ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

গত সপ্তাহে পবিত্র আশুরার দিন ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় ঘৃণ্য বোমা হামলার সঙ্গে লন্ডনে খালেদা এবং তারেকের গাড়িতে হামলার যোগসূত্র খুঁজে পাবার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন দায়িত্বশীল মহল । লন্ডনের প্রভাবশালী বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকগুলোতে এ ব্যাপারে বিস্তারিত সংবাদ ছাপা হয়েছে ।

তারেকের গাড়িতে হামলার সময় সেখানে উপস্থিত জনতার কেউ কেউ নাম না প্রকাশ করার শর্তে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার লন্ডন ইস্ট প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, প্রথমে টাকা পয়সা লেনদেন বিষয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষ। হামলাকারী পক্ষের কেউ কেউ প্রতিপক্ষকে স্যার, একজন বড় ভাইয়া সম্বোধন করে কথা শুরু করেছিলেন বলেও জানান তারা ।

লন্ডনের বিএনপির একটি বঞ্চিত অংশের সিনিয়র নেতারা প্রত্যক্ষদর্শী বাঙালি পথচারীদের বরাত দিয়ে বলেন, ঢাকা এবং রংপুরের দুইজন বিএনপি নেতা ঢাকা এবং রংপুরে কয়েকটি ঘটনার পর গা ঢাকা দেওয়াতে চুক্তি মোতাবেক অর্থ না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে লন্ডনের হামলা হয়ে থাকতে পারে। পূর্ব লন্ডনের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক সিলেটের ডাক এর নিজস্ব প্রতিনিধি এ প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় যোগ করেন, সামনে দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে যাওয়ায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বাংলাদেশে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার মত ঘটনার খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে প্রতিক্রিয়াশীল মহলের। তাই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার চলছে।

লন্ডন বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা যিনি তারেক রহমানের লন্ডনি ব্যাংক নামেই বেশি পরিচিত, তিনি ঘরোয়া একটি বৈঠকে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বিএনপিকে ডুবানোর জন্য একজনই যথেষ্ট, অন্যদের দোষারোপ করে লাভ নেই। তিনি লন্ডনের পারকিন্সন স্ট্রিটের আরেক বিএনপি নেতার বাসার ঘরোয়া বৈঠকে শমশের মবিন চৌধুরীর অবসর নেয়াকে যৌক্তিক পরিণতি বলে মন্তব্য করেন ।

আগামি একমাসে বিএনপি তাঁদের দুই প্রভাবশালী নেতা হাবিবুন্নবি সোহেল এবং কাইয়ুম সম্পর্কে কোন অবস্থান নেয় তার উপর বিএনপির আগামী দিনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ।ইতোমধ্যে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান তাঁর অবস্থান পরিস্কার করেছেন , খুনের সঙ্গে জড়িত হলে বিএনপির কোন নেতার দায় দল নিবেনা বলে। তিনি বলেন ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপির সুপ্রিম নেতার জড়িত থাকার প্রমান মার্কিন এফবিআই বাংলাদেশ সরকারকে সরবরাহ করার পরই দলটির মৃত্যু ঘন্টা বেজেছিল ।আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। লন্ডনে খালেদার গাড়িতে হামলা –

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে লন্ডনে সচেতন বিশ্লেষক এবং পর্যবেক্ষণকারী মহলে আরেকটি গুজবের পালে হাওয়া লাগতে শুরু করেছে, কেউ কেউ একধাপ এগিয়ে বলতে শুরু করেছেন, খালেদা এবং তারেক নিজেও জানেন এই মুহূর্তে খালেদার রাজনৈতিক অবস্থান টালমাটাল, এমনকি শারীরিকভাবে অক্ষমই ধরা যায়। এই অবস্থা থেকে মানুষের চোখ অন্যদিকে ফেরানোর জন্য তারেক নিজেই লোক ভাড়া করে হামলার ঘটনা সাজিয়ে খালেদার যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের ভিত রচনা করতে চাচ্ছেন।

তবে সবই বোঝা যাবে কয়েকদিন পর, দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দড়িতে ঝোলা এবং খালেদা জিয়ার মামলায় সাজা হবার পর পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে মোড় নেয় তারপর।বিএনপির একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সুত্র থেকে পাওয়া সর্বশেষ খবর অনুযায়ী এ পর্যন্ত লন্ডনে কার্যত বিএনপির একটি সজাগ মহল তারেকের ছায়াও কৌশলে এড়িয়ে চলতে চাচ্ছে ।

বাংগাল

ব্লগার, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
লন্ডন থেকে ফিরে ২৯/ ১০/ ২০১৫ ।