ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

প্রতিদিন আসরের নামাজের পরে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশস্থ জাতিসংঘ পার্কে একটু সবুজ শ্যামল ছায়ার নিচে গিয়ে বসা,একটু নির্মল বাতাস গ্রহণ করা প্রতিদিনের যেন রুটিন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই নিত্য নতুন মানুষের দেখা মেলে,কেউ হাটতে আসে কেউ বা পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসে,আর উঠতি যুবক-যুবতীদের (জোড়া জোড়া) সংখ্যাটা দিন দিন বৃদ্ধিই পাচ্ছেই বলে মনে হয়।

এই সব আমার আলোচনার বিষয় নয়। আমার আলোচনার বিষয় অন্য একটা। আমাদের দেশেরে উঠতি যুবক-যুবতী যারা এখানে আসেন তারা কারও না কারও বোন,বা ভাগ্নী বা ভাতিজি।তারা এই পার্কে যেখানেই নূন্যতম বসার জায়গা আছে সেখানে বসে যা যা করে,যেসব আচার – আচরন , বা সবার সামনে লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে এদিক –ওদিক চেয়ে যে সমস্ত জায়গায় হাত চালাচালি করে,তাও আমি বলবনা। এই সব কথা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। বললেও অনেকে আবার বলবে আপনি এই সব দেখছেন কেন !? এইটা অবাধ ব্যক্তি স্বাধীনতার হরনের পর্যায়ে পড়ে!!। আমি কে এই সব বলার,তাছাড়া আমাদের রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি যারা নিজেদের সংস্কৃতিক ধারক এবং বাহক হিসেবে দাবী করে ,তারাই যখন বেলাল্লাপনা , বেহায়াপনা, ও অশ্লীলতা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের দেশের প্রাণ শক্তি যুবক – যুবতীদের শরীরের রন্দ্রে রন্দ্রে ঢুকিয়ে দেওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাহবা কুড়াচ্ছেন, আবার আমাদের দেশের মন্ত্রী-এমপিরা যখন এই সব অনুষ্ঠানে আতিথ্য গ্রহণ করে মঞ্চ আলোকিত করেন, সেখানে আমার মত একজন নাদাম বান্দার এইসব বিষয় নিয়ে কথা বলাটা একেবারেই বেমানান। তাই আমি এই সব বিষয় অভিভাবকদের উপরই ছেড়ে দিলাম।

যেসব কোপত-কোপতি জোড়ায়-জোড়ায় এই পার্কে তাদের রোমান্টিক আলাপ-আলোচনা করতে আসেন,তারা পার্কে বসার জন্য যে কয়েকটা সীট আছে ( পানির চৌবাচ্চার দেওয়াল সহ) এমন ভাবে বসেন,আর আলাপ জুড়িয়ে দেন,সেখানে ভদ্র,শিক্ষিত,মার্জিত কোন পুরুষ-মহিলার পক্ষে বসাতো দূরের কথা দাঁড়ানোও সম্ভব না । তারপরও নিরুপায় হয়ে অনেকেই বসে পড়েন। তখনই তারা সুপার হিরোসুপার হিরোইনের রোমান্টিক গল্প চালিয়ে যাওয়া,ও হাত চালাচালি করার বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শুরু হয়ে যায়, আহ-ওহ। যখন ওদের এতটুকু লজ্জাবোধ দেখা যায় না, তখনই আহ-ওহ শুনে আপন মনেই সেখান থেকে তরুন সমাজের অধ:পতনের জন্য আপসোস করতে করতে চলে যান অনেক ভদ্র লোক বা মহিলা ।

তাই আমরা যারা যান্ত্রিক জীবনের মধ্যে একটুখানি শ্যামল বাতাস আর একটু সবুজ ছায়ার জন্য ঐ পার্কে যায়, তাদের পক্ষ থেকে অত্র পার্কের কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন এই যে,হই এই ব্যাপারে আপনারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন,আর যদি না পারেন তবে পার্কের চতুর্পাশের দেওয়ালের সঙ্গে সংযুক্ত করে গাছ-গাছালির আড়ালে মধ্যে এদের জন্য কিছু বেঞ্চের ব্যবস্থা করে দিন। আমরা এদের কষ্টের কারণ হতে চাই না ।

আব্দুর রহিম
চট্রগ্রাম,bangla.star@yahoo.com