ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র নির্বাচনের আগে-পরে বিডিব্লগের কিছু ব্লগারের মূত্র-নিঃসরণ সমস্যা জনিত চেতনা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল। মূত্র-নিঃসরণ সমস্যা বলতে আমি মূত্র নিস্কাশনের উপযুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের সমস্যাই বলছি। কিডনি, মূত্রথলি, মূত্রনালি ইত্যাদির সমস্যার কথা বলছি না।

এই কয়েকদিন আগেও মূত্র নিস্কাশন, মূত্রালয় ইত্যাদি সংক্রান্ত পাঁচ-পাঁচটি ব্লগপোস্ট বিডিব্লগের নির্বাচিত পোস্টসমূহের তালিকা দখল করেছিল। এখন মুত্র, মুত্রালয়, পায়ুখানা ইত্যাদি বিষয়ক পোষ্টের জায়গা দখল করে ঝুলছে নিরীশ্বরবাদি তথা ভিন্নমত বা মুক্তমতের ভাষণ। মুত্রালয় সংক্রান্ত পোস্টের স্থান নিরীশ্বরবাদী অবিশ্বাসীরা দখল করুক, এতে আমার কোন আপত্তি নেই। আমি মূত্রালয় সমস্যার ব্যাপারে পোষ্ট দিতে উৎসাহী হলাম এজন্য যে, এরই মধ্যে দুইজন স্বনামধন্য ব্লগার আমনাগরিকদের মূত্রালয়-পায়ুখানা বিষয়ক আরও দুইটি পোস্ট দেওয়ায়। আমিও ভাবছি যে, নির্বাচিত পোষ্টের তালিকা থেকে  নিরীশ্বরবাদীদের হঠিয়ে দিয়ে জনস্বার্থ সংক্রান্ত পোস্ট হিসেবে মূত্রালয়/পায়ুখানা জায়গা করে নিতে পারে কিনা।

রাজউক হোক, সিটি কর্পোরেশন হোক, গণপূর্ত বিভাগ হোক- এই দায়িত্ব সরকারের সবগুলো বডি মিলেই পালন করতে পারে। সভ্য দুনিয়ার সব বড় শহরেই আছে, আমাদের শহরে থাকবে না কেন? আমি মনে করি মহিলা এবং পুরুষের স্বাস্থ্য সম্মত আলাদা টয়লেট পর্যাপ্ত পরিমানে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তৈরি করে ইকনমি/ডিলাক্স/সুপার ডিলাক্স তিনটি ক্যাটাগরিতে তিন রকম মূল্য পরিশোধে ব্যবহারের ব্যবস্থা করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লাভজনক ব্যবসায়িক ভিত্তিতে চালাতে পারবে।

আর টয়লেট নির্মাণের স্থানের জন্য কোন নতুন প্রকল্প পাশ করাতে হবে না। আমি ছোট উদাহরন দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছি। ধানমণ্ডি ২ নং সড়ক পূর্ব-পশ্চিম, বিজিবি ৪ নং গেইট থেকে মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়ক, আজিমপুর মোড় থেকে গাবতলি পর্যন্ত দীর্ঘ সড়ক। ঢাকা শহরের এই অংশের প্রধান সড়ক এবং ফুটপাথকে মডেল হিসেবে নিয়ে চিন্তা করেন, গাড়ি চলাচলের অংশটুকু বাদ দিয়ে বাকি কতটুকু নগরবাসীর কাজে লাগছে? প্রত্যেকটা মার্কেট এবং বহুতল ভবনের সামনের বিশাল জায়গায় ফুটপাথের অস্তিত্ব নেই। ফুটপাথকে ভবন মালিকরা নিজেদের স্বার্থে ৩৫ ডিগ্রী ঢালু করে অবৈধ পারকিং অথবা দোকান দিয়ে দখল করে রেখেছে। এখান থেকেই ছোট ছোট জায়গা নিয়ে সরকারি জায়গায় এক কিলোমিটার পর পর ২টি মহিলাদের, ২টি পুরুষদের টয়লেট বানালে সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব। কোন নতুন প্লট লাগে না, নতুন জায়গা সৃষ্টি করতে হয় না।

আমি ফুটপাথের যে অংশটুকুর কথা বলছি, এটুকু জায়গা এবং ফুটপাথ বুলডোজার দিয়ে উদ্ধার হয় শুধুমাত্র একটা সময়, বড় বড় রাক্ষসগুলো তখন চুপসে যায়। সে সময়টা হচ্ছে সামরিক আইনের সময়। তখন রাজউকের বিশাল অংকের বানিজ্য হয়। আমি যে সড়কগুলোর কথা উল্লেখ করেছি, এর মধ্যে ধানমণ্ডি ২ নং সড়ক এবং সাত মসজিদ রোডের কয়েকটি ডায়গনস্টিক সেন্টার, মার্কেট এর মালিকরা রাজউকের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন করে পূর্বাবস্থায় ফিরে এসেছিলো। সেই সময় প্রতিটি নির্মিত বা নির্মাণাধীন ভবনের সামনে রাজউকের হ্যামার বাহিনী এবং বুলডোজার দাঁড় করিয়ে নগদ লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে রাজউকের একশ্রেণীর দালাল এবং তাদের সাজানো ম্যাজিস্ট্রেট।

এভাবে ঢাকা শহরের সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ জনচলাচলের স্থানগুলোতে, সরকারি জায়গায় যা বর্তমানে বেদখল হয়ে আছে, সেখানে স্বাস্থ্য সম্মত পরিচ্ছন্ন প্রাইভেট (পাবলিক নয়) টয়লেট বানিয়ে টাকার বিনিময়ে ইকোনমি, ডিলাক্স, সুপার ডিলাক্স ক্যাটাগরির সেবা নগরবাসিকে দেওয়া অসম্ভব নয়।

ঐ সকল ম্যাজিস্ট্রেট আর হ্যামার বাহিনী এখনও এসে দাঁড়ালে এক মাসের মধ্যে ঢাকা শহরে আধুনিক টয়লেট সমস্যার সমাধান সম্ভব। মন্ত্রী-মেয়র কারো মাথা ঘামানো লাগে না ।

অনেক কথা বলা যায়, শেষ হবে না।