ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

রাত সাড়ে দশটায় এনটিভির রাতের খবর দেখছিলাম অনেক খবরের মধ্যে দুটি বিষয় আমার কাছে প্রশ্ন হয়ে রইল , বিডি ব্লগে অনেক জ্ঞানী গুণী লেখক পাঠক আছেন যাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরলে আমার জিজ্ঞাসার উত্তর মিলবে আশা করে লিখছি । অনেক ছোটভাই আমাকে গালি দেয় ,আমার কথাগুলো নাকি ওদের কাছে হাবিজাবি মনে হয় । আমি কিছু মনে করিনা ,ওদের আমি নিজ গুণে ক্ষমা করে দেই ,কারণ ক্ষমা মহত্বের লক্ষণ । আসলে আমি হাইপ্রোফাইল চিন্তা চেতনার ধারেকাছে থাকি না , লিখতেও পারিনা । এজন্য ই হয়ত ছোটভাইগুলা রুষ্ট হয় , আর একটা দল আমার কথা পছন্দ করেনা , তারা হচ্ছে রাজাকারদের বংশধর , এদের আমি ছোটভাই বলতে পারলাম না। ওরা না করুক পছন্দ, আমার কিছু যায় আসেনা , ওরা আমার হিসাবে বাতেল ।

এবার আসল কথা বলি , এনটিভির খবর দেখে আমার মনে যে কয়টা প্রশ্ন আসলো সেগুলো বলছি ,

১) বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পবিত্র ওমরাহ পালন করছেন , অত্যন্ত চমত্কার লাগলো , কালো বোরখা পরে তাঁর সফর সঙ্গীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে পবিত্র কাবা তাওয়াফ করছেন , তিনি শারীরিক অসুস্থতা হেতু তাওয়াফের সময় আরেকজন মহিলার সাহায্য নিচ্ছিলেন , পরবর্তীতে সাফা – মারওয়া তে সাই করার সময় হুইল চেয়ারের সাহায্য নেন । তাঁর এত কষ্ট করে ওমরাহ পালন করা দেখে মনটা সত্যি ভালোলাগায় ভরে উঠল । এখানে উল্লেখ্য , ওমরাহ পালনের সময় বরাবরের মত তাঁর পাশেই ছিলেন জনাব ফালু । অন্য কোন প্রশ্ন জাগেনি আমার মনে , শুধু নিজেকে নিজে প্রশ্ন করেছি , ম্যডামের শারীরিক অবস্থার যে অবনতি হয়েছে , এত ধকল কাটিয়ে তিনি কী পারবেন আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের হাল ধরতে ? অনেকে বলে থাকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নাকি ফিজিকেল ফিটনেস এর দরকার পরে। আসলে এটা নিয়ে আমাদের না ভাবলেও চলবে , আমি একটা জিনিস বুঝি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার সময়কার ফিটনেস আর ক্ষমতার বাইরে থাকা সময়ের ফিটনেস এ একটু তফাত থাকে , বাহ্যিক গেটআপেও।

২) সৌভাগের কথা হল , একই খবরে দুই দুই জন টিভি মালিকের ভিডিও চিত্র দেখা । প্রথম জন এনটিভির মালিক এটা আমি উল্লেখ না করলেও আপনারা জানেন , দ্বিতীয় জন দিগন্ত টিভির মালিক মাওলানা মীর কাশিম আলী খান । খবরে দেখাচ্ছিল উনি সিঁড়ি বেয়ে বিজয়ীর বেশে ধীর লয়ে নেমে আসছেন , আমি প্রথমে তাঁর হাস্যোজ্জল ভঙ্গিমা এবং আপামর জনগণের শুভেচ্ছার জবাবে হাত নেঢ়ে টা টা দেওয়ার ভঙ্গিমা দেখে ভেবেছিলাম রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বিমানবন্দরে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছেন । কিন্ত পরক্ষনেই পুলিশ , উকিল হাবিজাবি দেখে বুঝলাম আদালত । যাহোক সুলতান মির্জা ভাইয়ের ব্লগ পড়ে তাঁর সম্পর্কে বিশদ জানার সৌভাগ্য হলো , ধন্যবাদ মির্জা ভাই ।

আমার মনে প্রশ্ন জাগলো উনি যদি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করে থাকেন ( মির্জা ভাইয়ের লেখা অনুসারে ), তাহলে এমন করে টা টা দিলেন কেন ? আমরা আদালত পারায় সাধারনত চোর ডাকাত ধর্ষক খুনিদের লজ্জিত হয়ে মাথা নিচু করে চলতে দেখি , এজন্য একটু খটকা লাগলো । আমার স্মরণশক্তি দুর্বল হওয়াতে পিছনের ঘটনা গুলো একটু পরে মনের পর্দায় ভেসে উঠল স্লো মোশনে ..। হ্যা আমিতো এর আগেও টিভির খবরে দেখেছি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য আদালতে নিয়ে আসার পর মাওলানা নিজামী , মাওলানা সাঈদী , মাওলানা কামরুজ্জমান ,মাওলানা মুজাহিদ , সিড়ি দিয়ে নামার সময় টিভি ক্যামেরা দেখামাত্রই টা টা দেয়। ব্যপারটা এত জরুরী যে সাঈদী সাব হাতের পানির বোতল পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়ে তারপর টা টা দেন । তারপর বাবর সাব , খাম্বা মামুন সাব , আমান সাব , ফখরুল সাব , ডা : খন্দকার সাব , মৌদুধ সাব , ইত্যাদি অনেক সাবেরা আদালতের সিঁড়ি দিয়া নামার সময় ভি এর মত করে শাহাদত এবং মধ্যমা অঙ্গুলি দেখাতেন। এটা দেখে একসময় আমাদের গৃহকর্মী বলেছিলেন , ” দুই আঙুল দেহাইয়া তেনারা বলতাছেন , আমরা ক্ষমতায় গিয়া দুই আঙুল দিয়া খুচাইয়া চক্ষু তুইল্লা ফালবাম ।”

গৃহকর্মীকে আমি বুঝলাম যে এটা ভিক্টরি চিহ্ন ,ভয়ের কিছু নেই । তাঁরা বোঝাতে চাচ্ছেন , গ্রেফতার হয়ে তাদের জয় হয়েছে ,সরকার হেরে গেছে । আমি যতই ওকে অভয় দেবার চেষ্টা করিনা কেন , ভিতরে ভিতরে দুই আঙুল চক্ষু কোটরে প্রবেশ করিয়ে চোখ তুলে ফেলবার ভয় আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল । আসলে উত্তর কী হবে? টা টা দিয়ে ,দুই আঙুল দেখিয়ে আসামীরা কী বোঝাতে চায় ? এখন যদি দেখাদেখি অরাজনৈতিক খুনী ধর্ষক লুটেরা আসামীরা আদালতে ঢুকতে এবং বের হওয়ার সময় সবাইকে টা টা দেয় বা হাত উঁচু করে হাতের তালু পাঁচ আঙুল সমেত দেখায় অথবা ভি চিহ্ন দেখায় ব্যপারটা কেমন হবে ?

যাক প্রশ্ন দুইটা লিখে প্রকাশ করতে পেরে খুব হালকা লাগছে ।