ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

প্রিয় পাঠকগন, এবার এক পোস্টে দুটি বিষয় নিয়ে একত্রে লিখছি। মুক্তবাজার অর্থনীতির বিপণনের একটি চিত্তাকর্ষক শ্লোগান হলো, টু ইন ওয়ান। তাই এই অভিনব প্রচেষ্টা। গালিগালাজ মনে মনে দিলে ব্লগটিমের উদ্বেগ কমে, অতএব…….। ধন্যবাদ।

এই গ্রামীণ, সেই গ্রামীণ
আমাদের বাংলাদেশের একটি গৌরবময় বিশ্বজয়ী প্রতিষ্ঠানের সোনার ডিম দেয়া হাঁসটির নাম, গ্রামীণ ফোন। প্রতিষ্ঠাকালে বিশ্বজয়ী প্রতিষ্ঠানের পিতঃ জনসমক্ষে গ্রামীণ ফোন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে যেয়ে আমাদের জানিয়েছিলেন, (যদিও সচরাচর তিনি বাংলাদেশের জনগনকে কোন কিছু জানাননা, কিছু যদি একান্তই কাউকে জানানো প্রয়োজন মনে করেন তাহলে ওয়াশিংটনমুখী আকাশপোতের প্রথমশ্রেণীতে আসন গ্রহন করেন) যে গ্রামের বিপুল সংখ্যক প্রবাসীরা যেন পরিবারের সদস্যদের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ রাখতে পারেন তার জন্য গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের মাধ্যমে এই ফোনসংযোগ দেয়ার উদ্দেশ্যেই গ্রামীণ ফোনকে জন্মদান দেয়া হয়েছে। যদিও প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বলেছিলেন, ফখিন্নীর হাতে ফোন দিলেই দেশের উন্নতি হয়না!! সম্ভবতঃ এই মন্তব্যে আহত হয়ে কিংবা হয়ত আগে থেকে করা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই গ্রামীণ ফোন শহুরে ডিযুস সংষ্কৃতির আকার ধারন করলো। বাংলাদেশে প্রেমের জোয়ার বইলো। ধন্যবাদ গ্রামীণ ফোন। অল্পদিন পরেই আমরা জানলাম, যে বিশ্বজয়ী প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র সদস্যদের অর্থায়নে জন্ম নেয়া গ্রামীণ ফোন আর বাংলাদেশী গ্রামীণ দরিদ্রদের মালিকানায় নয়, এক্কেবারে খাস নরওয়েজিয়ান শহুরে কর্পোরেশনের। কোন আঁধারে কার একক সিদ্ধান্তে তা ঘটলো তাতো আর আমাদের মতো অভাজনদের জানার কথা নয়। সে যা হোক, আমাদের এ বলে আশ্বাস দেয়া হলো, নাহ্‌, ডাকাতে স্যুটকেস নিয়েছে বটে, তবে চাবি দেয়া হয়নি! কি দিলখোশ করা সংবাদ! আমাদের এও জানানো হলো, গ্রামীণ দরিদ্র জনগনের বিশ্বজয়ী প্রতিষ্ঠান এক্কেবারে মালিকানা ছেড়ে দেয়নি ৪৪% মালিকানা এখনো আছে, বাহ্‌! যদিও নতুন আন্তর্জাতিক ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং এর নতুন পদ্ধতি IFRS অনুযায়ী কোন প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ অধিকারী বলে বিবেচিত হবে, যদি প্রথম প্রতিষ্ঠানটি কারো মদদ ছাড়া দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ মালিকানার অধিকারী হয়। তো, ৫৬% মালিকানা নিয়ে নিরঙ্কুশ মালিকানার অধিকারী কি দায় পড়েছে যে ৪৪%ওয়ালাকে বলেকয়ে সব কিছু করতে হবে? এই হলো ভুমিকা। আসল কথা সংক্ষেপে সারছি।

জ্ঞানী পাঠকেরা কিছুদিন থেকে সংবাদপত্রের পাতায় গ্রামীন ফোনে ঢালাও ছাঁটাইয়ের খবর পড়ছেন। সে ছাঁটাইয়ের জন্য অভিজ্ঞ এক সুইডিশ এবং এক পাকিস্তানী (বংশ পরম্পরায় অভিজ্ঞ) কসাইকেও গ্রামীণ ফোনে আনা হয়েছে। সে ছাটাইকে সংসদীয় কমিটি অনৈতিক ও বেআইনী বলে ঘোষনা করেছেন। সবচেয়ে মজার ব্যপার হল, গ্রামীণ ফোনের সিইও সংসদীয় কমিটির সামনে এসে বারেবারে সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যানের সাথে “এক্সক্লুসিভ” সাক্ষাৎ ও আলোচনার দাবী জানাতে থাকলেও সংসদীয় কমিটি তা অগ্রাহ্য করে। কইনছেন দেহি, কি ছিলো গ্রামীণ ফোনের সিইও’র মনে? আচ্ছা থাক থাক। আমার শেষ কথা হচ্ছে, এই যে ৪৪% মালিকানা নিয়ে বিশ্বজয়ী প্রতিষ্ঠান হাম ভি মালিক হয়ে বসে আছে, তারা কেন কিছু বলছে না?

সামিটের কুইক রেন্টাল
প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগন, এইবার আমি যথার্থ দু‘ধারি তরবারির উপর দিয়ে হাঁটছি। আমাদের অতিমহামান্য বিদ্যুৎ উপদেষ্টা আগেই ফতোয়া দিয়ে রেখেছেন যে যারা কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন পদ্ধতির সমালোচনা করে, তারা সব দেশদ্রোহী। জীবনের এই শেষবেলায় দেশদ্রোহী হিসেবে কলঙ্কের তিলক পড়তে চাইনা, বিশেষ করে যখন বীর বিক্রম উপদেষ্টার মতো বিশাল না হোক, দেশের জন্য কিছুটা যুদ্ধ-বিগ্রহ করেছি!!

আমার পোস্টের এই অংশে অতি সংক্ষেপে জানাই, বাংলাদেশের কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত (বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে, এমন উদ্ভট প্রশ্ন কার মাথায় আসে?) সামিট গ্রুপের হাতে দেশের মোট দৈনন্দিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোটামুটি এক-তৃতীয়াংশ (১,৩৩৪ মেগাওয়াট) উৎপাদন করার দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে [দেশে মোট দৈনন্দিন গড় প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪,৯০০ মেগাওয়াট সুত্র: পিডিবি http://www.bpdb.gov.bd/bpdb/index.php?option=com_content&view=article&id=150&Itemid=16]। ঠিক আছে, সরকারের (অথবা মহামান্য উপদেষ্টার) মুরগি কোন দিক থেকে কাটবেন তা তাদের ব্যপার। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ইতোমধ্যে সামিটের আওতায় থাকা পাঁচটি কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটিই এখনো প্রতিষ্ঠার অপেক্ষায় আছে। এর উপর যদি আরো বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বপ্নবিলাস নিয়ে সামিটকেই দায়িত্ব দেয়া হয়, তাহলে আমাকে জিজ্ঞেস করতেই হবে, যা কাটবেন বলে ঠিক করেছেন, সে মুরগিটি কই?
সংযোজন: আজই অন্য অনলাইন পত্রিকায় পড়লাম, সামিটকে দেয়া তিনটি বিশাল পাওয়ার প্ল্যান্ট চালুতো হয়ইনি, এখন তারা সরকারের হাত মুচড়ে এডিবি বা বিশ্বব্যাঙ্কের কাছ থেকে অর্থায়নের দাবী জানাচ্ছে। আমি বাজী ধরছি, সরকার তাদের দাবী অবশ্যই পুরণ করবে)।