ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

আজ ০৭ জুন ২০১৪ । বাংলাদেশ নির্যাতিত বাড়ী-মালিক জাগরণ মঞ্চের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হল । বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী মহোদয় বাজেট বক্তৃতায় ঢাকা সহ সারাদেশের নিরীহ বাড়িমালিকদের বিরুদ্ধে এক দূরভিসন্ধিমূলক চক্রান্তের সুচনা করেছেন । যা দেশবাসী এরইমধ্যে জানতে পেরেছেন ।

 

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমি এই মুহূর্তে বাড়িমালিকদের ক্রান্তিলগ্নে ঢাকায় অবস্থান করছিনা । গত এক সপ্তাহ ধরে আমি কানাডার পিটারবোরো শহরে এসেছি আমার দুই ছেলের একজনের ট্রেন্ট ইউনিভারসিটি কনভোকেশন সেরেমনিতে অতিথি হয়ে । ৩ জুন তারিখে অতুলনীয় এক আনন্দের মধ্য দিয়ে বড় ছেলের গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছি ।

ইনশা আল্লাহ আমি শিঘ্রই ঢাকায় এসে বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের এরকম দুষ্কৃতীর প্রতিবাদে সোচ্চার হব ।

 

এর পরপরই ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয় এমন একটি দুঃখে মনটি ভারাক্রান্ত হয়েছে , বিডিনিউজ২৪ ডট কম পড়ে যখন দেখলাম ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র উজ্জল তরুন মাহবুব  শাহিন হতাশায় নিমিজ্জিত হয়ে রেল লাইনে শুয়ে থেকে আত্মহত্যা করেছে । যদিও ব্যক্তি পর্যায়ে হতাশা থেকে পরিত্রান দেয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় । তারপরও এরকম টগবগে উজ্জ্বল তরুণটি কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হল এবং এথেকে পরিত্রানের উপায় বের করা কেন সমাজ এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবেনা ?

মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয় হতাশায় নিমজ্জিত মাহবুব শাহিনদের আত্মহত্যার মত নির্মম সিদ্ধান্ত থেকে বাঁচানোর জন্য কি ভাবনা রেখেছেন তাঁর বাজেট ভাবনায় ? রাজনীতির কূট বুদ্ধির চেতনায় মাহবুব শাহিনদের বাঁচানোর মানবিক ভাবনার সময় কোথায় অর্থমন্ত্রীদের ?

আরেক মন্ত্রীর মাথায় ঢুকেছে বাড়ী বাড়ী ইটিপি স্থাপনের ভুত । ব্যবসা ফাঁদার এইতো সময় । ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে এরা কোন ফিকির করছে , মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেখা উচিত । আবুল মাল রা সব কয়টা সিটি কর্পোরেশন খেয়েছে , এখন ঢাকা কে ডুবানোর ফন্দিতে আছে , টেকোরা !!

মুল বিষয়ে আসি । অর্থমন্ত্রী মহোদয় তার নতুন বাজেট ভাবনায় নাগরিকদের নতুন একটি সমস্যার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন । একধাপ এগিয়ে NBR এর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেছেন , তিনি নাকি এক লক্ষ ষাট হাজার বাড়ী চিহ্নিত  করেছেন ট্যাক্স আদায়ের খায়েসে । গোলাম হোসেন সাহেব , এই বাড়ীর মালিকরা যখন বাড়ী বানিয়ে প্রথম অন্যায়টি করেই ফেলেছেন  তখন আপনার ডিপার্টমেন্টের ছুঁচো কর্মকর্তা কর্মচারীরা দল বেঁধে হামলা চালিয়ে বাড়ী মালিকদের কাবু করে ফেলেছে । ডর ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকাটি ঐ ছুঁচোরা প্রথমে নিজেদের বউ বাচ্চার খোরাকি হিসেবে নিয়ে সামান্য কিছু সরকারের কোষে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে ।

এর পরের ধাপে হাজির হয়েছে আরেক দল ছুঁচো । এরা সিটি কর্পোরেশনের ছুঁচো । হোল্ডিং ট্যাক্স এর বোঝা আপনার মাথায় চাপিয়ে দিয়ে আপনার ঘাড় ভেঙ্গে দিবো হ্যাঁ ! এই ভয় দেখিয়ে আপনার কাছ থেকে এরা আবার একটি অংক নিয়ে যাবে ওদের বউ বাচ্চাকে খোরপোষ দিতে ।

এরকম ভাবে ইনকামট্যাক্স / হোল্ডিংট্যাক্স ওয়ালারা বাড়ী মালিকদের বাড়ী বানানোর অপরাধে বউ বাচ্চার খোরপোষ বাবদ টাকা পয়সা নেয় , এখানে উল্লেখ্য ইনকাম ট্যাক্স হোল্ডিং ট্যাক্স ওয়ালারা অন্যদের কাছ থেকে খোরপোষ নিয়ে ওদের বউ বাচ্চা নিজেদের বাড়িতেই রাখে , বাড়ী ওয়ালাদের কাছে নয় ।

 

এখন নতুন উৎপাত শুরু হবে বাড়ীভাড়া থেকে কিভাবে লুটেপুটে নেওয়া যায় কিছু টাকা । ভাড়াটিয়া মহলও দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে নাচানাচি শুরু করেছে । কিন্তু ওরা ভাড়াটিয়ারা জানেনা সামনে ওদের জন্য কি সুসময় অপেক্ষা করছে ।

বাড়ীওয়ালাদের সব দুঃখের কথা একদিনে বলে শেষ করা যাবেনা । তাই বাড়িমালিকদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই এখন দুর্গ গড়ে তোলার সময় এসেছে । এই লক্ষ্যে আমি বাংলাদেশ নির্যাতিত বাড়ী-মালিক জাগরণ মঞ্চ ব্যানারে সকল বাড়ী মালিক ভাইদের একত্রিত হওয়ার আহবান জানাচ্ছি ।  প্রয়োজনে আমরা অনতিবিলম্বে প্রেস ক্লাবের সামনে মানব বন্ধন করে বাড়ী মালিকদের রক্ষা করার আন্দোলন বেগবান করবো ।

এ লক্ষ্যে আমি প্রাথমিক কয়েকটি প্রস্তাব রাখতে চাই ।

১/ সবার আগে NBR  এর কর্মকর্তা কর্মচারীদের নামে এবং বেনামে ঢাকা সহ বড় শহর গুলোতে কার কয়টি বাড়ী আছে এবং তা থেকে তাঁরা কত টাকা বাড়ী ভাড়া পায় , এবং তাঁরা কত টাকা আয়কর দিয়েছে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে ।

 

২/ বাড়ী ভাড়ার উপর নির্ধারিতব্য কর ভাড়াটিয়াকে পরিশোধ করতে হবে । যেমনি ভাবে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় রোগীকেই যাবতীয় ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয় , যে হাসপাতাল বা ক্লিনিক বিপুল ব্যবসা করে নিচ্ছে  তাদের কর দিতে হয়না ।

৩/ হোটেলে অবস্থানকারী গ্রাহককেই কর +ভ্যাট পরিশোধ করতে হয় , হোটেল মালিক কর পরিশোধ করেনা , তেমনি ভাবে ভাড়াটিয়া সেবা গ্রহণকারী হিসেবে বাড়িভাড়ার উপর ট্যাক্স ভাড়াটিয়াকেই পরিশোধ করতে হবে ।

 

৪/ ভাড়াটিয়া ভাই বোনদের সহযোগিতার লক্ষ্যে প্রয়োজনে ভাড়াটিয়া ভাইবোনদের সরকারী নগদ সহায়তা দিয়ে সাহায্য করতে হবে ।

 

৫/ কোন সুযোগ সন্ধানি আমার প্রস্তাবিত বাংলাদেশ নির্যাতিত বাড়ী-মালিক জাগরণ মঞ্চ নামটির আগে শেখ রাসেল বা শেখ জামাল যুক্ত করার দুরভিসন্ধি হৃদয়ে পোষণ করলে তাঁকে এই মঞ্চ অনুৎসাহিত করবে ।

 

এখানে আমি সকল বাড়ী মালিক ভাইদের আহবান জানাচ্ছি , বাড়ী মালিকদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য আপনারা আরও কিছু গ্রহণযোগ্য প্রস্তাবনা আনতে পারেন ।

 

বিঃ দ্রঃ  ইনাকাম ট্যাক্সের কর্মকর্তা কর্মচারীদের { গোলাম হোসেন সহ } নামে বেনামে যেখানে বাড়ী /  ফ্লাট আছে  , যারা তাদের সম্পর্কে তথ্য জানেন এখানে সেইসব বাড়ী / ফ্লাটের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে বাংলাদেশ  নির্যাতিত বাড়ী-মালিক জাগরণ মঞ্চ কে সাহায্য করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে ।

 

” বাংলাদেশ  নির্যাতিত বাড়ি-মালিক জাগরণ মঞ্চ  ”  জাগ্রত হোক ।