ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

আজ চারদিন সমগ্র কেরানীগঞ্জ অন্ধকারে তলিয়ে আছে , নিকষ কালো অন্ধকার গ্রামগুলোকে গ্রাস করে ফেলে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে | বিভিন্ন গ্রামে মসজিদ গুলোতে মগরিব নামায মসজিদের ছাদে আদায় হয়েছে | সন্ধা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত আমি ঘাটারচর ,ওয়াসপুর , আটি , জয়নগর , বামনসুর , বাবুরগ্রাম ভাড়ালিয়া ,খোলমোরা ঘুরে দেখেছি | চরম কষ্টে প্রতিটি মুহূর্ত পার হচ্ছে এ সমস্ত এলাকার মানুষদের | বাড়িগুলোতে পানির পাম্প না চলায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পানির অভাবে |বৃদ্ধ এবং শিশুদের কষ্ট অবর্ণনীয় | এলাকাবাসী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে প্রশাসনের প্রতি | সবার মুখে এক কথা কামরুল ইসলামের মত একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী কেরানিগঞ্জের এমপি , উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ও আওয়ামী লীগের , তারপর ও কেউ সামান্য আশার কথা বলতেও এলাকায় আসেনা | সবার মুখে এক কথা আমান উল্লাহ আমান থাকলে কোন দিনও এটা হতে পারতো না |এ রকম আলাপ আলোচনা চলছে সমগ্র কেরানীগঞ্জ জুড়ে | বটতলি গ্রামের এক বাসিন্দা বললেন ভোটের সময় উনাদের দেখেছিলাম আর ছায়াটিও দেখলাম না | উনার ভাষায় আমাদের গ্রামের তিন ব্যক্তি এমপি সাহেবকে চিনে , এম পি সাহেবও ওই তিন ব্যক্তিকে চিনে | এই হচ্ছে জনপ্রতিনিধির অবস্থা | তাদের পক্ষে এলাকাবাসীর সমস্যা জানার কোন উপায় থাকার কথা নয় |এলাকাবাসী ও চরম হতাশায় নিমজ্জিত | আমি প্রশ্ন করেছিলাম তাঁরা যদি এতই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে থাকেন তাহলে, এত ভোট কোথা থেকে এল | অনেকেরই মতামত শুনলাম , আমরা কামরুলকে ভোট দেইনি , আমরা বিএনপি ,যুবদল , ছাত্র দলের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলাম , কিন্তু ফলাফল এই |এলাকাবাসী মুখিয়ে আছে আগামী নির্বাচনে ফিরতি জবাব দেওয়ার জন্য |

এই মুহূর্তে কেরানীগঞ্জবাসীর এক দাবি শীঘ্রই বিদ্যুত্‍ দিন | বিশেষ ব্যবস্থায় দুই ঘন্টার জন্য বিদ্যুত্‍ দিলেও অন্তত পানির বন্দোবস্ত হবে| মাননীয় মন্ত্রী এবং উপজেলা চেয়ারম্যান জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ না করলে কেরানীগঞ্জবাসী ফুঁসে উঠবে | সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে |