ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আবেদ খান। বিশিষ্ট সাংবাদিক। প্রগতিশীল হিসেবেই তাকে জানতাম এতদিন। জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক তোয়াব খানের ছোট ভাই। নিজেকে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ বলে প্রচার করে থাকেন। ২৬ তম সাক্ষী হিসেবে আজ ট্রাইব্যুনালে গিয়েছিলেন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিতে। জবানবন্দি শেষে জেরায় জানা গেল তার সম্পর্কে। এতদিন যা অজানা ছিল। পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক আমীর মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহিমের আপন ভাতিজি জামাই তিনি! এটাকে কি থলের বিড়াল বলা যাবে? তবে রীতিমত শিউরে ওঠার মত খবর! তিনি জবানবন্দিতে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত কর্মকান্ড নিজের ওয়াজ-মাহফিলের মাধ্যমে সাঈদী বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে সাঈদীর বিরুদ্ধে বলা আবেদ খানের কথাগুলো অনেকটা হারিয়ে যায়, তলিয়ে যায় তার সম্পর্কে পাওয়া এই তথ্য থেকে। ট্রাইব্যুনালে প্রবেশের সময় বেশ খোশ মেজাজ দেখা গেলেও বের হওয়ার সময় তার সেই হাসিমাখা মুখটি ছিল অনেকটাই মলিন। ট্রাইব্যুনালে অনেক দিন থেকেই সাক্ষীর ‘অভাব’ ছিল রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের! কিন্তু তাই বলে এমন সাক্ষী কি চেয়েছিল জাতি? এ জন্যই কি ঘুম ঘুম চোখে ট্রাইব্যুনালের নিউজ কাভার করতে যাওয়া সকালে?

১০টা ৪০ মিনিটে বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এজলাস গ্রহণ করে। এর আগেই বিচারকক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের ডান পাশের চেয়ারে আসন গ্রহণ করেন আবেদ খান। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য নির্ধারিত ডকে গিয়ে দাঁড়ান তিনি। নিজের পরিচয় দেন। জন্ম -১৯৪৫ সালের ১৬ই এপ্রিল। পেশা- সাংবাদিকতা। তিনি জবানবন্দিতে বলেন, সমকাল সম্পাদকের দায়িত্ব পালন কালে ২০০৭ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি পত্রিকাটির প্রথম পাতায় ‘জামায়াতের গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে’ শীর্ষক একটি প্রধান সংবাদ প্রকাশিত হয়। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ চারজনের বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রেরিত সংবাদের ভিত্তিতে সমন্বিতভাবে ওই প্রতিবেদনটি করা হয়। ওই রিপোর্টে বলা হয়, পাড়েরহাট বন্দরে সাঈদীর নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়। তার নেতৃত্বে পাড়েরহাটের ব্যবসায়ী বিপদ সাহা, মদন সাহা ও নারায়ণ সাহার দোকান লুটপাট করা হয়। ওই রিপোর্ট প্রকাশের পরে আমিসহ তিন জনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন সাঈদী। আমাদের পক্ষ থেকে মামলার জবাব দেয়া হয়। পরে পিরোজপুর যুগ্ম জেলা জজ আদালত মামলাটি খারিজ করে। এ পর্যন্ত বলার পরে আবেদ খানের জবানবন্দি শেষ হয়। তবে তিনি ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমার জবানবন্দি সাধারণভাবে শেষ হলেও আরও কিছু বলার বাকি আছে। কারণ, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার এত বছর পরে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর হয়ত এই সুযোগ পাব না। তখন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, প্রাসঙ্গিক হলে বলতে পারেন। নইলে তা আমরা নিতে পারব না। তখন আবেদ খান বলা শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হলে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মওদূদী পাকিস্তানকে স্বীকার করেন না। তিনি একটি নিবন্ধে বলেছেন, ‘আমরা জাতি বা জাতীয়তায় বিশ্বাস করি না’। তিনি পাকিস্তানকে ‘না পাকিস্তান’ বলে মন্তব্য করেন। তার পরে মওদূদী সাহেব যখন পাকিস্তানে আসেন তখন পাকিস্তানে ‘কাদিয়ানি দাঙ্গা’ হয়। এতে উস্কানি দেয়ার অভিযোগে তার বিচার হয়। বিচারে তার মৃত্যু দণ্ডাদেশ হয়। তবে পরে তা মওকুফ হয়। ইতিহাস থেকে বোঝা যায় মওদূদী সাহেব পরে তার বাহিনীসহ পাকিস্তান সরকারের সমর্থক হয়ে যান। আব্বাস আলী খানের আত্মজৈবনিক গ্রন্থে মওদূদী সাহেবের এই দর্শনের সমর্থন পাওয়া যায়। প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের স্বৈরাচারি সরকার এবং পরবর্তী পর্যায়ের সামরিকতন্ত্রের এই একটিই উদ্দেশ্য ছিল, তা হল, এদেশের বাঙালি জাতীয়তাবাদ, বাঙালি সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা। সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়কে তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে পরিণত করা। এ ব্যাপারে তদানীন্তর দক্ষিণপন্থি রাজনৈতিক দলসমূহ বিশেষ করে জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমরা বিভিন্ন সময়ে দেখেছি যখনই এদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে, বাঙালি জাতিসত্তার অধিকারের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, তখনই এদেশের প্রতিটি আন্দোলনকে জামায়াত পাশ্ববর্তী দেশের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখার চেষ্টা করেছে। এর চূড়ান্ত প্রকাশ হয় ১৯৭১ সালে। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের পতন হলে ইয়াহিয়া খানের উত্থান ঘটে। এসময় জামায়াতের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। যার পরিণতি হল ১৯৭১ সালে গোলাম আযম এবং জামায়াতের কার্যক্রম। কাজেই সাঈদী সাহেব যখন লুণ্ঠন, কিংবা পাকিস্তানি বাহিনীর অনুগত সহচর হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন তখন তার বাহিনীকে রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীর সংগঠক হিসেবে ধরে নেয়া হয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পরে জামায়াত সরূপে আত্মপ্রকাশ করে। এরপরে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের মাধ্যমে সরাসরি রাজনীতিতে আসে জামায়াত। গোলাম আযম বিশেষ ব্যবস্থাধীনে বাংলাদেশে আসেন। পরবর্তীকালে সাঈদী সাহেব তার ওয়াজ মাহফিল ও কর্মকান্ডের মাধ্যমে জামায়াতের এ বিষয়গুলো জায়েজ করার জেষ্টা করেন।

জেরায় আইনজীবী বলেন, পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহিম আপনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, মাওলানা আকরাম খাঁও বৈবাহিক সূত্রে আপনার আত্মীয়। সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ। আইনজীবী বলেন, ভাষা আন্দোলনের সমর্থক ছিল দৈনিক আজাদ।
সাক্ষী বলেন, সামগ্রিকভাবে সমর্থক ছিল না।
আইনজীবী বলেন, তবে ওই পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম সামসুদ্দিন সাহেব সমর্থক ছিলেন।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জামায়াত অংশ নিয়েছিল। সাক্ষী বলেন, সম্ভবত না।
আইনজীবী বলেন, যে মামলায় ফাঁসির আদেশ হয়, উচ্চ আদালতে সেই মামলায় মাওলানা মওদূদীর আইনজীবী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
সাক্ষী বলেন, জানা নেই।
এসময় ট্রাইব্যুনালের কনিষ্ঠ বিচারপতি সাঈদীর আইনজীবীকে বলেন, আপনি কি জানতেন, উনি মওদূদীর প্রসঙ্গ আনবেন।
আইনজীবী বলেন, না, জানতাম না। আইনজীবী সাক্ষীকে বলেন, মওদূদীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছিল।
সাক্ষী বলেন, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে মওদূদীর একটি লেখার কারণে দাঙ্গা হয়। একারণে মামলা হয়।
আইনজীবী বলেন, ওই লেখাটি পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ করেছিল কিনা।
সাক্ষী বলেন, বলতে পারছি না।
আইনজীবী বলেন, দাঙ্গাকারীদের কারও মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল কিনা।
সাক্ষী বলেন, জানি না।
আইনজীবী বলেন, আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্রের শেষ নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন ফাতেমা জিন্নাহ।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, সম্মিলিত বিরোধী দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত ছিল।
সাক্ষী বলেন, জামায়াত ছিল কিনা জানি না।
আইনজীবী বলেন, ওই নির্বাচন পরবর্তী পার্লামেন্টে কেন্দ্রীয় পরিষদের সংসদীয় দলের নেতা ছিলেন খান এ সবুর, বিরোধী নেতা ছিলেন মশিউর রহমান, স্পিকার ছিলেন আবদুর জব্বার খান ও ফজলুল কাদের চৌধুরী।
সাক্ষী বলেন হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, ’৭০ এর আগে প্রাদেশিক পরিষদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন আসাদুজ্জামান খান।
সাক্ষী বলেন, না, এডভোকেট আফসার উদ্দিন আহমেদ।
আইনজীবী বলেন, উপনেতা ছিলেন জামায়াতের আবদুস সোবহান।
সাক্ষী বলেন, সত্য নয়।
আইনজীবী বলেন, ১৯৬৬ সাল থেকে ’৬৯ পর্যন্ত সময়ে আইয়ুব খান টিকে থাকুক মর্মে দৈনিক ইত্তেফাকে জামায়াত কোন বিবৃতি দিয়েছিল কিনা।
সাক্ষী বলেন, ওই সময় ইত্তেফাক বন্ধ ছিল। অন্য পত্রিকায় বিবৃতি দিয়েছিল কিনা জানি না।
আইনজীবী বলেন, ১৯০৫ সালে পূর্ব বাংলার জনগণের উন্নয়নের ছুতায় ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ করে।
সাক্ষী বলেন, এটি হয়েছিল সরকারের প্রশাসনিক কারণে। উন্নয়নের ছুতায় কিনা জানি না।
আইনজীবী বলেন, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এই বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় আন্দোলন করেছিল।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ। আইনজীবী বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথও বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিলেন। সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ। আইনজীবী বলেন, ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে উপমহাদেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে ‘একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র’ গঠনের প্রস্তাব ছিল। সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, ১৯৪৬ সালে ‘একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র’ কথাটি সংশোধন করে একটি মুসলিম রাষ্ট্রের প্রস্তাব করা হয় লাহোর প্রস্তাবে।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, এসময় উপমহাদেশের পূর্ব বাংলা অঞ্চলের মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিম, আকরাম খাঁ প্রমুখ।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, বঙ্গবন্ধু ওই সময় মুসলিম লীগ করতেন।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, একাধিক রাষ্ট্রের বদলে একটি রাষ্ট্র করার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে শেরে বাংলা মুসলিম লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।
সাক্ষী বলেন, তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি করতেন। কিছু দিনের জন্য মুসলিম লীগে এসেছিলেন আবার কিছুদিন পরে নিজের দলে ফিরে যান। প্রস্তাব সংশোধনের কারণে মুসলিম লীগ ত্যাগ করেন-এমন বক্তব্য সত্য নয়।
আইনজীবী বলেন, ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব পাশের সময় শেরে বাংলা সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সাক্ষী বলেন, নিশ্চিত নই।
আইনজীবী বলেন, শেরে বাংলার পদত্যাগের প্রেক্ষিতে আবুল হাশিমকে ওই দায়িত্ব দেয়া হয়।
সাক্ষী বলেন, নিশ্চিত নই।
আইনজীবী বলেন, আবুল হাশিম হচ্ছেন প্রখ্যাত লেখক-কলামিস্ট বদরুদ্দীন উমরের বাবা।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, ১৯৪৭ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতাকারী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পাকিস্তান সৃষ্টিরও বিরুদ্ধে ছিল।
সাক্ষী বলেন, কিছু অংশ পক্ষে কিছু অংশ বিপক্ষে ছিল।
আইনজীবী বলেন, ভারত বিভক্তির পরে পাকিস্তান অংশের কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের অনেকে নিখিল পাকিস্তান কংগ্রেস গঠন করে।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টির পরে পূর্ব বাংলার মানুষের আশা আকাঙ্খার বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রেক্ষিতে এদেশীয় নেতারা আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করেন।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, পরে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়। এবং ওই সময় যারা পূর্ব পাকিস্তান অংশে কংগ্রেসের রাজনীতি করতেন তারা কংগ্রেস বিলুপ্ত করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
সাক্ষী বলেন, কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে যোগদান করতেই পারেন। তার মানে দলের বিলুপ্তি নয়।
আইনজীবী বলেন, পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেসের সকল সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
সাক্ষী বলেন, নিশ্চিত নই।
আইনজীবী বলেন, ’৭০-এর নির্বাচনে কংগ্রেস পৃথকভাবে অংশ নেয়নি।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম মুলনীতি ছিল গণতন্ত্র।
সাক্ষী বলেন, জি।
আইনজীবী বলেন, সংবিধানের ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ’৭৫-এ একদলীয় শাসন কায়েম হয়।
সাক্ষী বলেন, বাকশাল গঠন হয়। তবে অন্যান্য দলও ছিল। যেমন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, সর্বহারা পর্টি, জাসদ ইত্যাদি।
আইনজীবী বলেন, বাকশাল গঠনের পরে এই দল ছাড়া অন্য দলের নির্বাচনের অধিকার ছিল না।
সাক্ষী বলেন, সত্য নয়।
আইনজীবী বলেন, বাকশালে যোগদান না করার কারণে রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হয়। ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে জয়লাভ করেন বাকশালের প্রার্থী আবদুল হাকিম। সাক্ষী বলেন, বলতে পারছি না।
আইনজীবী বলেন, বাকশাল গঠনের মাধ্যমে এদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম হয়-একথা জেনেও আপনি সত্য গোপন করছেন।
সাক্ষী বলেন, সত্য নয়।
আইনজীবী বলেন, বাকশালের সদস্য ছাড়া অন্যদলের রাজনীতি করার অধিকার ছিল না।
সাক্ষী বলেন, সত্য নয়।
আইনজীবী বলেন, সিরাজ সিকদার সর্বহারা পার্টির নেতা ছিলেন।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ। আইনজীবী বলেন, সর্বহারা পার্টি নিষিদ্ধ ছিল। সাক্ষী বলেন, অনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ছিল না বলে মনে হয়।
আইনজীবী বলেন, ১৯৭৪ সালে ঢাকায় মওলানা ভাসানীর জনসভার ওপরে তৎকালীন সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
সাক্ষী বলেন, জানা নেই।
আইনজীবী বলেন, বাকশাল গঠনের পরে ৪টি ছাড়া সব পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়। ওই ৪টি পত্রিকাই সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, পরবর্তীকালে ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবাদপত্র প্রকাশের অনুমতি দেয়া হয়। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করা হয়।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ। আমি ওই সময় সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা ছিলাম। তবে বাকশালে যোগ দেইনি।
আইনজীবী বলেন, আমি তো তা জিজ্ঞেস করি নি।
সাক্ষী বলেন, আপনি হয়ত বলতে পারেন, আমি বাকশাল থেকে লাভবান হয়েছি, বহাল তবিয়তে ছিলাম।
আইনজীবী বলেন, সামরিক সরকার রাজনৈতিক দল গঠনের জন্য পলিটিক্যাল পার্টি রেজুলেশন বা পিপিআর অধ্যাদেশ জারি করে।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, এই পিপিআরের অধীনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, মুসলিম লীগ, জাগদল, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগসহ অনেক রাজনৈতিক দল কার্যক্রম শুরু করে।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের সভাপতি কে ছিলেন।
সাক্ষী বলেন, মাওলানা আবদুর রহিম।
আইনজীবী বলেন, তিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান জামায়াতের নায়েবে আমির ছিলেন।
সাক্ষী বলেন, সম্ভবত।
আইনজীবী বলেন, তিনি ’৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া-কাউখালি আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন।
সাক্ষী বলেন, জানা নেই।
আইনজীবী বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে পিপিআরের অধীনে আব্বাস আলী খান জামায়াতের রেজিষ্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু রেজিষ্ট্রেশন দেয়া হয়নি।
সাক্ষী বলেন, ওই সময়ের পরিস্থিতি জামায়াতের জন্য অনুকূল না হওয়ার কারণে রেজিষ্ট্রেশন দেয়া হয়নি।
আইনজীবী বলেন, পরবর্তীকালে ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে পিপিআর বাতিল করা হয়। তখন স্বাভাবিকভাবে জামায়াত কার্যক্রম শুরু করে।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ।
আইনজীবী বলেন, জিয়ার আমলে আইডিএলএল-এর ব্যানারে আবদুর রহিমের জামায়াতের পুরো অংশ মুসলিম লীগের সঙ্গে ফ্রন্ট করে নির্বাচনে অংশ নেয়।
সাক্ষী বলেন, ফ্রন্ট গঠন করা হয় নির্বাচনের পরে।
আইনজীবী বলেন, নির্বাচনের পূর্বে ফ্রন্ট গঠন করা হয় এবং বিভক্তির পরে দু’টি গ্রুপ হয়।
সাক্ষী বলেন, স্মরণ নেই।
আইনজীবী বলেন, ওই নির্বাচনে এই দুই জোটের মহিলা প্রার্থী সৈয়দা রাজিয়া ফয়েজ ভোটে সরাসরি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ। সাঈদীর পক্ষে জেরা করেন এডভোকেট মিজানুল ইসলাম।

(এখানে উল্লেখ করা উচিত- জামায়াতের সাবেক আমীর আবদুর রহিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার কথা ট্রাইব্যুনালে নিজে বলেছেন আবেদ খান। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়টা কি-এমন প্রশ্নে একটি বিশ্বাসযোগ্য সূত্র জানিয়েছে-ভাতিজি জামাই।)