ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

গত কয়েক দিন ধরে আমরা ঢাকাবাসী এবং সারা দেশবাসী সন্ত্রস্ত অবস্থায় দিন কাটচ্ছি । রাস্তা টোকাই এবং হামলাকারীদের দখলে । গাড়ি ভাংচুরের উত্সবে মেতেছে হায়েনার দল । গাড়ি গুলো কার? সব গাড়ি নিশ্চয়ই আওয়ামী লিগারদের নয় । সব গাড়ি নিশ্চয়ই সরকারের নয় যে গাড়ি গুলো ভেঙে সরকারকে ভয় দেখানো হচ্ছে । এই গাড়ি গুলো নিশ্চয়ই ফখরুল খালেদাদের নয় ,গাড়ি গুলো নিশ্চয়ই গোলাম আযম বা তার স্যাঙাতদের নয় । খালেদা ফখরুলরা এত কমদামি গাড়িতে চরেনওনা , ওনাদের আয়ের সঙ্গে অত দামী গাড়িতে চড়া সঙ্গতিপূর্ণ কিনা তা অবশ্য ভিন্ন প্রশ্ন ।

হঠাত্‍ ডিসেম্বর মাসে খালেদা ফখরুল আর গু আযমের স্যাঙাতদের মাথা এত গরম হয়ে উঠল কেন ? দেশবাসীর প্রশ্ন । হঠাত্‍ অবরোধের কী প্রয়োজন হয়ে পড়ল ? অবরোধের আগে ফখরুল দেশবাসীকে হুমকি দিয়ে বললেন , গাড়ি বের করবেননা । অবরোধ যদি জনগণের অধিকার আদায়ের মাধ্যম হতো ,তাহলে জনগণকে ফখরুলের ভয় দেখানো কেন ? গাড়ি রাস্তায় বের না হলে অনেক পরিবারের সংসার খরচের টাকা যোগাড় হয়না , সবাই তো আর খালেদা জিয়ার পুত্রদের মত সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেয়নি । লেখা পড়া নেই, চাকুরী নেই , প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী নয় ,কিন্তু অফুরন্ত ধনরাজি।

ফখরুলের মত ধনী মাস্টার মশাইও নয় যে মন্ত্রী হবার খায়েশে সারাদিন খালেদাজিয়া আর তার পুত্রদের ভবিষ্যত নিয়ে গবেষণায় দিন গুজরান করলেও তার ঘরে জৌলুসের কমতি নেই ।

মি: ফখরুল , আপনি মন্ত্রী হবেন , আপনার নেত্রী প্রধান মন্ত্রী হবেন , আপনার নেত্রীর পুত্র প্রেসিডেন্ট হনবেন , খুব উত্তম চিন্তা । কিন্তু রাস্তায় অতশত গাড়ি ভাঙ্গানোর নির্দেশ দিয়ে টোকাই বাহিনী দিয়ে যে গাড়ি গুলো ভাংছেন এগুলোকি আপনার বাপের টাকায় কেনা? যে টোকাইদের দিয়ে গাড়ি গুলো ভাংগাচ্ছেন সেই টোকাইদের বাপের টাকায় কেনা এই গাড়ি গুলো ?

এমন অনেক বাস মালিক আছেন ,এমন অনেক লেগুনা মালিক আছেন ,এমন অনেক সিএনজি অটোরিকশার মালিক আছেন যাদের জীবন ধারনের ব্যবস্থা হয় এই একটি মাত্র গাড়ির আয় থেকে । পথে বসিয়ে দিচ্ছেন একেকটি পরিবারকে আপনি মি:ফখরুল আর আপনার নেত্রী । কারণ কী ? একটাই, আপনার নেত্রী এবং তার মানসিক শারীরিক সক্ষমতাহীন কুপুত্রদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন করবেন ,এইতো ?

মি : ফখরুল সরকারের অপশাসনের প্রতিবাদে আপনার নিজের গাড়িটি রাস্তায় এনে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দুনিয়াকে দেখান , প্রয়োজনে নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানান । তবু শত শত পরিবারের একমাত্র আয়ের উত্স একেকটি গাড়িতে আগুন দিয়ে সংসার গুলোকে পথে বসাবেন না ।

আরেকটি কথা, আপনারা ক্ষমতায় যাবার সিড়ি প্রস্তুত করার জন্য এই গরীব মানুষগুলোর গাড়ি না পুড়িয়ে যাদের বিশ ত্রিশ বা পঞ্চাশটা বাস আছে তাদের একটা বাসে আগুন দিয়ে দেখুন তো আপনার পায়ের নিচে মাটি থাকে কিনা ।

কিছুক্ষণ আগে জানা গেল আপনি মি:ফখরুল কে পুলিশ আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করেছে । এখন এটা দেশবাসীর দাবি আপনাকে রিমান্ডে নিয়ে উপযুক্ত চিকিত্সা দেওয়া হোক ।
যত গাড়ি আপনার নির্দেশে এ কয়দিনে আগুন দিয়ে পোড়া হয়েছে ,সব গাড়ির মালিক এবং তাদের পরিবার পরিজনের সামনে আপনাকে হাজির করা হোক , আপনি দেখুন, ওদের মুখ থেকে শুনুন কী অপূরণীয় ক্ষতি আপনার নির্দেশে টোকাই গুলো করেছে ।

এভাবে চলতে থাকলে দেখবেন সামনে এমন দিন আসবে , আপনাদের নেতাদের গাড়ি ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার জন্য এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলো লাঠি নিয়ে আপনার এবং আপনাদের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যাবে । সাবধান হয়ে যান ,এখনো সময় আছে ।

আপনার টোকাই বাহিনী গবতলীতে একজন জার্মান স্থপতি আনা হেরিংগার এর গাড়ি ভেঙে চুরমার করে চালককে আহত করেছে , আপনার এবং আপনার সহযোগী রাজাকার টোকইরা মার্কিন দূতাবাসের গাড়িতে হামলা চালিয়ে চুরমার করে দিয়েছে । রাজাকার গোষ্ঠীতো ক্ষমা চেয়েছে মার্কিন দূতাবাসে , এখন আপনার নেত্রী ক্ষমা চাইবে জার্মান দূতাবাসে । জার্মান দূতাবাস ইতিমধ্যেই কড়া প্রতিবাদপত্র পাঠিয়েছে আপনার নেত্রীর বরাবরে ।

পরিশেষে , জনগণের গাড়ি ধ্বংস করার অপরাধে আপনার রিমান্ড মঞ্জুর হবে , আদালতে মামলা হবে , দ্রুত বিচার আইনে আপনার সাজা হবে এটা আমাদের সকলের দাবি । রাজনৈতিক দলের নেতারা এথেকে শিক্ষা নিবে , এমনকী আওয়ামী লীগের নেতারাও ভবিষ্যতে গরীব গাড়ি- মালিকদের গাড়িতে আগুন দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার সোপাণ তৈরি থেকে বিরত হবে । তবে শুরুটা হোক আপনাকে সাজা দেওয়ার মধ্য দিয়েই ।

ভবিষ্যতে যে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জনগণের জানমালের ক্ষতি হবে ,সে দলের মহা সচিবকে দায়ী করে আইনের আওতায় আনার আইন করতে হবে , আমরা এই দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক নেতাদের শাস্তি চাই ।