ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

Gazipur

সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন দেওয়ার পরামর্শ কে দিল সরকারকে? যে মুহূর্তে সরকার রাজনীতির মাঠ বিজয়ী দলের মত দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল, আওয়ামী লীগের কোন শুভাকাঙ্ক্ষী সেই মুহূর্তে সরকারকে পরামর্শ দিলো বল খালেদা জিয়ার পায়ে ঠেলে দিতে?

যে মুহূর্তে খালেদা এবং তার দলের নেতা কর্মীরা পেট্রোল বোমা দিয়ে দেড়শ মানুষকে পুড়িয়ে মেরে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দানে কোনঠাসা অবস্থায় ছিল, যে মুহূর্তে দেশের মানুষ ঘৃণাভরে খালেদা এবং তার খুনি বাহিনীর “বিষ” দলীয় নেতাদের প্রত্যাখ্যান করে সাইড লাইনে বসিয়ে দিয়েছে, সেই মুহূর্তে আওয়ামী লীগে ঘাপটি মেরে থাকা খালেদা এবং “বিষ” দলীয় নেতাদের কোন শুভাকাঙ্ক্ষী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আত্মাহুতি দেওয়ার মন্ত্রনা দিয়েছে?

সিটি করপোরেশন নির্বাচন আগামী একশ বছরেও না হলে কী হবে? সরকারের কোন কাজটা আটকে আছে? দেশ কি অচল হয়ে গিয়েছে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন ছাড়া? মেথর কি আবর্জনা পরিস্কার করা বন্ধ করে দিয়েছে? রাস্তার বাতি জালানোর বৈদ্যুতিক মিস্ত্রিরা কি কাজ বন্ধ করে দিয়েছে? সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলী – ঠিকাদার দের কি কাজের অভাব পড়ে গেছে? সিটি কর্পোরেশনের আর কি কাজ আছে ? নির্বাচন না হলে কে না খেয়ে থাকবে ? বাংলাদেশের সংবিধান কি স্থগিত হয়ে যাবে ? যদি এর কোনটাই না হয় তবে কেন নির্বাচন ? খালেদাকে সাইড লাইন থেকে মাঠে নিয়ে এসে পেট্রোল বোমায় নিহত মানুষদের আত্মা গুলোকে অপমান করার জন্যই এই নির্বাচন ।

বিএনপি যখনই নির্বাচনের ঘোষণা শুনে দাঁত কেলিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলো, তখনই বুঝা গেছে সরকারের ভিতর লুকিয়ে থাকা বিএনপির এজেন্টদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হচ্ছে । যখন খালেদা এবং তার দল আসামির কাঠ গড়ায় দাঁড়িয়ে আগুনে পোড়া মানুষদের স্বজনদের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাওয়ার অবস্থায় পৌঁছেছে , ঠিক সে সময় তারা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করে ঐ সব পোড়া মানুষদের স্বজনদের উপর খবরদারি করার সুযোগ পেয়ে গেলো । কে সরকারের পায়ে কুঠারাঘাত করে বিএনপি এবং তার জঙ্গিদের মানুষ পোড়ানোর বিচার থেকে অব্যাহতি দেওয়ার মোক্ষম সুযোগ এনে দিল?

তাহলে এই এতগুলো মানব সন্তান পুড়ে মেরে ফেলার বিচার হবে না? খালেদা এবং তার “বিষ” দলীয় নেতাদের পুরস্কৃত করার এ ঘৃণ্য সুযোগ করে দিয়ে সরকার কি পোড়া মানুষদের সঙ্গে প্রতারনা করল না? হায়রে নিকৃষ্ট নোংরা পুতিগন্ধময় রাজনীতি!

যে মান্না রাতের আঁধারে এই সরকারকে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে ধরা খেল, সে মান্নাকে এই সিটি নির্বাচনের উসিলায় সরকার এই নগরের পিতা হবার রাস্তা তৈরি দিচ্ছে। ঠিক উল্টাটি ভেবে দেখি, মান্নার ষড়যন্ত্র যদি সফলতার মুখ দেখত, ভাবুন তো মাননীয় প্রধানমন্ত্র , আপনার পরিনতি কি হত? আজকে মান্নার দম্ভোক্তি কি খন্দকার মোশতাকের মত হত না? কে জানে!

বিডিআর হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত আসামি পিন্টু নগর পিতা হবার সুযোগ পাচ্ছে, চোরাগোপ্তা হামলা শুরু করে দিয়ে আমেরিকায় পালিয়ে থাকা খোকাকে নগর পিতা হবার আমন্ত্রন জানানোর কূটমন্ত্রক কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার আশেপাশেই বিচরন করছে !! যে কোন মুহূর্তে শুনলে অবাক হবো না , গুম সালাউদ্দিনও মেয়র পদে লড়ার জন্য মনোনয়ন পত্র কিনেছে!

এবার আসুন সিটি করপরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের লাভ-ক্ষতি কতটুকু? এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিভেদ দৃষ্টি গোচর হবে, প্রত্যেকটি পদে একাধিক আওয়ামী নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, হোক সেটা মেয়র বা কাউন্সিলর পদে । তিনটি সিটি কর্পোরেশন আওয়ামী লীগের নেতাদের দলীয় সংঘাতের উর্বর ক্ষেত্রে পরিনত হবে । পক্ষান্তরে খালেদা এবং তার বিষ দলীয় জোট আওয়ামী লীগকে নাস্তানাবুদ করার জন্য একজোট হয়ে কোমর বেঁধে লড়বে। আওয়ামী লীগের ল্যাজে গোবরে অবস্থার জন্য একদিনের সিটি নির্বাচনই যথেষ্ট হবে ।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে যেভাবে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে পেরেছিল, তা আর ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে যাবে, বিএনপি এবং “বিষ” দলীয় জট যে দাবীতে আন্দোলনের নামে এতগুলো নিরীহ মানুষকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে মেরে ফেললো, ওরাও সে দাবি থেকে সরে এসে বর্তমানের হালুয়া খাবার থালায় নাক ডুবিয়ে দিবে ।

সরকারের ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা ’খন্দকার মোশতাক’রা এ আয়োজনে সফলতা পেয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয় দৃশ্যমান করবে, আমার বিশ্বাস । সাথে সাথে ক্ষমতার লালচ চরিতার্থ করার জন্য খালেদার মানুষ পুড়ে মারার কাহিনীও আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপিয়ে বগল বাজাবে ।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সরকারের পায়ে কুঠারাঘাত বললে কি ভুল বলা হবে? জঘন্য রাজনীতির কালো থাবা থেকে উদ্ধার পাওয়া কি তবে জাতির ভাগ্যে হবে না?