ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

এই কয়দিনে সমকামীদের এবং তাদের হিতাকাংখী শুভাকাংখী সমর্থকদের লেখা , মন্তব্য পড়ে পড়ে বুঝা গেল , তলে তলে ডুব দিয়ে পানি খাওয়া সাধুর একেবারে কমতি নেই আমাদের সমাজে . ঐযে ভদ্দনোকের একটা মুখোশ চেহারা সুরতে লেপ্টে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো হাজারো পুরুষ মহিলা যারা হরেক রকম একাডেমিক সার্টিফিকেট পকেটে নিয়ে নিজেদের ” শিক্ষিত ” ভেবে বসে আছেন তারা কত যে দুই নম্বরী তিন নম্বরী কাম কাজ গোপনে গোপনে করে বেড়াচ্ছেন , তার ইয়ত্তা নেই .

একাডেমিক শিক্ষা, সার্টিফিকেট আর “শিক্ষিত” ব্যাপারটির ব্যবচ্ছেদ করেনি আগে . আমরা যে যে বিষয়ে পড়ালেখা করেছি , তারা নিজেদের পঠিত বিষয়ে শিক্ষিত , এখানে একজন প্রকৌশলী যদি একজন ডাক্তারকে তর্ক করতে গিয়ে বলেন , আপনি কিচ্ছু জানেননা , আপনার মাথায় কিচ্ছু নেই , ব্রিজের একেকটি কংক্রিট নির্মিত স্প্যান ঢালাইয়ের পরে সম্পুর্ন ভারবহন ক্ষমতা অর্জন করতে কতদিন লাগে ? জানেন না তো , পড়েছেন এগুলো কখনো? আপনার মাথায় কিচ্ছু নাই. এ ধরনের বালখিল্যপনা অনেক ব্লগারের মধ্যেই দেখা যায়.

একাডেমিক শিক্ষা নিয়ে অনেক কুকুর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হয়েছে , কিন্তু কুকুরটি ‘মানুষ’ হতে পারেনি . নৈতিক শিক্ষা অর্জন করে মানুষ হওয়া আর কুকুরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হওয়া এক নয় . একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল , জেনারেল হবার আগে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত একজন মানুষ হওয়াটা সবার আগে জরুরী. আমরা যে যে ডিসিপ্লিনেই একাডেমিক শিক্ষা নিয়ে যে যে পেশাতেই থাকিনা কেন , সবার আগে আমাদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত না শুধু , সুশিক্ষিত হতে হবে , সর্বোপরি মানুষ হতে হবে .

সমকামী হবার কতনা বাহানা ( তাদের ভাষায় যুক্তি ) তারা একয়দিনে ব্লগে ফেসবুকে বমি করে দিলেন . ছ্যা ছ্যা ছ্যা ! সমকামী হবার পিছনে কেউ ‘জিন’ ভুতের আছর এর কথা বলে পার পেতে চায় . আবার কেউ বলছে জন্মগত ভাবে কেউ সমকামী হয়না . কোনটা সত্যি ধরে নিবো ? জিন ভুতের (ওদের ভাষায় জেনেটিক ডিসরডার ) আছড়ের কারণে যদি সমকামী হয় , তাহলে একদিন ওরা বলবে , চোর ডাকাত , খুনি এবং ধর্সকামি হওয়াটা খুব স্বাভাবিক , চোর , ধর্সকদের সমাজিক স্বীকৃতি দিতে হবে, কারণ জিন ভূত ( জেনেটিক , হা হা ) .

কিছু ভদ্দরনোক আমাদের সমাজে আছেন , খুব ভাব ধরে থাকেন , বুদ্ধিজীবী টাইপের , মোটা মোটা কথা বলেন, ঘরে স্ত্রীর কাছে গিয়ে বিলাই হয়ে যান , আসলে অসময়ের যথেচ্ছাচারে যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা বিলুপ্ত করেছেন অনেক আগেই . এখন হয় হোমো হবার যুক্তিতে অটল থেকে দুই পায়ের সংযোগ স্থলে মুঠ করে ধরে আরেক হাতে কপাল থাবরান , না হয় খুব ব্যস্ত বুদ্ধিজীবির অভিনয় করে স্ত্রীর কাছ থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখেন .

ব্লগে এরই মধ্যে কয়েকজন বলেছেন এ কথা , ২০ বছর পাগল হাসপাতালে থেকেও কোনো পাগল কি আজ পর্যন্ত স্বীকার করেছে যে সে পাগল ? তেমনি কোনো সমকামী স্বীকার করেছে যে সে মানসিক বিকারগ্রস্ত বা যৌন বিকারগ্রস্ত ?

কিন্তু দুঃখ হয় তখন , যখন একটা নতুন কিছু কর , ব্যতিক্রমধর্মী হও , ইত্যাদি ভাব ধরা কিছু তথাকথিত একাডেমিক সার্টিফিকেটধারী ” শিক্ষিত ” পাগলদের , মানসিক বিকারগ্রস্তদের , যৌন বিকারগ্রস্তদের চিকিত্সার কথা না বলে উদ্ভট উশৃঙ্খল যৌনাচারের পক্ষে গলা ফাটিয়ে স্বাভাবিক স্বাভাবিক বলতে থাকে . আমার প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে , কিছুদিন পর যখন তাদের ভাইটি পায়ু সংগমের তালিম নিবে , তাদের মেয়েটি লেসবিয়ান হয়ে যাবে , তাদের সন্তানটি গে হয়ে যাবে তখন তাদের এত যুক্তি , মুক্তচিন্তা , মুক্তবুদ্ধি জীবনটাকে ছ্যারা ভ্যারা করে দিবে না?

কথায় কথায় পশ্চিমা দেশে গে লেসবিয়ান দের অধিকার দেবার উদাহরণ দেওয়া হয় . পশ্চিমা দেশগুলোতে লিভ টুগেদার , বিবাহ বহির্ভূত সন্তান , জারজ সন্তান কোলে নিয়ে গির্জায় বিয়ে করতে যাওয়া , এতো অনেক আগেই ডালভাত . আজকে যারা সমকামিতার মত অসুস্থ্য জীবনকে স্বাভাবিক বলে আধুনিক মুক্তমনা সাজার ভান করছেন তাদের মেয়ে , বোন্ বা ছেলেরা যখন লিভটুগেদার শুরু করবে পশ্চিমাদের উদাহরণ দিয়ে, তখন কি করবেন ? ভাবধরা বুদ্ধিজীবী তখন হাউমাউ করে প্রলাপ বকবে . এ – তো অভিজ্ঞতাই বলে দেয় .

“মহৌষধ”

এক ভুক্তভুগী স্ত্রী যার স্বামী পায়ুসংগমের বিকারগ্রস্ত ( আগে তার গে জীবন গোপন ছিল ) . স্ত্রী খেয়াল করে দেখলো স্ত্রীর সান্যিধ্য পাবার মোটেও প্রয়োজন বোধ করেনা স্বামীটি . স্ত্রী চিকিত্সকের কাছে গিয়ে সব খুলে বললো. ডাক্তার স্বামীটির সঙ্গে একান্তে কথা বলার পর জানতে পারল ব্যাটা “পেদে” ( ফ্রেঞ্চ ভাষায় হোমোদের পেদে বলে গাল দেয় ) . সব ঔসধ যখন ব্যর্থ তখন ডাক্তার সাহেব “পেদে”র স্ত্রীকে সেই মহৌষধ দিলেন . আন্ত মহাদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্রের মত কাজ করেছিলো সে মহৌষধ .

গে ব্যক্তিটির স্ত্রী একটি কৌটায় কিছু মনুষ্যপায়ুপথে নির্গত বর্জ্য সংগ্রহ করে কৌটার মুখ বন্ধকরে ঘরে রাখলেন . যথা সময়ে স্বামীটি এসে নাক ডেকে ঘুমিয়ে পড়ল . সময়মত ভদ্রমহিলা কৌটার ঢাকনা খুলে একটা কাঠির মাথায় মনুষ্য মল লাগিয়ে ঘুমন্ত স্বামীর নাকের সামনে ডাক্তারের কথামত ৩০ -৫০ সেকেন্ড ধরে রাখলেন. ঘ্রানেন্দ্রিয় আর কাকে বলে ? মুহুর্তের মধ্যে আন্ত মহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট এঙ্গেল সেট করে প্রস্তুত. সে রাতের ক্ষেপনাস্ত্র হামলার ঘটনা পরদিন ডাক্তারকে জানিয়ে স্ত্রী বেচারা অসংখ্য ধন্যবাদ দিয়ে এলেন.

উপসংহার – সমকামিতাকে যারা জিন ভূতের কাহিনীর ছাচে ফেলতে চান , তাদের বলছি ভাই এটা জিন জেনেটিক কিছুইনা , ঘ্রানেন্দ্রিয়ের জটিল সমস্যা . চিকিত্সা নিন , সুস্থ্য জীবন যাপন করুন . মনুষ হোন . প্লীজ .