ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

আমাদের গ্রামাঞ্চলে একটি প্রবাদ আছে, “হাতীর ল্যাদা দেখে খাটাসের কোথ”। এর মোটামুটি নাগরিক অনুবাদ হচ্ছে, অন্যের বিশালত্ব দেখে নিজেও বিশাল হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা। আইপিএলে কোটি কোটি ডলারের ছড়াছড় দেখে, বাংলাদেশ ক্রিকেটবোর্ডের (বিসিএল) কিছু নির্বোধ খাটাস বাংলাদেশেও কোটি ডলারের টুর্ণামেন্ট চালুর কোথ দেয়া শুরু করেছিলো। কিন্তু সন্দেহজনকভাবে দ্রুত ধনী হওয়া গবেটরা বাংলাদেশে লুটপাট করে ধনী হওয়া আর কোটি ডলারের টুর্ণামেন্টের আয়োজন করার যোগ্যতা যে এক নয়, তা আর বুঝে উঠতে পারেনি। ফোর্বস ম্যাগাজিনের আনুমানিক হিসেবে, ভারতের ভোগ্যপন্য বাজারের মুল্য মোটামুটি ৬ বিলিয়ন বা ছয়শ কোটি ডলার। ফলে সেখানে কর্পোরেশনগুলো কোটি ডলারের বিনিয়োগ করা নিরাপদ মনে করেই আইপিএল এ টাকা বিনিয়োগ করে। তো আগামাথা না ভেবে বাংলাদেশের ক্রিকেটবোর্ডও গড়ে একশ চল্লিশ কোটি টাকার মুল্যের দল গড়ে বিপিএল চালু করার জন্য কোমর বেঁধে নেমে পড়েছিলো। কিন্তু এই ধরনের টিম যে কর্পোরেশনের মুনাফা অর্জনের একটি ক্যারিয়ার, তাতো আর বিসিবির জ্ঞানবুদ্ধিতে আসেনি। যদি একটি টিমের গড় মুল্য আশা করে হয়ে থাকে একশ চল্লিশ কোটি টাকা, সেখানে করপোরেশনগুলো অন্ততঃ দুইশ আশি কোটি টাকা আয় করার পরিকল্পনা করবে প্রধানতঃ ভোগ্যপন্য বা কনজিউমার্স প্রডাক্ট বিক্রি করে। তাহলে আনুমানিক হিসাবে ছয়টি দলের জন্য অন্ততঃ (২৮০ * ৬) ১,৬৮০ কোটি টাকার ভোগ্যপন্য বিক্রয় করতে হবে। বাংলাদেশের ভোগ্যপন্যের বাজারের আয়তন কতো? ফলাফল হলো, একটি দলও স্পন্সর পায়নি, এবং বিপিএল ধপাস্‌!!

আমরা যারা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ভালোবাসি এবং এর উত্তোরত্তর উন্নতি চাই, তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ক্রিকেটদলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন হচ্ছে ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো গড়ে তোলা, সদ্য তরুন এবং সাহসী ক্রিকেট খেলোয়াড়দের শক্ত মাইন্ডসেট গড়ে তোলা (যেন ভারতের মতো বিদেশের মাটিতে খেলতে যেয়ে প্যান্ট নষ্ট না করে ফেলে), সঠিক কোচিং এবং প্রতিদ্বন্দিতামূলক অভ্যন্তরীন বয়স ভিত্তিক ও আঞ্চলিক টুর্ণামেন্টের ব্যবস্থা করা। প্রয়োজন হলে জাতিয়য় ক্রিকেট দল এবং প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটারদের দেশে বিদেশে শক্তিশালী দলগুলোর এ দলগুলোর সাথে ম্যাচের আয়োজন করা। আইপিএল এর হনুকরনে টাকার জন্য লালায়িত হয়ে মূল দায়িত্ব পালন না করা নয়। (বিসিবি এখনো নিজেদের পাওনা শত কোটি টাকার প্রচারস্বত্ব নিম্বাসের কাছ থেকে আদায় করতে পারেনি)। আমরা জানি, বিপিএল এর আয়োজন যদি সফল হতো, তাহলে কর্মকর্তাদের পকেটও ভারী হতো, প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনঐতিক বখশিস পাওয়ারও সুযোগ সৃষ্টি হতো। আমি আশা করি, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা জেগে উঠে এই সব কর্মকর্তাদের হটিয়ে নিখাদ ক্রিকেটার ও ক্রিকেট সংগঠকদের নিয়ে নতুন করে জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ ক্রিকেট পরিচালন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করবেন।