ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

আমাদের দেশরত্ন জননেত্রী যখন সংসদে দাঁড়িয়ে সগর্বে ঘোষনা করলেন যে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মাসেতু তৈরী করা কোন ব্যপারই না, তখন আমাদের এত ভঙ্গ রঙ্গভরা দেশে দেশপ্রেম দারুন চাগিয়ে উঠলো। একবার সেই পঁচাত্তরে বাকশালে যোগ দিয়ে দেশপ্রেম দেখানোর হুড়োহুড়ি দেখেছিলাম, আর এবার দেখলাম পদ্মাসেতু নিয়ে দেশপ্রেম দেখানোর সেই হুড়োগুড়ি। বঙ্গবন্ধুর যার যা কিছু আছে তা নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার ডাকে বাংলাদেশের আপামর জনতা সাড়া দিয়েছিলো। এবার দেশরত্নের ডাকে তেমন সাড়াই পড়লো।আমার বুকের ছাতি কয়েক ইঞ্চি বেড়ে গেলো।

আমাদের মহাপরাক্রমশালী দুদক তড়িঘড়ি দেশের অর্থে পদ্মাসেতু নির্মানের অর্থ জমা দেয়ার জন্য ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্টও খুলে ফেললো, একটি নয় দু’টি। কে সাড়া দেয়নি দেশরত্নের ডাকে? স্কুলবালকের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে ৬৫ টাকা দেয়া থেকে, ইন্স্যুরেন্স একাডেমী সব ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর প্রিমিয়াম রিজার্ভ ঝেঁটিয়ে দেশীয় অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মানকল্পে ঢেলে দেয়ার পরিকল্পনা পেশ করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিল। যদিও কিছু কিছু হতাশাবাদী পেশাদার একাউন্টেন্টরা মিঁউ মিঁউ করে বলেছিলো, ইন্স্যুরেন্স একাডেমী কোন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর মালিক নয়, পরিচালনা পর্ষদ নয়, দেশে প্রচলিত কোম্পানী আইন বা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী এ্যাক্ট ইন্স্যুরেন্স একাডেমীকে এ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা দেয়নি। তাছাড়া, প্রিমিয়ার রিজার্ভ রাখা যে কোন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর জন্য আইনগতভাবে এবং এ্যাকাউন্টিং প্র‍্যাকটিসের ক্ষেত্রে GAAP বা IFRS এর শর্ত পুরণ করার জন্য বাধ্যতামূলক। সে কাগজেপত্রে আইনে যা লিখা থাকুক, চাচা যখন বলেছেন, তা হতোই। এর বাইরে, আমাদের ইউনিভার্সিটি গ্র‍্যান্ট কমিশনের মসনবদার কোথা থেকে যেন এক কোটি টাকা দান করার ঘোষনা দিয়েছিলেন। আর কতো বলবো, এ যেন ওই সোয়াতীর মানি ইজ নো প্রবলেম থিয়োরি। যা হোক, আমরা আমজনতা অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে উঠছিলাম, যে মহামান্য নৌমন্ত্রীর কেনা নতুন বাসে চড়ে বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলে যাবো, অহো, কী স্বর্গসুখ।

এরমাঝে কী যে হলো! এখন শুনছি, দুর্ণীতিবাজ, রক্তচোষা, লুটেরা বিশ্বব্যাঙ্কের টাকাতেই পদ্মাসেতু হবে। আমাদের হৃদয় ভেঙ্গে খানখান হয়ে গেলো। আমাদের আবুলকে হাস্যমুখে কিন্তু উত্তেজিত ভঙ্গীতে পুরোসময় ইংরেজীতে সংবাদ সন্মেলন করতে হলো (শোন ব্যাটা বিশ্বব্যাঙ্ক, শোন, সৎ মানুষ কাকে বলে)। শহীদের রক্ত বৃথা গেলো। কারো কারো দুই ঈদের বাজারের পরিকল্পনা ভেস্তে গেলো।

তবু আমাদের সামনে একটি ক্ষীন সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করি পবিত্র রমজান মাসে দয়াময় গাফুরুর রাহিম, আমাদের আকুল প্রার্থনা শুনবেন এবং কবুল করবেন। যে সম্ভাবনাটির কথা ঈঙ্গিত দিচ্ছিলাম তা হলো, বিশ্বব্যাঙ্কের দক্ষিন এশীয় এক কর্মকর্তা (এঞ্জেলা ওয়াকার) দাবী করছেন যে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাঙ্কের দেয়া চারটি শর্তের মধ্যে দুটি পুরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাই হয়তো বিশ্বব্যাঙ্ক চুড়ান্তভাবে ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নাও দিতে পারে। http://www.amadershomoy2.com/content/2012/07/26/news0241.htm ব্যস, আমরাতো এটিই চাই! কিসের বিশ্বব্যাঙ্ক? দেশের টাকায় চারটি পদ্মাসেতু তৈরী সম্ভব বলে আমাদের নিজেদের অর্থনীতিবিদেরা জানিয়েছেন। এখন প্রিয় দেশবাসী, সবাই দুলে দুলে দোয়া করুন।

পদ্মাসেতু বিশ্বব্যাঙ্কের টাকায় হলে আমাদের শুধু একটিই প্রাপ্তি ও শান্তি, আমাদের ফুফু আম্মার একবেলার বাজার করা বন্ধ করতে হবেনা, চারবেলাই বাজার করতে পারবেন। তাইবা কম কি?