ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

পাঠকগন ইতোমধ্যেই জেনেছেন যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেয়া তাদের নতুন গঠনতন্ত্র থেকে তথাকথিত জামাতে ইসলামী আল্লাহ-রসুল, আল্লাহর আইন, সৎলোকের শাসন সব এক্কেবারে উড়িয়ে দিয়েছে (সংবাদসুত্র)। বাহারে।

১৯৪১ সাল থেকে ম্যাওদুদী ও তথাকথিত জামাতীরা ঘ্যানঘ্যান করে বলে চলেছিলো, তারাই ইসলামের একমাত্র প্রতিনিধি, শুধু তাদের শাসনের মাধ্যমেই “সৎ” লোকের শাসন চালু হবে, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন কায়েম হবে। আজ মাইনক্যাচিপায় পড়ে, তথাকথিত জামাতিরা ডিগবাজি দিয়ে এক্কেবারে সাফ্‌ফানসাফ্‌ফা প্রায় ধর্মনিরপেক্ষ এক দলে পরিনত হয়েছে। অর্থাৎ, এতো বছর ধরে তথাকথিত জামাতিরা যে আল্লাহকে অবলম্বন করে তাদের অপরাজনীতি চালাচ্ছিলো, আজ থেকে সেই আল্লাহ বাদ। কী চমৎকার দেখা গেলো!!

এইই হচ্ছে তথাকথিত জামাতিদের আসল চেহারা। নিজের স্বার্থরক্ষার জন্য এরা তাদের ঘোষিত নীতি, এমনকি তা আল্লাহ-রসুল (সঃ) এর নামে হলেও, ডাস্টবিনে ফেলে দিতে দ্বিধা করেনা। এটি অবশ্যই মোনাফেকি (ধর্মীয় রেফারেন্স দেখুন ১., ২., ৩., ৪.

আরো অজস্র রেফারেন্স দিয়ে দেখানো যেতে পারে যে মোনাফেকির যে চার চিহ্নের কথা কোরান ও রসুল (স্:) উল্লেখ করেছেন, তার সবগুলো তথাকথিত জামাতিদের মধ্যে আছে। এরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী (বলেছিলো আল্লাহর আইন চালু করবে), মিথ্যুক (মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভুমিকা স্মরণ করুন), এরা কোন চুক্তি করলে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে সে চুক্তি ত্যাগ করে (আওয়ামী লীগের সাথে চুক্তির কথা স্মরণ করুন; বিএনপি’র রোদনের জন্য অপেক্ষা করুন) এবং কারো সাথে ঝগড়ায় এরা অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে এবং আক্রমনাত্মক হয়ে উঠে (একাত্তরের খুন, সম্প্রতি রগকাটা)।
এধরনের মোনাফেকি এরা আগেও করেছে। নারী নেতৃত্ব অগ্রহনযোগ্য ও হারাম বলে ঘোষনা দিয়ে পরে খানিকটা ক্ষমতা পেতে নারী নেতৃত্বের পদপ্রান্তে অনুগত দাসের মতো বসে থেকেছে। এটির শুরু অবশ্য তাদের মুরশিদ ম্যাওদুদীর আমল থেকে। ফাতেমা জিন্নাহকে সমর্থন দিয়ে ম্যাওদুদী মোনাফেকিটা করেছিলো। তবে আল্লাহ চাহেত ম্যাওদুদী হুজুরের মোনাফেকির অন্ত নাই। বারান্তরে এ নিয়ে হয়তো আলোচনা করে খানিকটা সময়ক্ষেপন করা যাবে।
এখন আমার প্রশ্ন, যারা তথাকথিত জামাত-শিবিরের সমর্থক, তাদের আপন বুদ্ধিবিচারে এই দলকে বা নেতৃত্বকে কি সমর্থন করা উচিৎ? সততার সাথে নিজেকে প্রশ্ন করুন, সততার সাথে যুক্তি ব্যবহার করুন। জানি, তথাকথিত জামাতি নেতারা এটিকে তাদের কর্মী সমর্থকদের কাছে রণকৌশল বলে চিত্রিত করতে চাইবে, কিন্তু যে নেতৃত্ব এতদিন আপনাদের বলে এসেছে, তারা আল্লাহ্‌র শাসন কায়েম করবে, তারা এখন প্রকাশ্যে বলছে তারা আর আল্লাহ্‌র শাসন চায়না। হোক রণকৌশল, একজন খাঁটি মুসলমান কি তার প্রচারিত বিশ্বাস থেকে পিছিয়ে আসবে না কি আল্লাহ-রসুলের জন্য জীবনোৎসর্গ করবে? নাকি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আপোষ করে আল্লাহ্‌ ও রসুল (সঃ) কে ত্যাগ করবে?

আর যারা তথাকথিত জামাতিদের ওয়াজ শুনে বা কৃত্রিম মধুর ব্যবহার পেয়ে অথবা তাদের দাড়ি জোব্বা দেখে খানিকটা ইশ্‌কে পড়েছিলেন, তারা এখন কি বলবেন?
শেখ মুজিবের ভাষায় জামাতিদের উদ্দেশ্যে বলি, “বারেবারে ঘুঘু এসে খেয়ে যাও ধান, এইবার ঘুঘু তব বধিব পরাণ”।
নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন।
ধন্যবাদ।