ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বর্তমান সরকারের আমলে খুন, হত্যা, ক্রসফায়ার, অবশেষে গুম উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ব্যাপারটা যেন এমন; সুস্থ-সবল লোক আপনি ঘর থেকে বেরুচ্ছেন, খুন-হত্যার শিকার হবেন না, এটি ভাবতে পারবেন না! রাতে বাসায় ফিরে আসতে পারলে সেটি ‘তাদের’ ব্যর্থতা! না পরিস্থিতি এতটা গড়ায় নি। এমনটি গড়াক তাও কেউ চাই না। আবার বিএসএফের হাতে সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা যেন রীতিতে পরিণত হয়েছে। ছোট বেলায় পঠিত সেই ‘বাঘ ও বক’ গল্পের মত। সেই লোভী বাঘ এবং তার সম্ভাব্য ‘শিকার’ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘সকালে একটা হরিণ খায়, রাত্রে একটা খরগোশ খায়। অসহায় জীব-জন্তু ভয়ে ভয়ে থাকে; কখন যে কাকে ধরে নিয়ে যায়, লোভী বাঘ’। ব্যাপারটা কি তেমনই হয়ে দাঁড়িয়েছে? বাংলাদেশীদের জীবন কি গল্পের সেই হরিণ-খরগোশের মত? সস্তা! অথচ বাংলাদেশ তার যথযথ প্রতিবাদও জানাতে ব্যর্থ হচ্ছে। অথচ হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এমনকি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তো ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বিচার পর্যন্ত দাবি করেছে। কারণ তারা আইনের উর্দ্ধে নয়। কিন্তু যার গেল-সেই বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া-প্রতিবাদটা কি তেমন হচ্ছে। যেমন হওয়ার কথা ছিল?

আর দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা আর কি বলা যাবে। বিরোধী দলের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচীর দিনে সরকারি দলও কর্মসূচী দেয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার অজুহাতে কর্তৃপক্ষ সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। ১৪৪ ধারা জারি করে। সেদিনের কর্মসূচীতে পুলিশের গুলিতে চারজন পরদিন আরও একজন বিরোধী দলীয় কর্মী নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা অনেক। কিন্তু কেন। বিরোধী দল কি তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করবে না? একই দিন সরকারি দলের কর্মসূচী ঘোষণার কি দরকার ছিল। একদিন আগে বা পরে কি দেয়া যেত না? তাতে এমন কি ক্ষতি হত। এভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচীতে গিয়ে একজন মানুষের লাশ হওয়া আর কত। এর কি শেষ নেই? এভাবে দেশের ভেতরে হত্যা, খুন, গুম ক্রসফায়ারসহ আইন বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এমনিতেই বেড়ে গেছে। তার উপরে আবার সীমান্তে বেসামরিক নাগরিক হত্যা-নির্যাতন। তাহলে মানুষ যাবে কোথায়। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কোথায়। আমরা সীমান্তে ফেলানীর লাশ দেখেছি। হাবিরের উলঙ্গ নির্যাতন দেখেছি। অতি সম্প্রতি পুলিশের গুলিতে বিএনপি কর্মীর নিহতের ছবি দেখেছি। বিএসএফ হয়তো মনে করছে, তোমরা মেরে কুলাতে পারছো না? আমরা তোমাদের হেল্প করছি। একটা মানুষ মারা তো? এই দেখ। এটা কোন ব্যাপারই না!

আবার বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে হয়ত লাশ পড়বে আওয়ামী লীগ কর্মীদের। এখন যেমন পড়ছে বিএনপি-জামায়াতের। কিন্তু এভাবেই কি চলতে থাকবে। প্রতিশোধমূলক এই অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির কি পরিবর্তন হবে না কোন? দেশপ্রেম কি জাগ্রত হবে না আমাদের?