ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আজ দেশ এক কঠিন সময় পার করছে। নির্বাচনের এখনো দেড় বছর বাকি।দেড় বছর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহালের দাবিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ১০ জুনের আলটিমেটামকে ভেস্তে দিতে চায় ক্ষমতাসীন দল। বিরোধী দলকে কোণঠাসা করে রাখতে সরকার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।এরই অংশ হিসেবে একসঙ্গে শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করে তাঁদের কারাগারে পাঠিয়েছেন। হরতালসহ রাজপথে যেকোনো কর্মসূচিতে মাঠে নামতে না দেওয়ার পরিকল্পনায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে নতুন করে আবার রাজনৈতিক অঙ্গন অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।রাজনৈতিক সংঘাত শহর ছাড়িয়ে এখন আমাদের শান্তিপ্রিয় গ্রামের পাড়া-মহল্লায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। আর তাতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এখন দেশের মানুষ মূলত জিম্মিদশায় উপনীত হয়েছে। তাঁদের রাজনীতির কাছে সাধারণ মানুষ অসহায়।এমন রাজনীতি কারো কাম্য নয়। রাজনীতিবিদের উদরপূর্তি স্বার্থপর রাজনীতি এবং দলীয় মনোভাবের মতো নিকৃষ্ট কার্যকলাপ পরিহার করা উচিত। সেই সঙ্গে রাজনীতিবিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যকীয়।হরতাল, নৈরাজ্য ও দমন-পীড়নের রাজনীতি থেকে উওরণের পথ হচ্ছে উভয় দলের মধ্যে জরুরি সংলাপ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ, সচেতন জনগণ এবং সৎ-চরিত্রবান, মঙ্গলময় মানসিকতা।। তাহলেই দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসতে পারে বলে আমি মনে করি।বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলে উঠতে হলে সরকারকে আরো সহিষ্ণু হতে হবে। বিরোধী দলকে জনগণের কষ্টের কথা ভাবতে হবে। দুই পক্ষের যদি জনগণের কথা চিন্তা করার মানসিকতা থাকত, তাহলে এমন হতো না।সরকারি দলের উচিত হবে হিংসাত্মক রাজনীতি বাদ দিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করা। বিরোধী দলের দাবিগুলো মেনে নিয়ে তাদের সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। আসুন, আমরা ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়- এই স্লোগান মেনে চলি। এতে মানুষের মঙ্গল নিহিত।