ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

এখন এটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে , আদালতের নির্দেশ এর প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো । হোক সেটা নিম্ন আদালত কিংবা উচ্চ আদালত । এমন কি দেশের সর্ব উচ্চ আদালত ( সুপ্রিম কোর্ট ) এর নির্দেশ বা রায় এর প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো এখন কোন ব্যপারই না ।

সব আমাদের সয়ে যাচ্ছে । এভাবে সইতে সইতে একটা সময় শীঘ্রই এসে যাবে এন্টিবায়োটিক যেমন ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস চিনে ফেলে , ফলাফল হয় এন্টিবায়োটিককে ভাইরাস / ব্যাকটেরিয়া আর পাত্তাই দেয়না । সেরকম দাগি অপরাধীর বিচারে যখন সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় হবে , দেখা যাবে সে কিছু লোক ভাড়া করে রাস্তায় এসে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আস্ফালন করবে ।

যার সূচনা হয়েছে বলা যায় তখন , যখন দেশে ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় হবার পরই যুদ্ধাপরাধীদের দোসর রা হরতাল নৈরাজ্য করেছে । এটা এক সময় সুপ্রিম কোর্টেরও সয়ে গেছে , আদালত অবমাননা মনে করলেই নাকি অবমাননা না করলে কিছুইনা । এখন যদি কোন ডাকাতি মামলার আসামির বিচারের রায় তার মনের মত না হয় , কিছু ডাকাত একত্রিত হয়ে রাজপথে শ্লোগান দিবে আদালতের বিরুদ্ধে , হয়তো তখনও আদালত চুপ করেই থাকবে এই ভেবে যে আদালত অবমাননা মনে না করলে কিছুইনা ।

আজ সকালে সাতমসজিদ সড়ক অবরোধ করে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে হাজারীবাগ এলাকার ট্যানাড়ি শ্রমিক সংগঠনগুলো ।জিগাতলা থেকে সংকর পর্যন্ত রাস্তা আটকে রেখে মানব বন্ধনের নামে অবস্থান করেছে ।যেখানে সামান্য কিছু ট্যানাড়ি শ্রমিকের সাথে বেড়িবাঁধ বস্তির বিপুল সংখ্যক মহিলাকে যোগার করা হয়েছিলো নাক মুখ ওড়না প্যাঁচানো শুধু চোখ জোড়া দেখা যাচ্ছিলো এমন , যারা মোটেও ট্যানাড়ি শ্রমিক নয় । দেশের সর্ব উচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাস্তা অবরোধ করে মাইক ব্যাবহার করে ধানমন্ডিস্থ শ্যাখ হাসিনার( ওদের ভাষায় ) অফিসের সামনে হুংকার দিয়েছে , আপনারা হরতাল সহ আরো বড় কর্মসূচীর জন্য প্রস্তুত হন ।

তাঁদের ভাষায় এটা নাকি সুপ্রিম কোর্টের রায় নয় , এটা ভারতীয় ষড়যন্ত্র । তাঁদের ভাষায় ধানমন্ডিস্থ আওয়ামীলীগ অফিসের সামনে নাকি অনেক ‘ আমলারা ‘ ঘুরাফেরা করছে , ” তাঁদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই – হাজারীবাগ থেকে ট্যানাড়ি শিল্প স্থানান্তরের চেস্টা করা হলে আদালতের কালো হাত ভেঙ্গে দিবো ।” – এই ছিলো আদালতের প্রতি তাঁদের ব্যবহৃত বক্তৃতার ভাষা ।

হাজারিবাগ থেকে ট্যানাড়ি শিল্প হেমায়েতপুরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি মূলত শুরু হয়েছিলো এরশাদ সরকারের আমলে । এরপর দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থানান্তরের বিষয়টি বাস্তবতার মুখ দেখা শুরু করলেও ট্যানারি মালিকদের ইচ্ছাকৃত গড়িমসি আদালতের গোচরে আসে , এবং ট্যানাড়ি মালিকদের অযৌক্তিক আবদারকে কিছুটা প্রশ্রয় দিয়েও আদালত যথেষ্ট সময় ওদের দিয়েছেন । কিন্তু ট্যানাড়ি মালিকদের সর্বশেষ আবদার অনেকটা মামার বাড়ীর আবদার হয়ে যায়, যেকোন মূল্যে ট্যানাড়ি রাজধানীর কেন্দ্রেই থাকবে ।

হায় ! এদের পক্ষে আইনী লড়াই করেছেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাননীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ।উল্লেখ্য বিএনপি সরকারের সময় এই ট্যানাড়ি শিল্পকে হাজারীবাগে ধরে রাখার আইনি লড়াই চালিয়েছিলেন ট্যানাড়ি মালিকদের মৌসুমি রাজনৈতিক নেতা ব্যারিস্টার জমিরুদ্দিন সরকার । আরও আগে মওদুদ যখন এরশাদ সরকারের মন্ত্রী তখন মওদুদ এই ট্যানাড়ি শিল্পকে রাজধানীতে রাখার ওকালতি করতেন ট্যানাড়ি মালিকদের পক্ষে । যখন যেই সরকার ক্ষমতায় থাকে তখম ট্যানাড়ি মালিকদের আইনজীবী থাকেন সেই দলের কোন ব্যারিস্টার ।

এই শ্রমিক নেতারা অন্তত মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে বা তাঁদের আইনজীবীর নিকট থেকেও জেনে নিতে পারতেন এভাবে দেশের সর্ব উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে রাজপথে ব্যারিকেড দিয়ে আস্ফালন করা আইনসঙ্গত কিনা ?

আমাদের দেশের সর্ব উচ্চ আদালতের মাননীয় প্রধান বিচারপতি অবশ্যই আইসিসির আম্পায়ারদের সম মানের নন । আমরা নিশ্চয়ই প্রায়ই দেখে থাকি ক্রিকেট খেলোয়াড় যখন আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বডি ল্যাংগুয়েজেও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন , সেই খেলোয়ারটিকে শাস্তি পেতে হয় । আমাদের দেশের প্রধান বিচারপতির সম্মান কি তাহলে ক্রিকেট মাঠের আম্পায়ারের চেয়ে কম ?

সম্ভবত এখনই একটা কিছু করা দরকার আদালতের মর্যাদা ভুলুন্ঠিত হবার আগে ।

মাননীয় প্রধান বিচারপতি কেন বিষয়টি দেখেন না ? কেন একটা কঠিন উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে উচ্চ আদালতের উচ্চতা প্রমান করেন না ?