ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

আমাদের হাসু আপা, একটি বিড়াল পোষেন। মাছের কাঁটা, ঝুটা খাবার আর কাল ভদ্রে দুধ খেতে দেন। লেজ উঁচিয়ে বিড়ালটি, আপার পায়ের কাছে ঘুর ঘুর করে। পোষ মানা প্রানীদের, তিনি খুব পছন্দ করেন। সবুজ আর হলুদ ছাপার বিড়ালটিকে তিনি এশু বলে ডাকেন।

আপা ‘দেশ এ্যাপার্টমেন্টের’ একটি ফ্ল্যাট নিয়ে থাকেন। একই বিল্ডিং’এর অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকেন, এক ম্যাডাম। আপার প্রতিপক্ষ। ফ্ল্যাট মালিকদের সংগঠনের গত নির্বাচনে, আপার সাথে ম্যাডাম হেরেছেন।
সুযোগ পেলেই আপা ও ম্যাডাম, একে অন্যের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন ! নীচের রাস্তায় পানি জমে, পানি এপার্টম্যান্ট’এ ঢুকে। রাস্তার কতৃপক্ষ গেইটের সামনে, একটি বাঁধ দিয়েছেন। তা নিয়ে ম্যাডাম, আপার সাথে তর্ক বিতর্ক জুড়ে দিয়েছেন।

পাশে ম্যাডামের ফ্ল্যাটে এশু’র আগে থেকেই যাওয়া আসা আছে। এদিক ওদিক তাকিয়ে টুপ করে ম্যাডামের বাসার জানালা দিয়ে লাফিয়ে,এশু বাসায় ঢুকে পড়ে। ম্যাডামের পাশে যেয়ে ঘুর ঘুর করে। এশুকে নিয়ে অতীতের স্মৃতি মনে হলে, ম্যাডাম পা দিয়ে বিড়ালটিকে দূরে সরিয়ে দেয়। এশু মুখ গোমরা করে, আবার আপার কাছে ফিরে আসে !

এশুর জন্য আপা তিন ধরনের কার্ড করেছেন। লাল, হলুদ ও সবুজ। লাল কার্ড দেখান খুব বেশি রাগ হলে। ম্যাডামের বাসায় যাবার খবর নিশ্চিত হয়ে- আপা ভীষণ রাগ করেছেন। এশুকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন। এশু মাথা দুলিয়ে বুঝিয়েছে, সে যাবে না।

এশু’র ওপর আপার আস্থা নেই। আপা এশু’র চরিত্র সম্পর্কে ভাল করে জানেন। ভাল খাবার, ভাল আচরন ও সুযোগ সুবিধা পেলে, এশু ম্যাডামের সাথে চলে যাবেন। আস্থাহীনতায় ভুগলে, আপা হলুদ কার্ড দেখান। কার্ডটি

দেখানোর আগে, আপা ষ্টোর রুম থেকে লোক দিয়ে, একটি খাঁচা নিয়ে আসেন। খাচাঁটি এশু’র সামনে রেখে, হলুদ কার্ডটি দেখান। এশু বুঝতে পারে, আপার মতের বিরুদ্ধে গেলে আবারও বন্দি হয়ে খাচাঁয় যেতে হবে।

সবুজ কার্ডটি আপা, একেবারেই দেখান না,

বললে চলে। যেদিন আপার ম্যুড ভাল, সেদিন তিনি দেখান। সবুজ কার্ড পেয়ে এশু খুব খুশি। আজ এশু যা খুশি- তা করতে পারে। আপা কিচ্ছু বলবেন না। এমনকি গেইটে পানি আটকানো বাঁধ’এর উপর খুশিতে লাফালাফি করলেও না ! যদি তাতে মনেও হয়, ম্যাডামের মত এশু আপার বিরোধিতা করছে ! তাও না। আপা জানে,পোষা প্রানীদের ছুট দিতে হয়।

কি জানি- আগামীতে যদি ম্যাডাম, তাঁর সাথে নির্বাচন না করে ? তবে কে করবে ? কেউ যদি না করে- তাহলে এ জাতীয় পোষা প্রাণীদের নিয়ে+ই তো……. করতে হবে !