ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

ওই শিরোনামের প্রথমাংশ (বাংলাদেশ ক্রিকেটবোর্ডের অশ্বডিম্ব: বিপিএল) নিয়ে একখানা ব্লগ লিখে ফেললে পরে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের গালির চোটে আমার চৌদ্দপুরুষের ভুত ছুটে গিয়েছিলো। এবারও ‘আমি এনেছি শুধু একখানি মালা’। বোকা ন্যাড়া অনেকবার বেলতলায় যায়।

এবার ফের সেই একই ঘ্যানঘ্যানানি নিয়ে হাজির হওয়ার অনুপ্রেরণা হচ্ছে সাম্প্রতিক একটি সংবাদ। অনেকেই হয়তো তা পড়েও নিয়েছেন। বিষয়টি হচ্ছে বিসিবি বিপিএল খেলে যাওয়া বিদেশী ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক এখনো পরিশোধ করেনি। যদিও বিষয়টি বিদেশীরা একটি অফেন্স হিসেবে নিয়েছে, কিন্তু আপনারা জানেন, পাওনাদারদের দিনের পরে দিন তারিখ দিয়ে ঘোরানো আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য। আমরা বুঝতে অক্ষম বিদেশীরা এতো বিচলিত হয়ে উঠেছে কেন, তাজ্জব কি বাত! আমাদের বিসিবি’র পরম পুজনীয় সভাপতি মহোদয় যেভাবে তাঁর নিজের ব্যবসায় চালান, বিসিবি দোকানটিও সেভাবে চালাচ্ছেন। কাজেই পাওনাদারেরা তো কিছুদিন ঘুরবেই। আমাদের টাকা কি এতো সহজে তাদের পকেটে যাবে? এহ্‌!! যেমন আমাদের এককালীন জাতীয় অধিনায়ক কাম অধুনা পরিচালক দয়া করে জানিয়েছেন (অবশ্য তাঁর সব জানানো যে ধোপে টিকে তার গ্যারান্টি দিচ্ছিনা) যে বিদেশীদের টাকা দেয়ার জন্য ব্যাঙ্কের অনুমতি পাওয়া গেছে, ব্যস আর কোন সমস্যা নেই (যদিও অন্য দেশগুলো আন্তর্জাতিক খেলো্যাড়দের টাকা-পয়সা দেয়ার অনুমতি আগেই নিয়ে রাখে, কিন্তু আমরাও যদি ওরকম করি, তাহলে আমাদের অরিজিনালিটি থাকে কই?)।

তবে সমস্যা একটি আছে। তা হলো এই দোকানদারী কায়দায় টুর্ণামেন্ট চালিয়ে আন্তর্জাতিক খেলো্যাড়দের পাওনা পরিশোধ না করাতে বাংলাদেশ নামক দেশটির দুর্ণাম আরো বাড়ছে। সে দুর্ণাম হওয়াতে বিসিবি কর্তাগন বা তাদেরকে রাজনৈতিক বখশিস দিয়ে বিসিবিতে বসিয়ে দেয়া রাজনৈতিক শক্তিমানদের (নাম বলতে মরি ভয়-তরাসে) কিছুই আসে যায়না। সমস্যাটি হয় আসলে এইযে বাংলাদেশী নাম ধারন করে জীবিত মানুষ নামের কীটপতঙ্গের। কোন অজ্ঞাত কারনে, এই মানুষগুলো বাংলাদেশের নামে কোন অপমান, অবজ্ঞা, নিন্দা, দুর্নাম ইত্যাদি ঋনাত্মক অভিধার কথা শুনলেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে, নিদেনপক্ষে মুহ্যমান হয়ে যান। আমাদের সকল সরকার সাধ্যের অধিক দ্রব্যমূল্য, আইনশৃংখলার অনুপস্থিতি, বিদ্যুতহীনতা, পানীয় জলের স্বল্পতা প্রভৃতি অস্ত্র ব্যবহার করে ও ট্রেনিং দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের চামড়া কে গন্ডারের চামড়াতে রূপান্তরিত করে সব কিছু সয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সফল হয়েছে (ভানুর এ্যাডভাইস অনুযায়ী, সবই অভ্যাস হইয়া যাইবো), খালি এই দেশের নামে নিন্দা শুনলেই যে খেপে উঠার অভ্যাসটি তা আজও ত্যাগ
করাতে পারেনি, হায় আফসোস। এই অধমও সেই তাড়না থেকেই ব্লগ লিখতে নেমে পড়লো। ভাবুন, দেশের কী নিদারুন অবস্থা!!

এবার কিছু সিরিয়াস কথা বলা যাক। বিপিএল আয়োজন করে, কিছু ক্রিকেটপ্রেমীর Adrenaline প্রবাহবৃদ্ধি হওয়া ছাড়া, ক্রিকেট কি পেলো? অশ্বডিম্ব। মুশফিকুর রহিম মুখ ফসকে বলেছিলো, বিপিএল এর আয়োজন ছিলো খুবই অপেশাদার। তাতে বেচারার ক্যাপ্টেন্সি যায় যায় অবস্থা। তখন আর সব খেলোয়াড়ের মনে যাই থাকুক, মুখে বিপিএল খুব ভালো-টালো বলতে শুরু করলো। আর আমরা যদি বিশ্লেষনী মন নিয়ে দেখি, তাহলে দেখবো, বিপিএল যে পরিমান মালকড়ি বিসিবির গুদাম এবং কর্তাদের পকেটে ভরে দেবে বলে মনে করা হয়েছিলো, তার প্রায় কিছুই আসেনি। বিপিএল নিয়ে হৈ-হল্লা হলো, কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট এগোলনা। ক্রিকেটের জন্য নুতন পরিকল্পনা বা অর্থ বরাদ্দ হলোনা, চট্টগ্রাম মাঠের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চতুর্থ বৎসরের মতো পেছালো (কোন টুর্নামেন্টের আগে মিকাইল (আঃ) এর সাথে কন্ট্রাক্ট করতে হবে যেন তিনি বৃষ্টিবাদল না দেন), নতুন খেলো্যাড় বের করার কোন কথাও শোনা গেলনা, মোদ্দা কথা হলো শুধু বাংলাদেশ ক্রিকেটই কিছু পেলোনা। তবে শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী থেকে টাকা পাওয়ার চুক্তি থাকলেও উল্টো তাদের টাকা দিতে হয়েছে। অরুনলালের প্রেমতো পাওয়া গেলো, তা আর কম কি? এছাড়া, কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিল-টিলও মেটানো হয়েছে। আগামী বছর বিপিএল হবেতো?