ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
04_Fire_Bus_Tejgaon_03022015_0004

আমদের মহান নেত্রী সোয়া দুইবারের প্রধানমন্ত্রী, সাবেক ‘শহীদ’ রাষ্ট্রপতি জিয়ার স্ত্রী, দুই দুইটি সোনার ছেলের জন্মদাত্রি মাতা, আপোষের শত্রু আপোষহীন নেত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পারিবারিক আকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা!

ক্ষণে তার কার্যালয়ে বিদ্যুত সংযোগ কাটা হয়, ক্ষণে সংযোগ দেওয়া হয়, ক্যাবল টিভি সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে, টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন, মোবাইল সিগনালে জ্যামার ব্যবহার করা হচ্ছে, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন।  আগে বিনোদনের জন্য সব ব্যবস্থা ছিল। অবরোধ ঘোষনা করতে চাইলে সব টিভি চ্যানেল ওয়ালারা বিশাল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে শ’খানেক ক্যামেরা, কিছু কাঁচা পাকা রিপোর্টার পাঠিয়ে দিত। বিপুল বপু সাফিয়া-পাপিয়া গং কার্যালয়ের গেইটে বান্দর ঝুলা ঝুলে লাফ ঝাঁপ করত। এই দৃশ্যগুলো টিভি চ্যনেলের মালিকরা লাইভ টেলিকাস্ট করে বিনোদনপ্রিয় নেত্রীকে খুশি করত। আমাদের নেত্রী দোতলায় আছেন, লাইভ টেলিকাস্ট! আমাদের নেত্রী এখন সিঁড়ি বেয়ে নামবেন, লাইভ টেলিকাস্ট! আমাদের নেত্রী গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন, গাড়িতে বসে মিটি মিটি হাসছেন, লাইভ টেলিকাস্ট! আমাদের নেত্রী গাড়ি থেকে নামলেন, নেত্রী দোতলায় চলে গেলেন, লাইভ! এখন তো তাও নেই!

টিভি চ্যানেল ওয়ালারা আমাদের নেত্রীর কার্যালয়ে ঘরোয়া গোপন বৈঠক থেকে শুরু করে উনি কখন কী অবস্থায় সময় কাটাচ্ছেন, চড়া ফেস পাউডার মুখে মেখে আসা নারীনেত্রীরা মহান নেত্রীর জন্য বালতি ঘটিবাটি নিয়ে আসার দৃশ্যটি পর্যন্ত লাইভ দেখিয়েছে। মহান নেত্রীর মুখনিসৃত অবরোধ বা হরতাল শব্দটি কখন বের হবে তার অপেক্ষায় চ্যানেল কর্মীরা সারা রাত শীতের মধ্যে কষ্ট করে দাঁড়িয়ে থেকেছে। টিভির স্ক্রলে ব্রেকিং নিউজ কার আগে কে দিতে পারবে তার প্রতিযোগিতা চলেছে!

কিন্তু এখন নেত্রীর বর্তমান যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন স্বেচ্ছা অবরুদ্ধ থাকার এই সময়ে একটি টিভি চ্যানেলও আপোসহীন নেত্রীর বিনোদনের জন্য এগিয়ে আসছেনা। নেত্রী দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারছেন না। হরতাল অবরোধে কোথায় কয়টি গাড়িতে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারা হয়েছে, কয়টা মানুষ সম্পূর্ণ পুড়ে মারা যাচ্ছে, কয়টা আংশিক পুড়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে, বার্ন ইউনিটের বেডগুলো এখনো খালি পরে আছে কিনা, এ সম্পর্কে নেত্রী তাৎক্ষনিক লাইভ খবর পাচ্ছেন না। তার একমাত্র ভরসা এখন সুশীল সমাজ, সুশীল সমাজের তারকা খচিত কতিপয় স্বকর্মে মহা পরাক্রমশালী ব্যক্তি যেমন, প্রাত:স্মরণীয় ড কামাল, এমাজউদ্দিন, মা র মান্না, সু ম সালাউদ্দিন, এবং মাগুরা নির্বাচন খ্যাত নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি রউফ, এনারা আমাদের মহান নেত্রীর পেট্রোল বোমা আন্দোলনের জন্য সাবাসি এবং সহানুভূতি সহ একাত্মতা প্রকাশ করার পর আমাদের মহান দেশনেত্রী প্রেরণা পেয়েছেন, যার ফলশ্রুতিতে পেট্রোল বোমা আন্দোলন পরদিন থেকেই বেগবান হয়েছে। অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাতে পারছি আজ কুমিল্লায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাসে পেট্রল বোমা মেরে ৭ জন মানুষকে জ্যান্ত পুড়ে মারা হয়েছে। আরো অনেকগুলোকে আধা মরা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের নেত্রী সঠিক সময়ে এই সুসংবাদগুলো পাচ্ছেন কিনা এ নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই!

মহান নেত্রীর জন্য সুসংবাদ আছে, মিটফোর্ড হাসপাতালে নতুন করে ১০ বেডের একটি পোড়া মানুষের ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে, নেত্রীর নির্দেশ পালন হচ্ছে সুন্দর ভাবে। তাইতো একের পর এক হাসপাতালে বার্ন ইউনিট খোলা হচ্ছে। এবার খালি বেডগুলো কত তাড়াতাড়ি মরণ আর্তনাদ করা পোড়া মানুষে ভরে উঠবে, আগুনে পুড়ে মানুষ মারার হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়ার ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে গেছে। এই সুসংবাদ মাখা খবর কিভাবে মহিয়সী নেত্রী,আগামি প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নিকট পৌছাবে?

এখন টিভি চ্যানেল ওয়ালারা সঠিক দায়িত্বটি পালন করতে পারেন। আমার প্রস্তাব ভেবে দেখতে পারেন। গুলশানে খালেদার কার্যালয়ের সামনে বড় টিভি স্ক্রিন লাগানোর দায়িত্বটি তারা নিতে পারেন। অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম সমৃদ্ধ বিগ টিভি স্ক্রিনটি খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে এমন ভাবে লাগাতে পারেন যাতে তিনি কার্যালয়ের যে কোনো অবস্থান থেকে পরিস্কার দেখতে এবং শুনতে পারেন। টিভিতে লাইভ কাভারেজে থাকবে বার্ন ইউনিট। প্রতি মুহূর্তে বার্ন ইউনিটে মৃত্যু পথযাত্রি আগুনে ঝলসানো মানুষগুলোর গগনবিদারী চিৎকার সাউন্ড সিস্টেমে সাপ্লাই থাকবে।

আপোসহীন নেত্রী যেন প্রতি মুহূর্তে আপডেট থাকেন এই মুহূর্তে কোথায় নতুন পেট্রোল বোমা হামলা হয়েছে, কয়টা কাবাব বার্ন ইউনিট থেকে কবরে যাচ্ছে। মানুষ পোড়ানোর ঘোষনা লাইভ টেলিকাস্ট করার জন্য টিভি চ্যানেলগুলো রাত জেগে রাস্তায় থাকে।  অবরোধ, হরতাল মানুষ পোড়ানোর নির্দেশ না শোনা পর্যন্ত ঘরে ফেরে না, মানুষ পোড়ানোর পর মৃত-অর্ধমৃত পোড়া মানুষদের আহাজারি লাইভ দেখিয়ে আপোসহীন নেত্রীকে পুলকিত করার দায়িত্ব তো সেই টিভি চ্যানেল এবং লাইভ খবর সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের উপরই বর্তায়।

আমরা দেখতে চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে বড় টিভি স্ক্রিন লাগানো হোক , সাথে সাথে সব পাবলিক প্লেসে ঢাউস সাইজের টিভি স্ক্রিন লাগিয়ে লাইভ দেখানো হোক পোড়া মানুষদের চিৎকার। পেট্রোল বোমায় নিহত পোড়া মানুষদের আত্মীয় স্বজনের কান্না আহাজারি ২৪ ঘন্টা লাইভ দেখতে চাই আমরা। আমরা আমাদের ভিতরের পশুবৃত্তিকে চাঙ্গা করতে চাই! আমরা আমাদের তথাকথিত মনুষত্বকে হত্যা করে অসুর শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে চাই!