ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

সহি ইউনুছনামা (১ম পর্ব)

পূর্ব প্রকাশিতের পর –

গ্রামীণ ব্যাঙ্কের অসততা:

৪। যশোহরের অভয়নগরের (আমার ভুল হলে দয়া করে কেউ সংশোধন করে দেবেন) ঋষিপাড়ার দরিদ্রদের নিয়ে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক যা করেছে, তাকে শুধু অসততা বললে কম বলা হবে। এ ছিলো এক হৃদয়হীন ঠাট্টা। বাংলাদেশের দরিদ্রদের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র হচ্ছে কলু ও ঋষিরা। গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এই ঋষিপাড়ার বাসিন্দাদের ঋণ দেয়, যথারীতি এক সোনালী স্বপ্ন দেখিয়ে। সেখানে ডঃ ইউনুস নিয়ে যান বিবি হিলারী ও তদীয় কন্যাকে। নেচে, গেয়ে, স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করে হিলারী ও তাঁর কন্যাকে স্বাগত জানানো হয়। ডঃ ইউনুস আরো একধাপ এগিয়ে ঋষিপাড়ার নতুন নামকরণ করেন, হিলারি পাড়া। এরপরের ইতিহাস মর্মান্তিক। ঋণখেলাপি হয়ে অধিকাংশ ঋষিপরিবার বাস্তুভিটা ত্যাগ করে। যে দুই বালিকা হিলারি ও তাঁর কন্যাকে ফুলের মালা দিয়ে বরন করে তারা দুজনেই বাল্যবিবাহের শিকার হয়। স্থানীয় গ্রামীন ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে এরপরেও গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ঋণ আদায়ের পদ্ধতিকে উর্ধ্বে তুলে ধরেন। ডঃ ইউনুস অবশ্য ঋষিপাড়ার পথ আর মাড়াননি, কোন বিশেষ সহানুভুতিও জানাননি। তবে হিলারি পাড়া যে ফের ঋষিপাড়া হয়ে গেছে সে খবরটি ডঃ ইউনুস হিলারি বিবিকে দিয়েছেন কি না তা আর জানা যায়না।

৫। গ্রামীণ ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠার সময় এবং এর পরেও ডঃ ইউনুস বলেছেন যে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের মূল মালিক (স্টেক-হোল্ডার) হবেন এর গ্রাহক/সদস্যরা। এই খাতে যদিও গ্রামীণ ব্যাঙ্ক গ্রাহককে শেয়ারমূল্য পরিশোধের নামে অর্থ প্রদান করতে হচ্ছে। কিন্তু আজ অব্দি এই স্টেক-হোল্ডারদের কোনপ্রকার ডিভিডেন্ড দেয়া হয়নি, শেয়ার-বিভাজনও করা হয়নি। যা প্রতারনা ছাড়া আর কিছুই নয়। যে মুনাফা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক অর্জন করে তা যদি ডিভিডেন্ড হিসেবে তার সদস্যদের মাঝে বন্টন করতো, তাহলে গ্রামীণের দরিদ্র সদস্যদের আয় ও পু্ঁজি দুইই বৃদ্ধি পেতো। আসলে গ্রামীণ ব্যাঙ্কতো তা চায়না। কারন বাংলাদেশের গ্রামে যদি গ্রামীণ পুঁজির ভিত্তি গড়ে উঠে, তাহলে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের বাজার সংকুচিত হয়ে যাবে, প্রতিদ্বন্দিতার সম্মুখীন হতে হবে।

৬। গ্রামীণ ব্যাঙ্কের সবচেয়ে গৌরবজনক বিনিয়োগ গ্রামীণ ফোন। ডঃ ইউনুস সম্পুর্ণ ব্যক্তিগত দায়িত্বে তাঁর প্রিয়দেশ নরওয়ের টেলিনরের সাথে গ্রামীণ ফোনের চুক্তি করেন। অথচ ধারনা দেয়া হয়েছিলো যে গ্রামে গ্রামে মহিলাদের পরিচালিত কল সেন্টার করে প্রবাসীদের সাথে গ্রামে বসবাসরত তাদের পরিবারের কথা বলার সুযোগ দেয়ার জন্যই গ্রামীণ ফোনের সৃষ্টি। বর্তমানে টেলিনর গ্রামীন ফোনের প্রায় ৫৬% শেয়ারের মালিক। অথচ গ্রামীণ ফোন প্রতিষ্ঠার সময় ডঃ ইউনুস একপ্রকার চাপ দিয়ে রেলওয়ের ব্যয়ে স্থাপিত ফাইবার অপটিক ক্যাবল গ্রামীন ফোনের ব্যাকবোন হিসেবে নামমাত্র ভাড়ায় সেই ক্যাবল ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে নেন। পরবর্তীতে জানা যায় যে গ্রামীণ ফোনের নিয়ন্ত্রন টেলিনরকে দিয়ে দেয়া হয়েছে। এনিয়ে দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডঃ ইউনুস নরওয়েতে টেলিনরের সাথে আলোচনায় বসেন, তারপরেই সব স্তব্দ।

গ্রামীণ ব্যাঙ্কের অসংবেদনশীলতা ও দেশপ্রেমহীনতা:

পাঠকেরা লক্ষ্য করেছেন, আমাদের দেশে আইলার মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগেও জনসেবার জন্য নোবেল পুরস্কার পাওয়া গ্রামীন ব্যাঙ্ক কোন মানবিক পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের নিজেদের আইলা দুর্গত গ্রাহকদের এক কিস্তি সুদ অবশ্য মওকুব করেছিলো। যথেষ্ঠ। অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জনগনের অসহায়ত্বে (শীতকাতর, বন্যাক্রান্ত প্রভৃতি) গ্রামীণ ব্যাঙ্ক ল্যাজ, কান নাড়িয়েছে বলে শুনিনি।
গ্রামীণ ব্যাঙ্ক ও ডঃ ইউনুস তাদের কোন সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশে কারো সহায়তা চাননা। সরাসরি প্লেনে চেপে তিনি আমেরিকা পৌঁছে যান এবং সেখান থেকেই সব সমস্যার সমাধান করেন। যেন বাংলাদেশের প্রতি তাঁর কোন দায় নেই। দায়িত্বও নেই।

বিজেএমই আমেরিকাতে বিনাশুল্কে তৈরী পোষাক প্রবেশের জন্য ডঃ ইউনুসকে তাঁর প্রভাব ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছিলো। যদ্দুর জানা যায়, বিজেএমই’র একটি প্রতিনিধিদলের সাথে কিছুক্ষন সভা করে পরে এ বিষয়ে তিনি আর কোন পদক্ষেপ নেননি। অবশ্য বিনাশুল্কে বাংলাদেশের তৈরী পোষাক প্রবেশ করলে আমেরিকার আর্থিক ক্ষতি হতো।

দেশে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গনতন্ত্র ও মতপ্রকাশের আন্দোলন, স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তিদের জোট – কোন কিছুতেই আমরা ডঃ ইউনুসের কোন মন্তব্য বা আচরন দেখিনি। যেন তিনি একজন বিদেশি কুটনীতিক, তাঁর কোন প্রকাশ্য মতামত নেই। তিনি আসলে কোন দেশের নাগরিক?

ডঃ ইউনূস ও রাজনীতিঃ

১/১১ আসার অনেক আগে থেকেই ডঃ ইউনুস রাজনীতিই সকল নষ্টের গোড়া এবং সকল উন্নয়নের একমাত্র বাধা বলে প্রচারনা চালাতে শুরু করেছিলেন। এদেশে রাজনীতিবিদদের যে মহান ও ত্যাগী ভুমিকা আছে, তা তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। এর প্রকৃত কারন আর কিছু নয়, রাজনীতিবিদেরা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে তাঁকে জবাবদিহি করতে হয়, যা তাঁর একদম না-পসন্দ। আমরা দেখেছি, গ্রামীণ ব্যাঙ্ক অধ্যাদেশ জারী থেকে, সব বড় সিদ্ধান্তগুলো তার পক্ষে নেয়া হয়েছে স্বৈরাচারী শাসনকালে। ১/১১ কালে মৈনুদ্দির অনুগত একজন তথাকথিত প্রধান তত্ত্বাবধায়ক খোঁজার গুজব এখানে উল্লেখ করছিনা। তবে সে সময়ে রাজনীতি করা নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি নিজেই রাজনীতিতে মালকোছা মেরে নেমে পড়েন। একটি অফিস অর্ডার জাতীয় বস্তু ইস্যু করে তিনি জেলায় জেলায় তাঁর অনুগত কমিটি করার গননির্দেশ পাঠান। বড়ই পরিতাপের বিষয়, এতো মহান ও কৃতি একজন মানুষকে বাংলাদেশের মানুষ পাত্তাই দিলোনা। (আমার দরিদ্র-নিরক্ষর বাংলাদেশের জনগনের কালেক্টিভ উইজডমের জন্য আমি সর্বদা গর্ব অনুভব করি)। কোন নৈতিকতায়, কার নির্দেশে, ডঃ ইউনুস আজীবন রাজনীতিকদের বিরোধিতা করে শেষে নিজেও রাজনীতির নোংড়া ড্রেনে নেমেছিলেন তা বাংলাদেশের মানুষ জানে। প্রকাশ্যে কানে ধরে, ‘ন্যাড়া আর বেলতলায় যাবেনা’ বলে হাস্যরস করলেও, তাঁর সে কর্মের জবাবদিহিতা কিন্তু করা হয়ে যায়নি।

গ্রামীণ ব্যাঙ্কের শোষন, জবাবদিহিতার অনিচ্ছা:

এ বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে প্রচুর সমালোচনা হয়ে সত্য প্রকাশিত হয়েছে, তাই বিস্তারিত বলার প্রয়োজন নেই। প্রথমদিকে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক কোন সমালোচনার জবাব দেয়াও প্রয়োজন বোধ করেনি (বাংলাদেশের জনগনকে তাচ্ছিল্য করা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক ও ডঃ ইউনুসের স্বভাব)। পরে যখন চাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছিলো, তখন ডঃ ইউনুসের তৎকালীন ডান হাত (তাকে ডঃ ইউনুস পরে খেদিয়ে দিয়েছিলেন। একনায়কদের ক্ষমতাকেন্দ্রের কাছাকাছি অন্য কেউ থাকতে পারেনা) দীপাল চন্দ্র বড়ুয়া এক সংবাদ সন্মেলনে জানান গ্রামীন ব্যাঙ্কের সুদের হার ১২% মাত্র। অথচ, অর্থনীতি ও ফাইনান্সের সাথে যুক্ত সবাই জানেন, একটি ঋণ শুধু সুদের হার দিয়ে মূল্যায়িত করা হয়না। তা দেখতে হয় ঋণগ্রহিতার সেই ঋণ লাভ করতে কতো পরিমান মোট খরচ (Financial Cost) করতে হচ্ছে। কারন এই সামগ্রিক খরচটি ঋণগ্রহিতার পরিচালনা খরচ (Operating Cost)। এর পরিমান যদি অত্যধিক হয়, তবে গ্রহিতার পরিচালনা খরচ বেড়ে যায় যা তার ব্যবসায়িক আয়ের (Revenue) সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং ব্যবসায়ে লোকসান ডেকে আনবে। গ্রামীণ ব্যাঙ্ক অত্যন্ত চতুরতার সাথে গ্রহিতাদের দেয় সুদ ও বিভিন্ন খরচের শ্রেণীবিভাগ সহনীয় করে দেখায়। টাকার অংক কম বলে (কোন খরচ সপ্তাহে ৪ টাকা, কোনটি মাসে ৩২ টাকা ইত্যাদি) অধিকাংশ নিরক্ষর ঋণগ্রহিতা আতঙ্কিত না হয়ে ঋণ গ্রহন করে এবং গ্রামীণ ব্যাঙ্কের মাকড়সার জালে মাছির মতো আটকা পরে। কিন্তু পেশাজীবিরা উচ্চতর ফাইনান্সিয়াল মডেল ব্যবহার করে দেখিযেছেন, এই খরচ শতকরা ৩০% ভাগেরও উপরে। সাধারন জ্ঞানের আলোকেই প্রশ্ন করা যায়, শুধু ফাইনান্সিয়াল কস্ট যদি ৩০% এর বেশি হয়, তবে অন্যান্য খরচাদি যোগ করে তা সার্ভিসিং করা সম্ভব করা সম্ভব কি না। তারপরেও কেন গ্রামীন ব্যাঙ্ক গ্রাহকবৃদ্ধি করতে পারছে (১৯৮৩: ৫৮৩২০ জন; ২০০৯:৭৯ লাখ জন)? এবং এই বৃদ্ধিকে তাদের সাফল্য বলে দাবী করতে পারছে যখন তাদেরই প্রকাশিত রিপোর্টে খাতক প্রতি ব্যয় ২০১০ সালে ছিলো ১,০৪৪ টাকা (পয়েন্ট ২৫, http://www.grameen-info.org)। শরৎচন্দ্রের ভাষায় যারা ট্রেন থেকে থেকে গ্রাম দেখেছেন তাদের মতো যারা দুর থেকে দরিদ্রমানুষ দেখেছেন, তাদের কল্পনাতেও আসবেনা দারিদ্র কী ভয়াবহ, কী নিষ্ঠুর। বেঁচে থাকার জন্য দরিদ্রমানুষ যে কোন শর্তে অর্থগ্রহন করবে। এর উপর গ্রামীন ব্যাঙ্কের দেখানো ঝলমলে স্বপ্ন আর কল্পিত সফলদের মিথতো আছেই।

প্রতিটি প্রজেক্টের ক্ষেত্রে একটি সাধারন নিয়ম পালন করা হয়, তা হচ্ছে প্রজেক্টটির মূল্যায়ন এবং ফীডব্যাক। গ্রামীন ব্যাঙ্ক দাবীর মুখেও তাদের মুল্যায়ন রিপোর্ট বাংলাদেশের জনগনের গোচরীভুত করেনি। ফলে আমরা ধারনা করতে পারছিনা, যে উদ্দেশ্যে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠা সে উদ্দেশ্য কতভাগ সফল হয়েছে। যদিও ডঃ ইউনুসের দেশি-বিদেশী ভক্ত ও অধিকারীরা গ্রামীণ ব্যাঙ্ককে সফল বলে জয়ঢাক বাজিয়েই চলেছে। বাংলাদেশের জনগনের কাছে স্বচ্ছ হয়ে জবাবদিহিতা করা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের উদ্দেশ্য নয়। আমরা বিভিন্ন সুত্র থেকে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের সাফল্য হার জানি, তবে তা ব্যক্তিগত সুত্র থেকে সংগৃহিত বলে প্রকাশ করা হলোনা।

ডঃ ইউনূসের “সামাজিক” ব্যবসা:

আমার গাটফিলিং হচ্ছে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ডঃ ইউনুসের এযাবৎকালের সবচেয়ে বিপজ্জনক পদক্ষেপ হবে, উপরোক্ত “সামাজিক ব্যবসা”র ধারনার প্রয়োগ, যা তিনি ইতিমধ্যে ফেরি ও কার্যকর করা শুরু করেছেন। তিনি আমাদের বলছেন, পুঁজিপতিরা সম্পূর্ণ নিজেদের জন্য মুনাফামুক্ত ব্যবসায় পরিচালনা করবে, অবশ্যই ডঃ ইউনুসের নেতৃত্বে, যেখান থেকে তারা কোন লাভ বা ডিভিডেন্ড গ্রহন করবেনা। (কোন পাগলে বিশ্বাস করবে যে মুনাফার গন্ধ না পেলে পুঁজিপতিরা কোন ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করবে?)। যা হোক, ডঃ ইউনূস সে উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ নিজ নিয়ন্ত্রণে ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এরকম কিছু “সামাজিক ব্যবসা” কোম্পানী খুলেছেন। এগুলোর সংখ্যা ২৭ থেকে ৭৮টি হতে পারে বলে ধারনা করা হয় (গ্রামীণ ব্যাঙ্কের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার চাইতে ফ্রিডম অব প্রেস এ্যাক্টের অধীনে পেন্টাগনের সংবেদনশীল তথ্য পাওয়া সহজতর বলে আমি মনে করি।)। এরকম এক কোম্পানী ফ্রান্সের ডেনোন এর সাথে বাংলাদেশের “শিশুদের” জন্য শক্তি দই চালু করেছিলেন। যেন বাংলাদেশের শিশুদের দৈনন্দিন পেটভরে আষ্টেপৃষ্টে খাওয়ার পরে একটু দই খাওয়ালে হজম-টজম ভালো হবে। ইয়ার্কি আর কাকে বলে! প্রায় সাতশ’ কোটি টাকা রিজার্ভে রেখে (যেখানে মুনাফা জমা রাখা আছে) ইচ্ছা করলেই গ্রামীণ ব্যাঙ্ক গ্রামীণ শিশুদের জন্য অন্ততঃ প্রাথমিক স্কুলগুলোতে ফ্রি মিলের ব্যবস্থা করতে পারতো, করেনি। বাংলাদেশের গ্রামের শিশুরা তো আর ডঃ ইউনুসের বিবেচনাযোগ্য নয়! মজার কথা হচ্ছে, ডঃ ইউনূসের এই সহযোগী কোম্পানী মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে কয়েক মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিয়েছে।(লিংক), আরো আছে, ইন্টারনেট ঘাঁটুন। রতনে রতন চিনে…।

তো ডঃ ইউনুসের সেইসব সামাজিক ব্যবসায়ী কোম্পানিগুলোর পুঁজি (পরিমান অজ্ঞাত) এলো কোথা থেকে? সেই নরওয়ে টিভির ডেনিস রিপোর্টার হেইনম্যানের কাছে ফিরে যেতে হয়। গ্রামীন ব্যাঙ্ক ও তার সদস্যদের নামে আসা হাজার হাজার কোটি ডলার এই তথাকথিত কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে ডাইভার্ট করে এবং ফের গ্রামীণ ব্যাঙ্কের কাছ থেকে এর জন্য খরচ আদায় করে (যার শিল-নোড়া, তার ভাঙ্গি দাঁতের গোড়া) তথাকথিত সামাজিক ব্যবসায়ী কোম্পানীর পুঁজি গড়া হয়েছে। এই কোম্পানিগুলো সম্পূর্ণ গ্রামীণ ব্যাঙ্কের সাথে সম্পর্করহিত ও প্রভাবমুক্ত এবং এগুলোর মালিক ডঃ ইউনুস এবং তাঁর পরিবার ও ডঃ ইউনুসের অনুগতবৃন্দ। ফলে, গ্রামীণ ব্যাঙ্ক নিয়ে সরকার যে পদক্ষেপই নিক না কেন, এই তথাকথিত সামাজিক ব্যবসায়ী কোম্পানিগুলোকে সরকার স্পর্শও করতে পারবেনা। এইসব কোম্পানিগুলো নিয়ে নতুন কী ছলনার জাল বোনা হচ্ছে তা ভেবে আমি আতঙ্কিত।

সবাই ভালো থাকুন। সতর্ক থাকুন।