ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

20_Khaleda-Zia_241214_0002
গতকাল ২৪ ডিসেম্বর বকশিবাজারে স্থাপিত আদালতে খালেদা জিয়া গিয়েছিলেন এতিমদের টাকা লোপাট করে জৌলুস পূর্ণ জীবন যাপনের মামলায় হাজিরা দিতে। উনার মত একজন আসামি মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে চিহ্নিত ভাড়াটে সন্ত্রাসি লেলিয়ে দিয়ে যেরূপ লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তাতে পুরো জাতি লজ্জিত। কথায় বলে, চোরের মায়ের লম্বা গলা, অথবা  একবার কান কাটা গেলে দূর পথ দিয়ে হাঁটে চোর, দুইবার কান কাটলে যায় বাজারের মধ্য দিয়ে। বেগম খালেদা জিয়ার হয়েছে সে অবস্থা। একে তো লজ্জার ব্যাপার। এতিমদের টাকা চাপলিশে মেরে খাওয়ার মামলা, তার উপর সাজা হওয়া প্রায় নিশ্চিত, সেখানে অনুশোচনা দূরে থাক, উল্টা গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ! এক বছর আগেই তো আগুন দিয়ে মানুষসহ গাড়ি জ্বালিয়ে দেশের তাবৎ জনগনের ঘৃনার থুথুতে ভেসে গেছে খালেদার ক্ষমতার মসনদে বসার স্বপ্ন।

এভাবে জনগনের সম্পদ, যান এবং জানমালের ক্ষতি করে ওরা ক্ষমতার মজা চেটেপুটে খাবার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে আবার। এবার এসেছে প্রতিরোধের সময়! ওরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না! জনতার প্রতিরোধ একসময় প্রতিশোধের আগুনে রূপ নেয়।

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ সাহেব হঠাৎ আজ ঘুম থেকে উঠেছেন। তিনি বলেছেন – আপনাদের গাড়িও ভাঙ্গা হবে। আজকে হানিফ সাহেব এত তাড়াতাড়ি প্রতিক্রিয়া দিলেন, কেন ? আপনার দলের নেতা, আপনার দলের সাংসদ ছবি বিশ্বাসের গাড়ি ভেঙ্গে জ্বালিয়ে দিয়েছে, তাই ?

জনাব, আমরা ব্যাক্কেল পাবলিক এখন অনেক কিছু প্যাঁচঘোঁচ বুঝতে শিখেছি। আমাদের চালাক বানাবেন না দয়া করে। ২০১৩ সাল জুড়ে খালেদা-নিজামি চক্রের ভাড়াটে গুণ্ডাদের হাতে কত গাড়ি ভাংচুর হয়েছে, কত গাড়ি, কত সম্পদ পুড়ে ছাই হয়েছে। কত মানব সন্তান গাড়ির ভিতর জ্বলেপুড়ে কাবাব হয়েছে, আপনার মনে থাকার কথা। আমাদের মনে আছে, আপনি তখন এমন ব্যাকুল হয়ে কখনই বলেননি ,’আপনাদের গাড়িও ভাঙ্গা হবে’।

কিন্তু এবার আপনি হুঙ্কার দিয়েছেন রীতিমত। কারণ একটাই। আমরা বুঝি। কারণ জ্বলন্ত গাড়িটি আম মানুষের নয়। গাড়িটি ছবি বিশ্বাস এর। ছবি বিশ্বাস কে? আপনার দলের সংসদ। সবই পরিষ্কার। সত্যিই যদি আম জনতার জন্য আপনাদের মাথা ব্যথা থাকত, আপনারা অনেক আগেই এরকম প্রতিরোধের কথা বলতেন।

বলেননি মানলাম, এখন বলতে হবে। এখন জনগনের সম্পদ যান ও জানমাল রক্ষার দায়িত্ব আপনারা নিয়েছেন ৫ জানুয়ারি। আপনার দলের ছাত্র নেতাকর্মী, যুব নেতাকর্মী, যারা মোটর সাইকেল দাবড়িয়ে নেতাদের গার্ড অব অনার দিয়ে এদিক-সেদিক নিতে গিয়ে আম মানুষদের বিরক্তি উদ্গীরণ করায়, যারা এখন সরকারি দলের লেজুরবৃত্তি করে ক্ষমতার দাপটে অন্ধ হয়ে গেছে তাদের চোখটা একটু খুলতে বলুন। কান খোলা রেখে আম মানুষের কথাগুলো শুনতে বলুন। ওদের বলুন – তোদের ক্ষমতার কিছু অংশ ব্যবহার করে ওই সব হায়েনাদের প্রতিহত করার অঙ্গিকার কর, যারা আন্দোলিত হয়ে আন্দোলনের হুম্কি দিচ্ছে। আন্দোলনের নামে আমজনতার সম্পদ জ্বালিয়ে খাক করে ক্ষমতার মসনদে বসার হুঙ্কার দিচ্ছে। তোরা এখনই ওদের প্রতিরোধ কর!

এখনি প্রতিরোধ করার অঙ্গীকার করুন, প্রয়োজনে স্ট্রাইকিং ফোর্স তৈরি করুন, নতুবা আইন করুন তাৎক্ষনিক বিচারে কমপক্ষে ৫ বছরের জেল হবে তাদের, যারা আন্দোলনের নামে রাস্তায় নিরীহ জনগনের গাড়ি ভাঙবে, জ্বালাবে। আরেকটি স্ট্রাইকিং ফোর্স তৈরি করুন, যারা প্রত্যেকটি বিশৃঙ্খলার পর বিএনপি-জামাতি নেতাদের সেই পরিমান গাড়ি ভেঙ্গে জ্বালিয়ে দিবে, আন্দোলনের নামে বিএনপি জামাতি ক্যাডাররা যে কয়টি নিরীহ আম জনতার গাড়ি ভাঙবে।

এবার অগ্নি সংযোগকারীদের রেহাই নেই, এবার হবে প্রতিরোধ! তবে , খেয়াল রাখতে হবে প্রতিরোধ করতে হবে আগেই। জ্বি হ্যা , প্রতিশোধের আগুন জ্বলার আগেই!