ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে ! বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে , দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলছেনা . যুদ্ধ হচ্ছে একতরফা. একপক্ষ হতভাগা সাধারণ জনগণ , এরা পেট্রোল বোমায় পুড়ে মরে যাচ্ছে , বোমা গ্রেনেডের আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে মরে যাচ্ছে . ওদের বাঁচানোর কেউ নেই , রাষ্ট্র ওদের বাঁচাতে পারছেনা . রাষ্ট্রের বিশাল অস্ত্রধারী বাহিনী আছে , এইসব বাহিনীর সদস্যদের তেলতেলে চেহারা থেকে শুরু করে বউ বেটি লালন পালন করার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন হয় , সমস্ত অর্থের যোগান দেয় এই পেট্রল বোমায় পুড়ে মরা দেশের সাধারণ মানুষগুলো . অনেক নামের অনেক পোশাকের কয়েকটি বাহিনী আছে আমাদের দেশে , এদের সংখ্যা কয়েক লক্ষ ,আধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত . দেশের সংকটে এরা জান বাজি রেখে শত্রুর সাথে লড়ার শপথ নিয়েছিল . এই বাহিনীর যারা আইনগত অভিভাবক , যারা আইনগত পরিচালক তারা হতভাগ্য গৃহযুদ্ধ পীড়িত বাঙালি জাতিকে রক্ষার জন্য যেভাবে প্রয়োজন সেভাবে এই বাহিনীকে নির্দেশ দিচ্ছেনা . এই বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিচ্ছিন্নভাবে মাঝে মাঝে ফাঁকা হুঙ্কার দিয়ে দায় সেরে নিচ্ছে . কেউ বলছে এক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ থেমে যাবে , পরের সপ্তাহে আবার বলছে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে . কেউ বলছে , তাদের হাডুডু খেলার জন্য রাখা হয়নি .

কিন্তু , বাস্তবে একসপ্তাহ কেন এক মাসেও অস্ত্রধারী সুসজ্জিত বাহিনী হাডুডুই খেলে যাওয়া ছাড়া কিছুই দেখাতে পারেনি . মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি বক্তব্যে তাঁর দৃঢ়তাপূর্ণ আশ্বাস বাণী শোনাচ্ছেন জাতিকে . কিন্তু কার্যত ঘটে চলেছে বিপরীত . এক দিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস , অন্য দিকে পাল্লা দিয়ে হায়েনা পাগলা কুকুরের কামড়ে ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে জনপদ . বোমাবাজ পেট্রলবোমা ছুড়ে মারা হায়েনারা দিনকেদিন দানবীয় রূপ ধারণ করছে .

 

সাধারণ মানুষ দ্বিধানিত হয়ে পড়ছে ঘটনা দেখে , হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন কথাবার্তা , হায়েনাদের বাড়াবাড়ি চরমসীমায় নিয়ে যাবার সুযোগ করে দিচ্ছে সরকারেরই একটি অংশ . তারা ভাবছে এতে জনমত খালেদা তথা পেট্রল বোমা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে . কিন্তু দড়ি এতো বেশি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে যে শেষ পর্যন্ত দড়ি গুটিয়ে আনা সম্ভব হবে কিনা , তা নিয়ে ইতোমধ্যে জনমনে সংশয় দানা বাঁধতে শুরু করেছে .

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিশাল শক্তি সামর্থ নিয়ে সারাদেশে ২ বা ৩ হাজার বোমাবাজ হায়েনা খুনির সঙ্গে পেরে উঠবেনা এরকম আর বিশ্বাস করতে পারছেনা পেট্রোল বোমায় দগ্ধ জাতি . সরকারের শক্তি সামর্থ সম্পর্কে জাতির ভরসা , আত্মবিশ্বাস সহনীয় মাত্রার নিচে নেমে গেলে আবার ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে যাবে .
সরকারের সতর্ক হওয়ার সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে . বক্তৃতার ফুলঝুরি বন্ধ করে কাজে নেমে পড়তে  হবে . পেট্রল বোমা নিক্ষেপকারী হায়েনা নিধনের কাজে . সংসদে জালাময়ী বক্তৃতা করে বোমাবাজদের থামানো যাচ্ছেনা . মাঠে নামুন .

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার আগ পর্যন্ত আর কোনো বক্তৃতা দেশের মানুষ শুনতে চায়না . বক্তৃতা করে আপনাকে বলতে হবেনা এই গৃহযুদ্ধে আপনি জিতবেন . আপনি পুরো ব্যপারটি মনিটর করুন . এক সপ্তাহ কোন বক্তৃতা করবেননা দোহাই আল্লাহর . মানুষ বাঁচান ,দেশ বাঁচান .

আর বক্তৃতা চাইনা , নতুন নতুন বার্ন ইউনিট চাইনা , পেট্রল বোমা নিক্ষেপকারীদের ধ্বংস দেখতে চাই . মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছেন বোমাবাজদের কাছে আত্মসমর্পণ করবেননা , কথায় কাজ হচ্ছেনা , মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে . কাজে নেমে এই হতভাগা জাতিকে আগুনে পুড়ে মরা থেকে বাঁচান . পেট্রল বোমা হামলাকারী এবং তাদের নেত্রীর কাছে আত্মসমর্পণের চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়তর . আত্মসমর্পণের মত ঘৃণ্য পরিনতি বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্য নয় !

আফগানিস্তান , ইরাক , লিবিয়া , সিরিয়ার পর তালিকায় বাংলাদেশ নামটি লেখা হবার আগেই ঘুম থেকে জেগে উঠুন . হিসেব করে দেখুন এই মুহুর্তে প্রতিদিন খালেদার জঙ্গি হামলায় যত মানুষ মরছে এই বাংলায় , ইরাকের মত ভয়ংকর বিপদ সংকুল রাষ্ট্রেও প্রতিদিন তত মানুষ মরছেনা . সাবধান , সাবধান !!

জেগে উঠুন , আর ঘুমাবেননা , সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে . মাননীয় প্রধানমন্ত্রী , আপনার অধীনস্ত রাষ্ট্রযন্ত্র চাইলে একদিনে দুই হাজার হায়েনাকে ধ্বংশ করে দিতে পারে সমূলে . দেশবাসী তা জানে . ৫ মে শাপলা চত্বরের শুদ্ধি অভিযান জাতি ভুলে যায়নি . সময় এসেছে আরেকটি শুদ্ধি অভিযানের , কাল নয় পরশু নয় , আজই , এখনি .

আর একটি পেট্রল বোমা হামলার নতুন খবর আমরা শুনতে চাইনা .