ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আমার মতো আকাটও লক্ষ্য করলো, বাংলাদেশে হঠাৎ করে বিশাল গ্রহ-নক্ষত্রের মেলা বসতে যাচ্ছে। এই ধরুন, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ইতিমধ্যে নাজেল হয়েছেন। বাংলাদেশে ভারতের (বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ) রাষ্ট্রদুতের নিয়োগ হয়েছে, তিনি এলেন বলে। সবচেয়ে বড় কথা, ভারতের বাংলাভাষী মিডিয়ার কাছে মনমোহন সিং এবং সোনিয়া গান্ধীর অতি বিশ্বস্থ এবং বাংলাদেশ-ভারতের যে কোন ক্রাইসিস (না না আমাদের তেমন কোন ক্রাইসিস নেই। আমরা ভারতের সব কথা অত্যন্ত আনুগত্যের সাথে পালন করি) দেখা দিলে বা ভারতের পক্ষে নুতন কোন এ্যাজেন্ডা গেলানোর দরকার হলেই প্রণব মুখার্জী বাংলার আকাশে উদয় হন। তো জাহাজের মতো এত বড় বড়মানুষেরা প্রায় একই সময়ে কেন আসছেন তা নিয়ে আমাদের মতো আদার ব্যাপারীদের একটুও মাথা ঘামানো উচিৎ নয়, তাইনা। তাই এই প্রসঙ্গটি তুলে ঝুলোগোঁফো কারো ভুরু কুঁচকে দিয়ে থাকলে করজোড়ে ক্ষমা চাই। মাফি মাঙ্গি হাজুর।

তবে অভয় যদি দেন তো মাথা-টাথা চুলকে বলি, এই বিরাট মানোয়ারী জাহাজের মতো এত্তো বড় বড় মানুষেরা বাংলাদেশে কেন আসছেন? বিশেষ করে যখন:
১। ১৫-১৬ জন ধর্মান্ধ কাঠমোল্লা সেনা ও অবঃ সেনা কর্মকর্তা যখন দেশে, সেনাবাহিনীর ভাষায়, একটি ক্যু প্রায় করেই ফেলেছিলো (ভারতীয় মিডিয়ার দাবী অনুযায়ী ভারতীয় গোয়েন্দারাই ঝিমোতে থাকা বাংলাদেশ সরকারকে গুঁতো মেরে জাগিয়ে দিলো)।
২। দেশে যুদ্ধাপরাধের জন্য প্রমানিত খুনীদের যেমনই হোক একটি বিচার চলছে। ইতিমধ্য খোদ প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ও প্রকাশ্য অভিযোগ করেছেন যে বিরোধী দলীয় নেত্রী এই খুনীদের বাঁচাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন (আশ্চর্য, এখনো তারপরেও তাকে মিছিল ফিছিল করার উদারতা কেন দেখানো হচ্ছে?)।
৩। বাংলাদেশ সীমান্তে কী যেন হচ্ছে। অবশ্য তা নিয়ে আমাদের মাথা না ঘামাতে আমাদের নিজেদের মন্ত্রী এবং প্রণব মুখার্জী দুজনেই নিষেধ করেছেন। তাই আর ও নিয়ে ভাবছিনা।
৪। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশে সম্ভবতঃ এই অতি সামান্য গনঅসন্তোষ দেখা দিয়ে থাকতে পারে।
৫। দুই বছরেও বাংলাদেশ প্রতিশ্রুত এক বিলিয়ন ডলারের ঋণ ভারত থেকে পায়নি ফলে ভারতীয় ট্র‍্যানজিট ঠিকমতো চালু করা যাচ্ছেনা। এবং,
৬। চীন ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতার আলোচনা চলছে। এবং চীনা আম এবং আমেরিকান দুধ খোদা না খাস্তা যদি মিলে যা্য, তাহলে এই উপমহাদেশের পুরো চালচিত্র বদলে যাবে।
তাই ঠাট্টা নয়, সিরিয়াসলি বলছি, আগামী কদিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নজর রাখুন।