুষ তাদের স্বজনের দেয়া উপহার আর ভালবাসায় সিক্ত হয়ে নিজ প্রান্তে ফিরছিল। আব্দুল কাদের(১৫) তার বাংলাদেশী বন্ধু খলিলের জন্য টাকি বাজার থেকে আড়াই কেজি কাশ্মীরি আপেল কিনছিল, তাদের দুজনের শেষ দেখা হয়েছিল গতবছরের এই বিসর্জনের দিনটাতেই যেদিন খলিল কাদেরকে একটি বাংলা লিংক সিম দিয়েছিল বন্ধুত্বের উপহার সরূপ, কাদের ফোনটি হারিয়ে ফেললেও তাদের বন্ধুত্ব রয়েছে অটুট। বসিরহাটের কাদের বাংলাদেশের এপারে খলিলকে খুঁজছিল সকাল থেকেই, পেয়েও যায় পারুলিয়াতে, আবার তারা দুজন টাকিতে যায় ঘুরতে। খলিল টাকি বাজারে হেমন্ত মুখোপ্যাধ্যায়ের গানের এলবাম খুঁজছিল তার প্রিয়তমার জন্য, কিন্তু সে কয়েকটা রিমেক গানের সিডি পায়, যা সে নেয় না, কিন্তু নিয়ে আসে অসংখ্য স্মৃতি আর আগামীতে বন্ধুকে দেখবার আশা ।

নদীকেন্দ্রিক এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান ধর্মকে ছাপিয়ে সহস্র মানুষের, তাদের কাছের মানুষকে ফিরে পাবার বছরব্যাপী লালিত আশার এক অপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয় ।


টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে