ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ব্যারিস্টার রফিক ,আপনি মানসিক ভাবে সুস্থ্য আছেন তো? আপনি তো আইনের লোক (ব্যবসায়ী )। হঠাত্‍ আপনার মাথায় দেশের সার্বিক দায়িত্ব নেয়ার ভূত চেপে বসল কিভাবে ? আপনি কী নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল আছেন। হঠাত্‍ ইয়াজুদ্দিনোম্যানিয়া রোগে আক্রান্ত হলেন কিভাবে ? ২০০৬ সালে যখন তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়ে বিতর্ক চলছিল , আকস্মিকভাবে ইয়াজউদ্দিন সাহেব খায়েশ প্রকাশ করলেন সবার উপকার হলে আমি দায়িত্ব নিতে রাজি আছি । যেমন কথা তেমন কাজ । রাতও পোহাতে পারলনা ,ফরমান জারি হয়ে গেল ,এই বঙ্গ মুল্লুকে ইয়াজুদ্দিনের চেয়ে যোগ্য তত্ত্বাবধায়ক প্রধান আর নেই । এর পরের ইতিহাস আপনার ভালই জানা আছে ।

আপনি যে বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে এসে এরশাদ করলেন, তত্ত্বাবধায়ক তো হবেনই যদি দেশের আরো বড় কোনও দায়িত্ব নিতে হয় তাতেও আপনি রাজি আছেন ! বাহবা , বাহবা ! তার মানে , প্রেসিডেন্ট হতে বললেও আমি কী না করতে পারি? শত হলেও দেশ বলে কথা । সেই বিএনপি নেত্রী পরবর্তীতে ইয়াজুদ্দিনের সঙ্গে কী আচরণ করেছিলেন, আপনি নিশ্চয়ই জানেন।

জনাব রফিক , আপনি যখন থেকে আবোল তাবোল বকা শুরু করেছেন ,তখন থেকেই আমি নিজেকে নিয়ে খুব চিন্তায় পড়ে গেছি । শুধুই ভাবনায় আসে ,আহারে আমি যদি বেঁচে থাকি এরকম বয়সে তাহলে আমিও আবোল তাবোল বকে হাস্যাস্পদে পরিণত হব ।

জনাব রফিক , সেদিন শুনলাম, রায়ে সন্তুষ্ট না হয়ে আপনি বলছেন ” জজ সাহেবরা কোথা থেকে আইন শিখে এসেছেন ” ।

সব রায় আপনার মনমত হতে হবে তাহলে আপনি ই বিচারকের আসনে বসতেন । বিচারকের কাছে না গিয়ে আপনার চেম্বার থেকে ডিকটেশন দিয়ে বিচারককে বলে দিতেন যে , এই মামলায় এই রায় দিয়ে দেন ,যুক্তিতর্কের প্রয়োজন নেই ।

আপনি যে বিচারালয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করে আজকের ব্যরিস্টার রফিক হয়েছেন , সেই বিচারালয়ের বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে , বিচারকদের সম্পর্কে এহেন মন্তব্য করে আপনি নিজেকেই খাটো করেছেন ।

আপনার মধ্যে এমন একটা কনফিডেন্স তৈরি হয়েছে যে, তত্ত্বাবধায়ক প্রধান বা প্রেসিডেন্ট পদ অথবা দুটোই আপনি পেয়ে যাবেন , শুধু বাকি রেখেছেন সেনাবাহিনী প্রধানের পদটি ।

এবার ছোট করে বলি , আপনি বিশ্বাস যোগ্যতা হারিয়েছেন সেদিন ,যেদিন আচমকা ইলিয়াস আলীর বাড়িতে গিয়ে ঘোষণা দিলেন —-” আমি মোর দেন সিওর ইলিয়াস আলীকে সরকার আটকে রেখেছে “, ভেরী সিলি মি:ব্যারিস্টার । আপনি যদি জেনেই থাকেন মি: ব্যারিস্টার তাহলে ইলিয়াস আলীকে বের করে দিন ,সরকার কোথায় তাকে লুকিয়ে রেখেছে। আপনি তো হিরো বনে যাবেন । সরকার যদি সত্যি সত্যিও ইলিয়াস আলীকে লুকিয়ে রাখে প্রমাণ ছাড়া চমক তৈরি করা কথা বলতে পারে একজন রাজনীতিবিদ , আপনার মত একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় সিনিয়র সিটিজেন নয় ।

এভাবেই এরকম স্টান্টবাজ ব্যাক্তি কখনোই রাষ্ট্রের কর্ণধার হতে পারেন না । আপনার হাতে এ গুরুদায়িত্ব কখনোই নিরাপদ হবেনা । অতএব আপনি যেখানে আছেন সসম্মানে আছেন , দেখুন কে আপনাকে এরকম (কু)বুদ্ধি দিয়ে এই বয়সে অসম্মানিত করতে চায় ।

রাজনীতিতে আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ থাকতেই পারে , কিন্তু এটা যখন আপনি নিজেই প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন তখন আর নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক ইত্যাদি তকমা আপনার শিরে শোভা পেতে পারেনা ।

ব্যারিস্টার রফিক, আপনি দীর্ঘজীবী হন ।