ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সংবাদ কামলা ডাকপিয়নের পোষ্ট করা ছবি দেখে এই পোষ্টটা দিতে ইচ্ছে হলো ।ছোটভাই তোমার এই বিভৎস কোপ খাওয়া ছবি দেখে আমি যারপরনাই ব্যথিত । তোমার এই অবস্থা দেখে তোমার পরিবারের সদস্যদের কি অবস্থা হয়েছে ,সেটা না বললেও সকলে বুঝে । তোমারজন্য সমবেদনা । তুমি ছাত্র ইউনিয়নের নেতা , যে তোমাকে কুপিয়েছে তিনি ছাত্রলীগের নেতা ।নেতা নাহলে কি কারো কোপাকুপি করার অধিকার জন্মায় ? আবার একদিন দেখবো ছাত্রলীগের আরেক নেতা কোপ খেয়ে চিত হয়ে শুয়ে আছে ।তিনার জন্যও আমার অগ্রীম সমবেদনা রইলো ।এই যে তোমরা ম্যাট্রীক ,ইন্টার পাশ করে আন্ডারগ্রাজুয়েট কোর্সে ভর্তি হয়েছো , তোমরা তো বড় হয়ে গেছ ,ছোট্টটি নেই ,এখনইতো নেতা হবার সময় । তোমরা যদি নেতা না হও , তোমাদের কোপ খাওয়া ,গুলী খাওয়া ছবি যদি পত্রিকায় ছাপা না হয় ,তাহলে এই যে তোমার বাবা- মা ভাই- বোন সমাজে মুখ দেখাবে কি করে? কিভাবে পরিচয় দিবে ” আরে আমাদের পল্টুটা ইউনিভার্সিটিতে ঢুকেই ছাত্রলীগের ( হতে পারে ছাত্রদল\শিবির \ছাত্র ইউনিয়ন ) কতবড় নেতা হয়ে গেলো ।আবার উল্টো চিত্রও প্রায়ই দেখা যায় ,হয়তো এক দলের ছাত্র নেতা আরেক দলের ছাত্রনেতা কে গুলী করে নাহয় কুপিয়ে নাহয় বেধরক পিটিয়ে মেরে ফেললো , রাতে সব কয়টা চ্যানেলে সেই শহীদ নেতার বাবা,মা,ভাই বোন সকলকে একটা কারবালা টাইপের ইন্টারভিউ দিতে হয় । ডায়লগ অনেকদিন যাবৎ একটাই ” এ ভাবে আমার মত যেন আর কোন মায়ের বুক খালি না হয় , বাবার কাঁধে ছেলের লাশ যে কত ভারী ভুক্তভোগি ছাড়া কে বুঝবে ” ।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হোল এই কারবালার মাতম থেকে অন্যান্য হবু \হয়ে গেছি নেতাদের বাবা মা ভাই বোনরা সবক নেয়না । তারা বুঝতে পারেনা পরবর্তি এপিসোডের দৃশ্যায়ন তাদের বাড়ীতে ই হতে পারে ।
আমরা লজ্জিত হই যখন পত্রিকায় দেখি , নাস্তার টাকা চাওয়া নিয়ে বিশাল বিশাল ছাত্রলীগের নেতারা দাও,সড়কি, বল্লম , বটি নিয়ে দৌড়াচ্ছে। তাদের পরনে হালফ্যাশনের জিন্স ,পায়ে কনভার্স ।কিছু পরেই যথারীতি হাজির আরো বিশাল বি—–শা— ল আব্বা টাইপের ছাত্র নেতা ।তোমরা ছোটভাইয়েরা নাস্তার টাকা বাড়ী থেকে নিয়ে আসতে পারোনা , রাস্তার ব্যবসায়িদের কাছ থেকে চান্দা তুলে (জোর করে ) নাস্তা খেতে হয় , ইউনিভার্সিটিতে পড়তে ঢাকায় এসে কষ্ট করছো কেন ?

উপরের প্যারার লেখাটুকু শুধু ছাত্র লীগের জন্য নয় , পটপরিবর্তন হলে ছাত্রদল ,শিবির ছাত্রইউনিয়ন তথৈবচ ।

মাঝে মাঝে রব উঠে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে ,কিন্তু হয়না । কারণ এটা সরকার ,বিরোধীদল কেউ হতে দেবেনা , এর জন্য রুখে দাঁড়াতে হবে হবু ছাত্রনেতার বা যেসকল উঠতি ছাত্র নেতা, যারা অদূর ভবিষ্যতে কোপ খাবেন বা শহীদ হয়ে বাবা মায়ের বুক খালি করবেন । সেইসব নেতাদের বাবা মা ভাই বোনদের রুখে দাঁড়াতে হবে , ওদের পথ আগলে থাকুন ।

মোদ্দা কথা হলো এই মূহূর্তে যদি গণভোট দেওয়া হয় , এই সময়ের পঁচা ছাত্র রাজনীতি এইদেশের দলিত মথিত পাবলিক বর্জন করবে ।কোপ খাওয়া ছাত্রটির আরোগ্য কামনা করি এবং উপদেশ ঃ এই নোংরা রাজনীতি থেকে দুরে থেকো ।