ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ আমাকে (সম্ভবতঃ অর্থহীন) এই ব্লগটি লিখতে প্রনোদনা দিয়েছে। সলিঙ্ক সংবাদটি এবং এনিয়ে আমার ভাবনা-চিন্তা পরে লিখছি। তার আগে একটু ইতিহাস স্পর্শ করে যেতে চাই।

মনুষ্যসৃষ্ট বিভিন্ন চক্রান্তে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয় এবং এর সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিনতি ছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামে সবচেয়ে বেশী ত্যাগ ও অবদান রাখা বাংলা ও পাঞ্জাব বিভক্ত হওয়া। বাংলার কথা আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারি, যেসব অগ্রসর হিন্দু মধ্যবিত্তরা কর্মসুত্রে ভারত বিভক্তির আগে থেকেই কোলকাতা-কেন্দ্রিক জীবনযাপন করছিলো, তাদের জন্য এটি খুব বড় সমস্যার সৃষ্টি না করলেও লক্ষ লক্ষ সাধারন হিন্দুদের জন্য এ ছিলো এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ। কাগজেপত্রে যাই লিখা থাকুক, সাধারন ধারনা যা মানুষের মনে প্রোথিত হয়েছিলো, তা হচ্ছে মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান, হিন্দুদের জন্য হিন্দুস্তান। ফলে অনিরাপত্তার আতঙ্কে, ধর্ম/অধিকার হারানোর ভয়ে এবং সর্বোপরি একশ্রেনীর সুবিধাবাদী মুসলমান প্রতাপশালীদের চাপে ব্যাপক হিন্দুরা তাদের সহায়-সম্পত্তি, বেশি বা কম যা ছিলো, তা ফেলে বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রায় পানির দামে বিক্রি করে ভারতবিভাগ পরবর্তীকালে ভারতে চলে যায়। এরপরের ধাক্কাটি আসে ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কালে ও তার পরের সময়ে। তখনো প্রায় একই কারনে বিপুল সংখ্যক হিন্দু জনগন দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যায়। এ দুটোকেই আমরা Mass Exodus বলতে পারি। কারন এরা আর দেশে ফেরেনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই মানুষগুলোর প্রতি অতীব সহানুভুতিশীল। কারন কোলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গ ভ্রমনের সময় ফেলে আসা ভুখন্ডের প্রতি তাদের মমতা এবং স্মৃতিকাতরতা আমাকে সর্বদাই বেদনার্ত করতো। পাকিস্তান সরকারও হিন্দুদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তিকে Enemy Property পরে Vested Property আইনের আওতায় (সন্মানিত ব্লগার পাগল মনের ঋণ স্বীকার করছি) একপ্রকার দখল করে নেয়। যে আইনটি সম্প্রতি বাতিল হয়েছে।

উপরোক্ত আইন বাতিলের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আনন্দবাজার পত্রিকা যে সংবাদটি ছেপেছে তার লিঙ্ক নীচে।
http://anandabazar.com/26bdesh2.html

সংবাদটির সরলার্থ হলো, ১৯৪৭ বা ১৯৬৫তে দেশত্যাগীরা রীতিমতো একটি সংঘ করে তাদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য ক্ষমতাবান মানুষের সাথে দেখা করে দেন-দরবার করতে চান। আমি এ প্রসঙ্গে পরিষ্কার Disclaimer দিচ্ছি, আনন্দবাজারের সংবাদের সত্যতার নিশ্চয়তা আমার দেয়া সম্ভব নয়। একই সাথে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সংবাদটি প্রকাশের সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া দেয়াও সম্ভব হবেনা।

তবু, ঐসব মানুষদের প্রতি সহানুভুতিশীল হওয়া সত্বেও, আমার মাথায় যে ভাবনাটি এসেছে, তা হলো যদি সংবাদটি সত্য হয় এবং এরকম কোন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসে, তাহলে সরকারের কর্তব্য কি হবে? একি ইতিমধ্যে হাজারো সমস্যা জর্জরিত সরকারের জন্য নতুন সমস্যার ঈঙ্গিত? এতো বছর পরে যদি কেউ তাদের সম্পত্তির দখল চায় তা নিঃসন্দেহে এক ভয়াবহ আইনী ও সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করবে। আমি আশা করবো সরকারের কেউ এনিয়ে ভাববেন। আমরা আর নতুন সমস্যা চাইনা।

ধন্যবাদ।