ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

আমার পোষ্টের শিরোনাম দেখে আমাকে পাগল বা ক্ষ্যাত ভাবলেও ভাবতে পারেন , কিন্তু আমার দাবি থেকে আমি এক চুলও নড়বোনা ।আমাদের দেশে সব সম্ভব হলে পদ্মাসেতু পদ্মায় না হয়ে ধলেশ্বরীতে কেন হতে পারবেনা ? পদ্মা নদীতে আমি এরই মধ্যে মাছ প্রজাতির জন্য উন্নত খাবারের বন্দোবস্ত করবো ভেবেছি , মাঝি মাল্লাদেরও আন্দোলনে যোগ দিলে কাকে কোন পদ দেওয়া হবে জানিয়েছি। যে কোন মুল্যে , প্রয়োজনে অনেক গুলো মাছ এবং মাঝিমাল্লাদের শহীদ করে হলেও (কয়েকটা মাছ বা মাঝির লাশ ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে ) @ মান্না’স থিওরি # পদ্মা নদীকে ও মাছ এবং মাঝিমাল্লাদের ঐতিহাসিক ব্যাপারগুলোকে বাঁচাতে হবে ।

ব্লগার রাজু চাকলাদার ভাইয়ের পোস্ট পড়ে মন্তব্য দিতে চেয়েছিলাম , আয়তনে বড় হওয়ায় পোস্ট দিয়ে রাখার ইচ্ছে করলো । চাকলাদার ভাইয়ের এই বাক্যটি দিয়েই শুরু করি — “ঢাবি থেকেই স্বাধীনতার স্বপ্নের শুরু হয়েছিল…..১৯৫২, ১৯৬৬, ১৯৬৮, ১৯৬৯, ১৯৭০, ১৯৭১, ১৯৯০ “

উপরের সালগুলোর মধ্যে ১৯৯০ ছাড়া বাকি সবগুলো সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় , প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এই তিনটি স্বনামখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতর দিয়ে রীতিমত মান্ধাতার আমলের রেলগাড়ি চলতো । তখনকার দিনের রেলগাড়ি যেপথ দিয়ে যেতো , মনে হতো যেন আশে পাশে কোথাও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগেছে । তখন ঢাবি তে ভর্তি হতে এতো ভালো ছাত্র হওয়া লাগতোনা টি টি এম পি** এবং টি টি আই এ পি*** দুটি সার্টিফিকেট যদি বলদের গলায়ও বেঁধে কোন মতে ঢাবির দরজায় ঢুকিয়ে দেওয়া যেত , বলদ একসময় গাই হয়ে যেত , দুধ দিত , সেই দুধের মাখন ঘি হয়ে তবেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসতো ।যে ঘি জ্বালানি হয়ে আজও পর্যন্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রটাকে সচল রাখছে । রেলগাড়ির খটাস খটাস শব্দ বলদের দুধ দেওয়াও বন্ধ করতে পারেনাই ঘি হওয়াও বন্ধ করতে পারেনাই । আর এখন ঢাবিতে এক বৈয়াম ঘি রাতে রেখে আসবেন , সকালে গিয়ে দেখবেন মাঠা বা ঘোল হয়ে গেছে । মেট্ররেলের চিঁ চিঁ শব্দে নাকি পড়ালেখা হবেনা ।

পোলাপান সারাদিন ফেসবুকে উপ্তা হয়ে শুধু আবর্জনা ঘাটে । ঢাবির অনেক পোলাপান আছে চলন্ত সিঁড়িতে উঠতেই চিতকাইত হয়ে পড়ে যায় , ওরা বাসে সিট থাকলেও দরজা পাদানিতে ঝুলে গন্তব্যে যেতে সাচ্ছন্দ বোধ করে , মেট্রো রেল এর নাম শুনলে তো ভয় পাবেই । ফেসবুকের আবর্জনা ঘাটা বাদ দিয়ে ওরা যদি গুগুল সার্চে গিয়ে খোঁজ করে, দেখবে উন্নত বিশ্বের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার বর্তমান সংস্করণ মেট্রো রেলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে । আমরা যদি নসিমন করিমন আর ভটভটিতে চড়ে অভ্যস্ত হয়ে থাকি তাহলে ভিন্ন কথা ।

ব্যাপারটা খালেদার সেই সাব মেরিন ক্যাবল সংক্রান্ত উক্তির কথা মনে করিয়ে দেয় । সাব মেরিন ক্যাবল যখন বাংলাদেশকে ফ্রি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিলো , তখন খালেদা ভেবেছিলেন এই ” সাবমেরিনে ” লোড করে বাংলাদেশের সব তথ্য পাচার করে নিয়ে যাবে । তাই তিনি ‘ মাগনা ‘ সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ না নিয়ে বাংলাদেশের বিপুল আর্থিক ক্ষতির কারণ ঘটিয়েছেন । পরে অনেক অর্থের বিনিময়ে কিনে আনতে হয়েছিলো এই সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ।

সেরকম ঘটনায় এখন কিছু সংখ্যক ঢাবি ছাত্রদের অজ্ঞতার কারণে আমাদের হাসির খোরাক জোগাচ্ছে। ওদের জানা উচিৎ ঢাবিতে শুধু নসিমন করিমন ভটভটি শ্যালো বোট আর বাসের পাদানিতে ঝুলে চলা ছাত্ররাই পড়েনা বা ভবিষ্যতেও শুধু এরাই পড়বেনা । এদের বাইরেও ঢাকায় আরও মানুষ আছে ।

মনে রাখতে হবে মেট্রো রেলের নকশা করা হয়েছে দেড় কোটি ঢাকা বাসীর কথা মাথায় রেখে , বিশ পঞ্চাশ হাজার বা তারও কম মানুষ যারা ভটভটি বা নসিমনে চড়ে অভ্যস্ত তাঁদের কথা চিন্তা করে নয় ।

আমাদের একটা ঘোড়ারোগ হয়ে গেছে এখন , দেশের যে কোন কাজেই বাগড়া দিতে হবে ,কিছু বুঝি বা না বুঝি । কয়টা সাংবাদিক ডেকে একটা সম্মেলন করে ফেলা এখন মামুলী ব্যাপার । প্রাণ রসায়ন বিভাগের এক ছাত্রীকে খাড়া করে দেওয়া হল , মেট্রোরেলের অপকারিতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে খোলা চিঠি পড় । তেলিভিশনে দেখা গেলো , কেউ একটা প্রশ্ন করলনা , তুমি কোথায় দেখেছ মেট্ররেলের অপকারিতা , এ সম্পর্কে তোমার কাছে কি তথ্য আছে , কি জ্ঞান আছে ? কতোটা আহম্মক আমরা এখন ?

আমারতো মনে হয় পদ্মা সেতুর মূল কাজ আরম্ভ হবার পর নদীর মাঝি মাল্লারা একটা সাংবাদিক সম্মেলন করে বসতে পারে । পদ্মা সেতু সরিয়ে নাও , পদ্মার পরিবেশ রক্ষা কর । ধলেশ্বরী নদীতে পদ্মাসেতু বানাও ।পদ্মার ইলিশ মাছেরও একটা প্রতিবাদ সভা হতে পারে , মাছ শিকারি এবং মাছ উভয়েই স্বার্থ সিদ্ধির মতলবে এক মঞ্চে বসতেও পারে । আমাদের মত মতলববাজ মূর্খদের দ্বারা সব সম্ভব ।

মওকা মওকা

কিছু হলেই প্রধানমন্ত্রী । আরেক আপদ এখন ঢাবিতে শুরু হয়েছে , ফরিদ মাস্টরের মর্যাদার আপদ ।মওকা পেয়ে গেছে হাতের মুঠায় । ফরিদ মাস্টরতো নিজেই সব পারে , তাহলে আবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে মর্যাদা ভিক্ষা চাওয়ার দরকার কি? আজ না , ফরিদ মাস্টরদের মর্যাদার আবদার নিয়ে আরেক দিন সময় করে লিখবো ।

**টি টি এম পি== টাইনা টুইনা ম্যাট্রিক পাশ ।

*** টি টি আই এ পি==== টাইনা টুইনা আই এ পাশ ।