ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আমাদের সেনাবাহিনী আমাদের গর্বের প্রতীক । আমাদের আস্থার প্রতীক । যখনই শুনি কোন উড়াল সড়ক বানানো হচ্ছে  সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে , তাহলে মনে স্বস্তি পাই । এই কাজটা সময়মত , ঠিকঠাক হবে। তেমনি কোন রাস্তাঘাট কিংবা ব্রিজ, যেখানেই সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতা থাকে আমরা ভরসা পাই। কারণ এই আস্থাটা তারা অর্জন করেছে । সে কারণেই যে কোন জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী রাস্তায় থাকলে আমরা নির্ভয়ে থাকি। দেশের যেকোনো দুর্যোগে দেশ ও জনগণের পাশে আমরা তাদের পাই সবার আগে। আমরা নিশ্চয়ই রানা প্লাজা ধ্বসের কথা ভুলে যায়নি । সেখানে  দুর্গতদের উদ্ধারে তাদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য ।

images CU-tonu

সেনাবাহিনীর মতোই  সেনানিবাসের কথা উঠলেই মনের মধ্যে ভেসে ওঠে শৃঙ্খলাবদ্ধ , সুরক্ষিত নিরাপদ একটা জায়গার ছবি। যেখানে সবকিছুই চলে সুশৃঙ্খলভাবে। যে অঞ্চল থাকে সি সি কামেরা দ্বারা  সুনিয়ন্ত্রিত ।

এখন এরকমই এক সেনানিবাসের মধ্যে এক অমানবিক, হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে গেছে । নিষ্ঠুরতার সকল সীমা অতিক্রম করেছে ঘটনাটি । সেই নিষ্ঠুরতার শিকার একটা অতি সাধারণ ঘরের অতি সাধারণ একটা মেয়ে তনু। যার চোখে ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন । তার স্বপ্ন নিঃশেষ হয়ে গেছে কয়েকটা হিংস্র নরপশুর হিংস্রতায় । হতে পারে তাদের সংখ্যা একজন অথবা দশজন। কি তাদের পরিচয়? তারা কি সেনানিবাসের ভিতরের নাকি বাইরের ? প্রশ্নটার উত্তর কি হতে পারে ?
এটা অবশ্য তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাপার।

মেয়ে হারানো কিংবা বোন হারানো অথবা বন্ধু হারানোর কষ্টটা কিন্তু এখন শুধু তনুর বাবা-মা, ভাই আর সহপাঠীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই । কষ্টটা ছড়িয়ে  পড়েছে সারাদেশের মানুষের মধ্যে । ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী সহ সকল মানুষের মাঝে। ক্ষোভের আগুন জ্বলছে সবার মনে। তার বহিঃপ্রকাশ আমরা গতকয়েকদিন দেখেছি । এই ক্ষোভ  থেকে জন্ম নিতে পারে  অসন্তোষ । এখন এটা শুধু সেনানিবাসের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নয়।

নিষ্ঠুর , বর্বর ঘটনা ঘটিয়েছে কয়জন ? কতজন আছে এর পরিকল্পনাকারী । দশ জন কিংবা বিশজন। এর চাইতেতো বেশি না । এই  ঘটনার জন্য আমরা সেনাবাহিনীর ওপর দোষারোপ করবো ? না । আমরা তা করতে চাইনা। তা আমরা করবোও না। কারণ আমরা আমাদের আস্থার , আমাদের ভরসার শেষ জায়গাটা হারাতে চাইনা। আমরা বিশ্বাস করি খুনিকে বা খুনিদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির বাবস্থা করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তা করার সদিচ্ছা , শক্তি এবং সামর্থ্য আমাদের সেনাবাহিনীর আছে।