ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

মূল পোস্ট: প্রশ্ন হচ্ছে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের ভাল কাজগুলো মূল্যায়ন ও অনুকরন করা যায় কিনা?

ভলতেয়ারের কালজয়ী উক্তি দিয়ে শুরু করছি, “তোমার মতে আমি বিশ্বাস না করতে পারি, কিন্তু তোমার মতপ্রকাশের জন্য আমি প্রান বিসর্জন দিতে পারি”। এই সুত্রে লেখকের মন্তব্য প্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকার করি এবং একাডেমিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি। যদিও মনের মাঝে একটি প্রশ্ন জাগে, জামাত-শিবির যদি শাসনক্ষমতা পায়, তখন আমরা জাতীয় গণতান্ত্রিক বা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব নিয়ে খোলাখুলি মত প্রকাশ করতে পারবো কি? এর উত্তর পেতে বিডিনিউজের পাঠকদের সাহায্য চাইছি। ব্লগের চেয়ে মন্তব্য বড় হওয়া উচিৎ নয়, তাই এই স্বতন্ত্র পোষ্ট।

মৌলিক অবদান
১। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে দেশের একনিষ্ঠ লড়াকু কর্মী হিসেবে গড়ে তোলাঃ লেখক একটি অসত্য তথ্য দিয়ে তার ব্লগ শুরু করেছেন। ইংরেজরা ভারতীয় উপমহাদেশ দখল করে নেয়ার সাথে সাথে ফার্সি থেকে সরকারী ভাষা ইংরেজিতে পরিবর্তন করেনি বরং একশো বছর সময় দিয়েছে। নবাব আবদুল লতিফ ও স্যার আমীর আলীদের নিউ স্কিম মাদ্রাসা তথাকথিত আলেমদের ভয়াবহ আক্রমনের শিকার হয়েছিলো। অর্থাৎ তথাকথিত আলেম নেতাদের পশ্চাৎপদতা ও দূরদৃষ্টির অভাব বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠিকে ইংরেজী শিখতে না দিয়ে পেছনে ঠেলে দিয়েছে। এর দায় ইংরেজদের নয়, এই কথিত আলেম নেতাদের। আমরা জানিনা এখনকার আলেমরা কতটুকু অগ্রসরতা অর্জন করেছেন। কারন তাদের মুখে যা ওয়াজ শুনি তাতে খোলাফায়ে রাশেদিন, বায়তুল মাল, খেজুর এবং শুকনো রোটির জয়গানই থাকে। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা কখনো শুনিনা। (একথা স্বীকার্য, লেখক আলেম এবং জামাতিদের আলাদা করেননি)। তবে লেখক যথারীতি তাদের সাম্প্রদায়িক আতর মেখে বলতে চেয়েছেন, সরকারি ভাষা বদলের কারন ছিলো মুসলমান সমাজকে ক্ষতিগ্রস্থ করা। এটি আদৌ সত্য নয়, অনেক হিন্দু মধ্যবিত্তও ইংরেজী না শেখার কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের আদরিনী গল্পটি সবাই পড়েছেন)। আমার কৌতূহল (লেখক বিস্তারিত বলেননি) জামাত-শিবির কি শুধু এদেশে ইংরেজী চালু করেই জনগনকে রাজনৈতিকভাবে উদ্ধার করে দিয়েছে কি না!

নাকি জামাত-শিবির এমন কোন কর্মকাণ্ড করেছে যা “এই পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে দেশের একনিষ্ঠ লড়াকু কর্মী হিসেবে পুনরায় গড়ে তোলে ব্রিটিশ পরাধীনতার গিনিপিগের দায় থেকে মুক্ত করেছে বাঙ্গালী জাতিকে।” দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন এরা কার জন্য লড়েন।

২। ক্ষমতায় না গিয়ে কর্মসংস্থান তৈরী ও চুড়ান্ত সফলতা অর্জনঃ মাশাল্লাহ। জানা গেলো জামাত-শিবির প্রচুর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সৃস্টি করে সরকারের চেয়ে বেশী উন্নয়ন সাধন করে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। যে কথাটি তিনি জামাতীয় কায়দায় আড়ালে রেখেছেন তা হল এই সকল প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়ার প্রথম শর্তই হলো, নিয়োগকৃত কর্মীকে জামাতের কোন নেতার সনদপত্র জমা দিতে হবে এবং নিয়োগ পরবর্তী সময়ে জামাতের আদর্শ গ্রহন করে সক্রিয় হতে হবে (কিছুদিন আগে পুলিশের হাতে ইসলামী ব্যাঙ্কের এমন এক কর্মীর মৃত্যুর সংবাদ সবাই পড়েছেন)। আমরা কিন্তু জামাতের এই কর্মসংস্থান কর্মসূচীকে ফ্যাসিবাদের দেখানো পথ বলে মনে করি। ইতালিতে মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট দল একই কর্ম করতো।

৩। করাপশান ফ্রি (দুর্নীতি মুক্ত) পেশাদারী প্রতিষ্ঠান তৈরীঃ লেখক সগর্বে বলছেন, জামাত ও ছাত্রশিবিরের ব্রেইনচাইল্ড ইসলামী ব্যাঙ্ক ১০০% করাপশন ফ্রি পেশাদারী প্রতিষ্ঠান, এমন আর কেউ পারেনি। বিদেশী র‍্যামিটেন্সের ৩৮% (শেষ পৃষ্ঠায় ৩২%) নাকি ইসলামী ব্যাঙ্কের মাধ্যমে এসেছে। আমাদের কাছে এবিষয়ে তথ্য নেই তাই লেখককে অনুরোধ করবো তাঁর তথ্যসুত্রটি জানানোর জন্য। তবে অর্থনীতিবিদদের ধারনা এখনো ৪০% র‍্যামিটেন্স হুন্ডির মাধ্যমে দেশে আসে। আবার আইডিবি নাকি ইসলামী ব্যাঙ্কের সাথে বেশী কাজ করতে ইচ্ছুক। আমাদের জানা মতে এডিবি সরকারের সাথে কাজ করে, কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে নয়। তার উপর এডিবি নিয়ন্ত্রন করে জামাতের রাজনৈতিক গুরু ওয়াহাবী সৌদিরা। তাই এডিবি সৌদিদের লাঠিয়ালকে পছন্দ করতেও পারে।

৪। ইসলামী অর্থনীতি ও ইসলামী ব্যাংকিং জামায়াতে ইসলামীর ব্রেইন চাইল্ডঃ তথাকথিত সুদবিহীন অর্থনীতির প্রথম উদ্গাতা মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবিনসন। তাও সেই পঞ্চাশের দশকে। জামাতিরা বেচারা রবিনসনের আইডিয়াটা মেরে দিয়ে মওদুদী ও রহিমকে কৃতিত্ব দিয়ে দিচ্ছে। (মওদুদী অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ বলে জীবনে শুনিনি। বরং ব্রিটিশ দালাল নিজামের চাকুরী করে, পাকিস্তানকে নাপাকিস্তান বলে মুখে ফেনা তোলে লাফ দিয়ে পাকিস্তানে চলে এসেছে। আর কাদিয়ানী গনহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড পেলেও আমেরিকার বদান্যতায় জীবনভিক্ষা পায়)। লেখকের পেশা কি জানিনা। তবে লাভ-লোকসানের ভিত্তিতে ইসলামী ব্যাঙ্ক কোনসময় লোকসান করেছে কি না জানাবেন। আর লাভের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাঙ্ক কি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নির্ধারিত ব্যাঙ্ক রেটকে অতিক্রম করতে পারে? তাহলে অন্য ব্যাঙ্কের সুদের সাথে ইসলামী ব্যাঙ্কের লাভের হার প্রায় সমান হয় কেন? পাঠকেরা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন, অন্য ব্যাঙ্ক যদি ১০% সুদ দেয়, ইসলামী ব্যাঙ্ক ১০ এর কোঠায় তাদের লাভ ঘোষনা করে।

৫। তত্তাবধায়ক সরকারের র্ফমূলা দেয়াঃ হ্যা এটির কৃতিত্ব গু আজম কে দেয়া যায় যদিও আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দাবী এটি তাঁর ফর্মুলা। আপনারা, লেখক, এ নিয়ে শেখ হাসিনার সাথে বোঝাপড়া করতে পারেন।

৬। আধিপত্যবাদ বিরোধী জনশক্তি তৈরীঃ “সরকার পরিবর্তন হলে আওয়ামীলীগের সোনার ছেলেদেরকে (ছাত্রলীগ/যুবলীগ) ক্ষমতায় থাকাকালীন করা অপকর্মের কারনে জনরোষের ভয়ে বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে দেখা যায়না”। এটি নিয়ে আমরা মন্তব্য করছিনা, কারন এর জবাব আওয়ামী লীগ দেবে। তবে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের পরে হায়দারী বীর জামাত-শিবির (আলবদর/আলশামস) কর্মী-নেতারা শুধু চৌকির নিচেই ঢুকেনি (দুয়েকজনকে টেনে বেরও করেছি বলেই জানি), বড় খুনীগুলো দেশ ছেড়ে ভেগেছে। বীর বটে। আর আমেরিকান আধিপত্যবাদী রাজনীতির বিপক্ষে আমাকে জামাত-শিবিরের একটি বক্তব্য দেখানতো। সৌদি আরবের পাকভূমিতে আমেরিকান সেনাবাহিনীর মহিলা সৈন্যরা উদাম গায়ে সানবাদিং করে, (ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করি, তাদের ছবি দেখবেন? আমার কাছে আছে) এটি নিয়েইতো কথা বলেন না, আর আমেরিকা যে পুরো মধ্যপ্রাচ্য দখল করে ফেলেছে, তা নিয়ে কথা আপনারা কথা বলবেন? কারন আপনাদের প্রভু সৌদিদের প্রভু হচ্ছে আমেরিকা। আপনারা আধিপত্য বলতে বোঝেন ভারত বিরোধিতা, বরং হিন্দু বিরোধিতা। তা জনাব, আপনাদের বর্তমান আমীর নেজামী ভারত সফর করার সময় চরম হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি’র নেতা আদভানির সাথে সাক্ষাৎ করে রুদ্ধদ্বারে কী পীরিতের কথা বলেছিলেন? তখন বুঝি মনে ছিলনা যে ভারত একটি আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র বটে। তবে আপনাদের স্মৃতিভ্রংশ নিয়ে আমাদের বিশদ অভিজ্ঞতা আছে। তাই হয়তো এখনই জিজ্ঞেস করে ফেলবেন, কি সব আধিপত্য নিয়ে কথা বলছেন?

৭। আক্ষরিক স্বাধীনতার পরিবর্তে মানসিক স্বাধীনতার উপর গুরুত্বারোপ ও জন সেন্টিমেন্ট তৈরীঃ আহারে, বাহারে। জামাত যে উত্তর আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতা করা নিয়ে দেয়, “তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের ভয়ে পাকিস্তান ভাগ হয়ে যাক চাননি” সেতো পুরনো ভাঙ্গা রেকর্ড। তা আপনারা সে উত্তর দিণ, কিন্তু দল বেঁধে আমাদের সেরা সন্তানদের হত্যা করা, অগনিত নিরপরাধ মুসলমানদের উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার ও নির্বিচার খুন, নারী ধর্ষনের উত্তর কি? আজ পর্যন্ত জামাত একবারও তাদের একাত্তরের হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষনের জন্য ক্ষমা চায়নি। যদিও জামাতের রাজনৈতিক বাপ পাকিস্তানে এ ক্ষমা চাওয়া নিয়ে শক্তিশালী জনমত গড়ে উঠেছে।

আধুনিক পৃথিবীতে এদেশের পন্য, ওদেশের পন্য বলে কিছু নেই। কম্পারেটিভ এ্যাডভান্টেজের (এর আরবী জানা নেই দুঃখিত) যুগে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব যদি দেশপ্রেমিক হয়, তাহলে পন্য বর্জন করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করার প্রয়োজন হয়না। তা বলে দয়া করে ভাববেন না, আমরা আপনাদের দেশপ্রেমিক ভাবি এবং রাষ্ট্র নেতৃত্ব আপনাদের হাতে তুলে দেব! বাংলাদেশের কেউই তা ভাবেনা বলেই আপনাদের ভোট সেই ৮% এই এক্কেবারে constant হয়ে আছে।

জামাত এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি? এতক্ষণ ধরে উলুবনে মুক্তো ছড়ানোর ফাঁকে একটু হাসলাম। বিএনপির ঘাড়ে চড়ে যে “স্বাধীন” পররাষ্ট্রনীতি জামাত দেখিয়েছে, আমরা ঘরপোড়া গরুরা আর সহজে ঐ রাস্তায় হাটছিনা জনাব!

৮।৯। সাহিত্য ইত্যাদি: আপনাদের অনুবাদ তো মওদুদীর ইমান-আকিদা বিরোধী রচনা। আর আমরা নজরুল, ফররুখের পরেও অনেক চমৎকার গান, কবিতা, সাহিত্য রচনা করেছি। আপনাদের সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠীর মওদুদী প্রশস্তির গান না শুনেও চমৎকার সংস্কৃতিবান হয়ে আছি। থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ।

দেশগঠন
১। সংগঠন ও দেশ পরিচালনায় একসাথে সকল জনশক্তির মগজ ব্যবহারের ব্যতিক্রম মডেল উপস্থাপনঃ জামাত-শিবির কোন কায়দায় তাদের সংগঠন পরিচালনা করে তা আমাদের জানিয়ে কী লাভ, ব্রাদার? তবে বেশ্যাগমনের পরেও শিবিরের নেতা হয়েছে, এমন খবর আমরা পড়েছি।

২। প্রচুর পরিমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা , আদর্শ ও দক্ষ শিক্ষক সমাজ তৈরীঃ ওহ হ্যা আমরা জানি আপনাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক সমাজ তৈরীর কাহিনী। রগকাটাগুলোতো আপনাদেরই প্রডাক্ট তাইনা? না না ঠিক আছে। আমরা তো জানিই।

৩।৪।৫। বাকশক্তিসম্পন্ন ইমাম, লেখক/সংস্কৃতি কর্মী/ প্রশাসনিক অফিসার তৈরী হ্যা থুক্কু দাঁড়িওয়ালা বা হালকা করে ছাটা দাঁড়ি দেখলেই আমরা বুঝে ফেলি তেনারা কোন ঘরানার 🙂

৬। ..এদেশে অসংখ্য হাসপাতাল,ক্লিনিক, দাতব্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছে। একই কথা ঘ্যানঘ্যান করে আবার বলছেন কেন? পয়েন্ট শেষ? আহারে। আমার পয়েন্ট এখনো শুরুই হয়নি।

৭। রেটিনা নিয়ে ব্যবসা: সরাসরি পয়েন্টে এলাম। ভালোই মাল কামিয়েছে শিবির, তবে এ নিয়ে মারপিটের ঘটনাও জানি।

দলীয় ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনে ভূমিকাঃ

কতোজন শিবির কর্মী একসাথে পদত্যাগ করেছিলো? আলফালাহ অডিটোরিয়ামে মারপিট/গালাগালির কেচ্ছাটা একটু বলুন না, প্লীজ।

৮। ভারী মজা, প্রথম পৃষ্টায় বললেন ইসলামী ব্যাঙ্ক ৩৮% র‍্যামিটেন্স এনেছে, এখানে পুনরাবৃত্তি করার সময় বলছেন ৩২%। আল্লাহরে, এই হচ্ছে জামাতের সততা ও ঈমানী শক্তি। পাঠক, সাবধান।
দাওয়াত দিচ্ছি, জনাব, আমরা সারা দিন ঘুরে ঘুরে মানুষকে জিজ্ঞেস করবো আপনার সাইদী হুজুর সম্পর্কে। রাজী আছেন? তবে আমি কিন্তু আগেই বলে নিচ্ছি সাইদীকে (আমরা বলি দেইল্যা রাজাকার) ভালো বলার জন্য যদি পাবলিক ধাওয়া দেয়, আমি কিন্তু খিচে দৌড় দেব। আপনি হায়দারী বীরপুরুষ খাড়া থাকবেন কিন্তু ভাই।

(প্রথম কিস্তি সমাপ্ত)