ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল এবং অপরাপর প্রাত:স্মরণীয় কয়েকজন নেতার নামে সরকারী “মিথ্যা” মামলার কারণে তাঁহারা কয়েকদিনের জন্য পলাতক জীবন (পলিটিকেল টেকটিক )বরণ করিয়া নেন |অত:পর বিগত সোমবার মহামান্য উচ্চ আদালতে হাজির হইয়া জামিন পাওয়ার আবেদন করেন | বিজ্ঞ মহলের ধারনা , তাঁহারা এতই উঁচু মাপের নেতা যে ইচ্ছা করিলে উচ্চ আদালতে হাজির না হইয়া বা জামিনের জন্য নিবেদন না করিয়া বরং সরকারকে কারণ দর্শাইতে নোটিশ দিতে পরিতেন এই বলিয়া যে , “কেন এইরূপ প্রাত:স্মরণীয় নেতাদের জামিন যাহার যাহার গৃহে পৌছাইয়া দিবেননা” |বিজ্ঞ মহলটি বলিতেছে দলের মধ্যে ঘাপটি মারিয়া থাকা কিছু প্রতিক্রিয়াশীল ব্যরিস্টার এহেন নেতাগণ কে পলাতক আখ্যা দিয়া জনসমক্ষে হেয় প্রতিপন্ন করার প্রয়াস পাইয়াছেন | জনশ্রুতি আছে যে , এই ব্যারিস্টার গণের কেহ মহাসচিব পদটি বাগাইয়া লইবার স্বপ্ন দেখিতেছে |

যাহা হউক , মহামান্য আদালত উপরে উল্লেখিত নেতা মহোদয় গংকে সাত দিনের জামিন মঞ্জুর করিয়াছেন , পরন্তু বিপদের বন্ধু পুলিশকে নির্দেশ দিয়াছেন ,যেন এই সাত দিন তাঁহাদের কোনরূপ ” হয়রানি ” না করা হয় | আরেকটি মহল বলিতেছে , মহামান্য আদালত পুলিশকে নির্দেশ দিয়াছেন নেতাদের হয়রানি না করিতে , এইরূপ যদি আদলতেই ওই নেতাদের নির্দেশ দিতেন যে , আপনারাও এই সাতদিন জনগণকে হয়রানি করিবেননা , উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কয়েক লক্ষ্য শিক্ষার্থীকে হয়রানি করিবেননা , আরো কয়েক লক্ষ্য প্রথম সাময়িক পরীক্ষার্থী শিশুদের হয়রানি করিবেননা , তাহা হইলে উত্তম হইত | কেহ কেহ বলিতেছে , বিগত হরতালের পূর্বে এবং হরতালের সময় পাঁচ মানুষকে হত্যা করা হইয়াছে এই নেতাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্দেশে , মূল্যবান বাস এবং গাড়ি সমূহ পোড়াইয়া দেওয়া হইয়াছে ইহাদের ই নির্দেশে |এই ব্যাপারে তাঁহাদের মৃদু ভরত্‍সনা করিলে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষ – শিক্ষার্থীরা মহামান্য আদালতের সহানুভূতি পাইত |

সাধারণ মানুষ লক্ষ্য করিল যে , উপরে উল্লিখিত নেতাগণ আদালত চত্বর ত্যাগ করিবার পূর্বেই হুংকার ছুড়িলেন রাজপথে আরো কঠিনতর কর্মসূচী চলিবে , অর্থাত্‍ কিনা আরও কঠিনতর হয়রানি চলিবে !

বিদগ্ধ জনের মন্তব্য শুনিলাম , মহামান্য আদালত নেতাদের হয়রানি হইতে বাঁচাইতে পরিলে ড্রাইভার , বাস, রিক্সা চালক , সিএনজি ,গাড়ির মালিক , শিক্ষার্থীদের ও হয়রানি হইতে বাঁচাইতে পারেন |

আগামী সাত দিনের ভিতর জনগণের প্রভু এহেন নির্যাতিত নেতাগণ যখন নিম্ন আদালতে হাজির হইবেন , মহামান্য আদালত অনুগ্রহ করিয়া যদি উহাদের বিগত কঠিনতর কর্মসূচির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত , নিহত মানুষ দের কথা ভাবিয়া মানুষকে আরও হয়রানি করা হইতে নিবৃত রাহার জন্য মৃদুতর ভৎসনা করিয়া দেন , তাহা হইলে ক্ষতিগ্রস্তদের সুখের অন্ত থাকিবে না |