ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

জনাব নাজমুল আরেফিনের ব্লগের ধারাবাহিকতায় আমার উপলব্ধি, জবাব লম্বা হয়ে যাওয়ায় পোস্ট আকারে দিলাম। ইসলামী জঙ্গি শব্দটি সৃষ্টির পিছনে শুধু পশ্চিমাদের আর বামপন্থীদের একতরফা দোষারোপ করে পার পাওয়া কি সহজ হবে ? ইতিহাসের পাতায় পাতায় লুকানো আছে , আজ যারা ইসলামী জঙ্গীতে পরিণত হয়েছে তাদের জঙ্গিবাদের হাতেখড়ি হয়েছে পশ্চিমাদের অস্ত্রবাজির বিদ্যালয়ে । এটা করেছে এই জঙ্গিরা ইসলামের ঝাণ্ডা উড্ডীন হবে সে জন্য নয় বরং নিজেদের বাণিজ্য (বৈধ বা অবৈধ) ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রকাণ্ড দৈত্যাকৃতি করার জন্য ,এবং তারা করেছেও তাই ।

ব্রিটিশ ভারতে মোল্লারা ( তখনও ইসলামী চিন্তাবিদ তকমা জোটেনি ) গুটিয়ে যাওয়া শুওপোকার মত জীবনযাপন করত । স্বাধীনতা বোধ বলতে কিছুর সঙ্গে ওদের পরিচয়ই ছিলনা , তবে দু’য়েকজন নেতৃস্থানীয় ছিলেন ব্যতিক্রমী । কারণ ওরা যাদের কাছে শিক্ষা নিত তারা শিক্ষাই দিত মাথা নত করে চলার। ভীরুতা যাদের নিত্যসঙ্গী । ১৯৭১ সালে সাড়ে সাত কোটি জনগোষ্ঠীর প্রায় সাত কোটি ই ছিল আল্লাহ ভীরু মুসলমান । ওই সময় এই মোল্লা শ্রেণী সাত কোটি মুসলমানের স্বাধিকারের চেতনার বিরুদ্ধে চলে যায়, ইসলামের দোহাই দিয়ে নরহত্যা আর নারী ধর্ষণের উত্সবে মেতে উঠেছিল এবং এর পিছনে ওরা মদদ পেয়েছিল কিন্তু আপনার উল্লেখিত পশ্চিমা মার্কিনীদের,

বিধর্মী চীনাদের। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ওরা ভোল পাল্টে জেহাদী জজবা শুরু করলো , মানুষ ওদের আর বিশ্বাস করতে পারেনা, কারণ বিগত ৫০/ ১০০ বছরের ওদের কার্যকলাপ যদিও তা ইসলামী বেশভূষা আবৃত । ইদানিং কালে ওদের সঙ্গে পশ্চিমা দূতাবাসের দহরম মহরম ,দাওয়াত আপ্যায়ন , স্কার্ট পরিহিত বিউটেনিস কে দিয়ে ইমাম সম্মেলন উদ্বোধনকরন, বিউটিনিসের কাছ থেকে ইমাম সম্মেলনে মানবতার সবক নেওয়া ইত্যাদি ওদের কপটতাকে আরও খোল্লা করেছে ।

আফগানিস্তানে এখন যারা ইসলামী জঙ্গি হয়েছে ওরা অনধিক কাল পূর্বে মার্কিনীদের কাছ থেকেই জঙ্গিবাদের ট্রেনিং নিয়েছিল । তখন নাসারা-বেদ্বীনদের সংস্পর্শে গিয়ে ওদের স্নেহাশিষ দোয়া নিয়েইতো আজকের জেহাদী তাইনা ?

পাকিস্তানের জানে জিগার ছিল মার্কিনী আর চীনারা , আজ যারা পাকিস্তানী তালেবান ওদের চিরদিনের মুখোশ তো ইসলামী মুখোশই ছিল নাকি ? পাকিস্তান খাতরেম্যা হ্যায় তো ইসলাম ভি খাতরেম্যা হ্যায়, এতো আজকের ইসলামী জঙ্গিদেরই অমিয় বাণী । ওরা এই মার্কিনীদের আর চীনাদের নিয়েইতো ইসলামকে ক্ষাত্‍রামুক্ত করতে চায়?? তাইনা ? ভাই এই জানে জিগার দোস্ত মার্কিনী ইহুদি আর বেদ্বীনদের সঙ্গ নিয়ে ইসলাম কায়েম রাখার ভূতকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঠিক চিনে নিয়েছে। আফগান আর পাকিস্তানীরা ইসলামের জন্য এমন কোনও উদাহরণ তৈরি করেনি যে তাবত মুসলমান সমাজের কাছে তারা প্রাত:স্মরণীয় থাকবেন ।

” এতে নিজেদের পায়ে নিজেরা কুড়াল যেমন মারছি তেমনি তাতে করে সাম্রাজ্যবাদীদের পতাকা অজ্ঞানে আরো উপরে তুলছি বৈকি?” — আপনার লেখার এই বাক্যটি এই ইসলামী জঙ্গিরা এভাবেই সত্যে পরিণত করছে ।

“আজ আফগানের সবাই অসভ্য-সন্ত্রাসী, আজ পাকিস্তানের সবাই বর্বর-তালেবান; কাল যেন এমন না হয় সাম্রাজ্যবাদের পাঁয়তারায় প্রতিটি বাংলাদেশিকে ঐ একই ব্র্যান্ডের লোগো দ্বারা পরিচিত হতে হচ্ছে।” — না জনাব, প্রতিটি বাংলাদেশীকে জঙ্গির লেবেল সেঁটে দেওয়া যাবেনা, কারণ জঙ্গিবাদের হোতাদের কপটতা, মূর্খতা, ইসলামী লেবেল বেচাকেনা সম্পর্কে ৯৫% বাংলাদেশী সম্পূর্ণ সচেতন । এই ৯৫% বাংলাদেশী, তা হোক আওয়ামী লীগ , বিএনপি বা জাতীয় পার্টি সমর্থক, একটি বিষয়ে সকলেই একমত ….জঙ্গি হঠাও, শঠতা হঠাও, জঙ্গিবাদের শিকড় তুলে নাও ।

জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ সকলের দাবি .