ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কোটা বৈষম্যের ঠাঁই নাই’- এ স্লোগানে কোটা সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে ঢাকা-আরিচার মহাসড়ক সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি ফার্ম গেটে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে জলকামনাসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷ থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে ক্যাম্পাসে৷

শিক্ষার্থীরা জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ঢাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গতকাল (৮ এপ্রিল) পুলিশি হামলার কথা তুলে ধরে তারা বলেন, আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না৷

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি হলো:

(১) কোটা সংস্কার করে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা (বর্তমানে ৫৬ % কোটা বিদ্যমান আছে)
(২) কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্য পদগুলোতে মেধায় নিয়োগ দেওয়া
‎(৩) নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধার একাধিকবার ব্যবহার বাতিল করতে হবে৷ৎ
(৪) কোটায় বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করা এবং
(৫)চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা নির্ধারণ।

 

এর আগে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ‎মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা সুবিধা চালু করা হয়েছে। দেশ যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন কোটা চালু রেখে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করা অযৌক্তিক।

বক্তারা আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কখনও চান না তাদের কোটা সুবিধা গ্রহণের কারণে দেশটা অযোগ্য ও দুর্বল নেতৃত্বের হাতে পরিচালিত হোক। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সমর্থন করে চাকরির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সমতার দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে৷

মানববন্ধনের আহ্বায়ক সুলতান আজিজুল বলেন, “দেশের মাত্র দুই শতাংশ মানুষের জন্য ৫৬ শতাংশ কোটা বিদ্যমান রয়েছে। এ কারণে প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থী চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করে ১০ শতাংশে নিয়ে আসতে হবে। মেধাবীরা যাতে দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক জায়গায় যেতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে কোটাব্যবস্থা সংস্কার করতে হবে।”

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সালেক মুহিত বলেন, “অসম ও অযৌক্তিক কোটাব্যবস্থার ফলে বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রে এক কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধারা কখনও চান না কোটা সুবিধা নেওয়ায় দেশ অযোগ্য ও দুর্বল নেতৃত্বের হাতে পরিচালিত হোক।”

মানববন্ধনে চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বক্তব্য রাখেন।