ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

মুক্তমনা, মুক্তমনা কয়দিন ধরে শব্দটি বহুল কপচানো। . কতিপয় আঁতেল বুঝে মুক্তমনা, কতিপয় না বুঝে মুক্তমনা। .এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে মাটি ফুঁড়ে কিছু মুক্তমনা জগতকে বিজ্ঞানময় করে ফেলেছে। ভাবখানা এমন যে এই স্বঘোষিত মুক্তমনারা পয়দা না হলে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা বুঝি থেমে যায়! আপনারা একজন এমন বিখ্যাত প্রখ্যাত বিজ্ঞানীর নাম বলতে পারবেন যিনি বিজ্ঞান সাধনার পাশাপাশি উলঙ্গ উস্কানি দেওয়ার কাজটিও করে গেছেন? কোন বিজ্ঞানী বিখ্যাত সব আবিস্কারের পাশাপাশি সমকামী হবার জন্য বৈজ্ঞানিক-উত্সাহ (?) দেওয়াটা ফরজ ভেবেছেন? আপনারা এখন বিজ্ঞান লেখক হয়ে যান রাতরাতি!

১৯৬৯ সালের ২৬ জুলাই বেশি দিন আগের কথা নয়, বিজ্ঞানের চরম উন্নতির যুগে চাঁদের বুকে মানুষের পদচিহ্ন। কাঠ মোল্লারা নিজেরা বিশ্বাস করতে চায়নি, সাধারণ মানুষকে বোঝাতে চাইতো চাঁদে মানুষ্ যাওয়ার কাহিনী মিথ্যা। দশ পাঁচ বছর আগেও মোল্লারা ওয়াজ করে মানুষকে বোঝাতো বিজ্ঞানীদের চাঁদে যাওয়ার কথা বিশ্বাস না করতে। এক পর্যায়ে মোল্লারা একটু সরে এসে বলতে শুরু করলো নেইল ই আর্মস্ট্রং চাঁদের ফাটা দাগ নিজের চোখে দেখে মুসলমান হয়ে গেছে! আহা, আর্মস্ট্রং মুসলমান হয়ে ইসলামের গোল্ডেন জিপিএ ৫ নিশ্চিত করেছেন!

এক যুগে মোল্লাদের কথা ছিল রেডিও হচ্ছে শয়তানের বাক্স, আরেক যুগে এসে বলতে শুরু করলো টেলিভিশন যে বাড়িতে আছে সে বাড়িতে আল্লাহর ফেরেস্তা প্রবেশ করে না। রেডিও’র কথা বাদ দিলাম, এ যুগে এমন একজন মসজিদের ইমাম আছেন যার ঘরে কমপক্ষে দু’ইটা টেলিভিশন নাই?

এবার আসেন, মুক্তমনা বিজ্ঞানী দরদীরা। আর্মস্ট্রংকে মোল্লারা মুসলমান বানিয়েছিল, চাঁদে নামাকে মিথ্যা বলেছিলো। আর্মস্ট্রং কোনদিন কোনো পত্রিকায় প্রতিবাদ লিপি পাঠানোর কথা ভেবেছেন? ওয়াজ মাহফিল করে মোল্লাদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করেছেন? করেননি। রেডিওকে শয়তানের বাক্স বলায় মার্কোনি কি কখনো মোল্লাদের মুণ্ডুপাত করছেন? করেননি। রেডিওর ভিতর থেকে শয়তান কি বেরিয়ে পালিয়েছে? টেলিভিশন নির্মাতারা ফেরেস্তাদের ভয়ে টেলিভিশনের প্রডাকশন কি বন্ধ করে দিয়েছে? যাদের ঘরে টেলিভিশন আছে তাদের ইজ্জত কি ধর্ষিত হয়েছে? উত্তর – হয়নি!
কেউ কি কখনো শুনেছেন  মোল্লারা ওয়াজ মাহফিল থেকে হুঙ্কার দিয়েছে — যাও! আর্মস্ট্রংরে কোপাইয়া আস, ঈমানী দায়িত্ব পালন হবে! কোনো মোল্লা কি কখনো হুঙ্কার দিয়েছে,  যাও! আমার তৌহিদী জনতা অথবা আমার তালেবে এলেমরা যাও- যে বদমায়েশটা রেডিও আবিস্কার করছে, বা যার মাথায় টেলিভিশন আবিস্কার করার ভূত চাপছে তার মাথায় চাপাতি দিয়া ছয়টা কোপ দিয়া আসো! কোনো ইসলামী নেতা কি কখনো বলেছে,  হেই ইসলামের রক্ষকরা যাও — যে ইবলিস মোবাইল আবিস্কার করেছে তারে চাইনিজ কুড়াল দিয়া কোপাইয়া আসবা! দরকার হইলে শামসুরে নিয়া যাও, ভালো কইরা কোপাইয়া আসো, তোমার জান্নাতের দরজা খোলা! বলেনি! .

হঠাত গজিয়ে ওঠা মুক্তমনা ভাইরা, আপনাদের লাইফ খাতরেমে হ্যা! আপনারা মোল্লাদের চ্যাতাইয়া দিয়েছেন! বিজ্ঞান লেখক হইবেন হন মিঁয়া, নিরীহ ধর্মপ্রান মানুষের মনে দাগা দিয়া এখন তালেবে এলেমদের মাথায় রক্ত চাপাইয়া দিছেন, ওরা কেউ চাপাতিতে ধার লাগাইতাছে কেউবা ব্যাগে চাইনিজ কুড়াল নিয়া ঘুইরা বেরাইতাছে! আপনারা মিঁয়া নিজেরা নামাজ কালাম করবানা মানলাম, যারা নমজ পড়ে অগ পিছে কেলা লাগবা মিঁয়া?

সরকার আছে মাইনকা চিপায়। মুক্তমনাদের কোপানোর পর সরকার খুনিদের ধরার জন্য বেশি দৌড়ঝাঁপ করেনা। পুলিশ ডিপ্লোম্যাটিক কায়দায় তদন্ত করে, পাছে আবার সরকার ইসলামের দুশমন বনে না যায়। মুক্তমনা বিজ্ঞানীদের কোপাইয়া বটি বটি করে ফেলছে একদল ইসলামের সেবক। যে কোন মূল্যে ওরা ইসলামের ঝাণ্ডা উড়াবার পণ করেছে। চাই সে ঝান্ণ্ডা মানুষের রক্তে ভিজে চুবচুবে হোক। কে জানে এর শেষ কোথায়! .

আমার মুক্তমনা ভাইদের অনুরোধ করতে চাই, আপনারা মুক্তমনা হন, বিজ্ঞানী হন, বিজ্ঞান লেখক হন, আপনারা বিজ্ঞান মনস্ক হন, যা ইচ্ছা তাই হন; বাছারা ওই যে চাপাতি, কুড়াল নিয়ে ইসলাম কায়েম করার ব্রত নিয়ে একদল পাষন্ড সুযোগের অপেক্ষায় আছে, ওদের লাইম লাইটে নিয়ে আসার সুযোগ করার জন্য হাবিজাবি লেখা বাদ দিয়ে একটা কিছু আবিস্কার করে দেখান যে আপনরা বিজ্ঞানী বনে গেছেন। না হলে আপনাদের কিছুদিনের মধ্যে আত্মরক্ষার জন্য হলেও চাপাতি কুড়াল সাথে নিয়েই পথ চলতে হবে।. দুনিয়াতে কোনো দেশে যদি বিজ্ঞানী আর বিজ্ঞান লেখকগণ চাপাটি কুড়াল কাঁধে নিয়ে চলা ফেরা করেন, সেটি হবে একমাত্র বাংলাদেশ!

মুক্তমনা হন আপত্তি নেই, আগে সুস্থমনা হন। আজকে সুস্থমনা হওয়াটা বেশি জরুরি।