ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

প্রথম আলোর তিন সাংবাদিককে পুলিশ পেটানোর পর ২৯.০৫.২০১২ ইংরেজী তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় আনিসুল হক সাহেব “ পুলিশ কেন মারে” নামে একটা প্রবন্ধ লিখেছেন, তিনি সেখানে পুলিশ উক্ত সাংবাদিকদের কিভাবে পেটালেন তার বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন । আমার মনে হয় প্রবন্ধটির হেডলাইন “ পুলিশ কেন সাংবাদিক মারে” নামেই হলে ঠিক হত।

আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে, খোলা চোখে , মুক্তমনে , কোন ধরণের ভয় ভীতি ছাড়াই “পুলিশ কেন মারে” এর কিছূ কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করব মাত্র।

সাধারণ ভাবে বলতে গেলে পুলিশ তখনই কাউকে মারে, বা গায়ে হাত তুলতে বাধ্য হন, যখন কেউ আইনশৃংখলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করেন, কেউ চুরি করলে,ডাকাতি করলে,ছিনতাই করলে, কেউ হাজার হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে ধরা পড়লে, হায় হায় কোম্পানির নামে কেউ টাকা পয়সা আত্মসাৎ করে ধরা পড়লে তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে তথ্য আদায় করার জন্য পুলিশ মারে । এই আইনটা সাধারণ জনগনের জন্য ।

পুলিশী মারার আরেকটি ভিন্ন আইন আছে , আর তা হল, সরকার বিরোধী বা বিরোধী দলের নেতৃত্বে কোন মিছিল- মিটিং বের হলে, গুম হওয়া মানুষকে উদ্ধারের জন্য প্রতিবাদ মিছিল করলে, উপরের নির্দেশে প্রকাশ্য দিবালোকে জনসম্মুখে তৈলাক্ত লাঠি হাতে তাদের উপর চড়াউ হয়ে উত্তম মাধ্যম প্রধান করেন । আর যদি তথাকথিত যুদ্বাপরাধীদের কোন অঙ্গ সংগঠন হয়, তাহলে তো কথাই নেই। তাদের জন্য উপরের নির্দেশ ২০২১ সাল পর্যন্ত অগ্রিম দেওয়া আছে। এই আইন শূধূ মাত্র বিরোধী দলকে দমন করার জন্য। এইটা অব্শ্য সাংবিধানিক আইন না , এইটা সরকার দলীয় আইন । পুলিশ শুধু এইটা পালন করেন , যেমনটা বলেন সরকারের হন্তা কর্তারা।

আবার কোন ড্রাইভার যদি ভূয়া লাইসেন্স নিয়ে এই “মহাপুরুষ”দের হাতে ধরা পড়েন, তবে তাদের চাহিদা মত হাদিয়া দিতে না পারলেও তারা মাঝে মধ্যে পুলিশী মারের শিকার হন ।
এইবার যে ঘটনার কারণে আনিসুল হক সাহেবের লেখার সূত্রপাত, সে বিষয়ে আসি। পুলিশ সাংবাদিক কেন মারে । পুলিশ কেন সাংবাদিক পেটাবেন । কে দিয়েছে তাদের এই অধিকার । না, সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ তাদেরকে এই অধিকার দেই নাই । রাষ্ট্র্ও না জনগনও না । তবে কে দিয়েছেন তাদের এই অধিকার ??।

যদি একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করা যায়,তবে দেখা যাবে তাদের এই অধিকার বা উৎসাহ সাংবাদিক ভাইয়েরাই দিয়েছ্নে, পুলিশ মারে যখন সাংবাদিক সমাজ বিভক্তি হয়ে যায়, সাংবাদ প্রচারের চেয়েও যখন আদর্শ প্রচার মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, টিপু সুলতান সাহেবেরা যখন বানিয়ে বানিয়ে রূপকথার গল্প লিখে বাংলাদেশকে জঙ্গী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিতি করার আপ্রান চেষ্টা চালায়, যখন একটি বহূল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকের পত্রিকার সম্পাদককে নজির বিহীন ১৬ দিনের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়,সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেওয়ার পর যখন মন্ত্রীর ফোন পেয়ে পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে স্বাক্ষর প্রত্যাহার করা হয়,যখন জয়নার আবেদীন ফারুকের ভাঙ্গা হাতের মোবাইলকে ঢিল হিসেবে পত্রিকায় ছাপানো হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চা খেয়ে যখন সাংবাদিকরা সাগর-রুনির কথা ভুলে যান, সাগর রুনির হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে মূল ঘটনা উদঘাটন না করে তাদের চরিত্র হননের চেষ্টা করেন,সংবিধানে বিশেষ একটা জাতিকে “ আদীবাসী” বলা যাবে না লেখার পরও যখন তাদেরকে নিয়ে আদিবাসী মেলার আয়োজন করে, যখন কোন পত্রিকার সাংবাদিকরা বিশেষ কোন দূতাবাসের আশ্রয়- প্রশ্রয় পেয়ে সদম্ভে চলাফেরা করার চেষ্টা করেন, কোরান-হাদীস রক্ষার জন্য মিছিল বের হলে যখন তারা পুলিশ তাদের উপর যে হামলা করেছে তা না দেখিয়ে, তারা ভাঙ্গা লাঠি আর ইট নিয়ে কি প্রতিবাদ করল তার ছবি একে মিথ্যাচারের করে ,আমার মনে হয় তখনই পুলিশ সাংবাদিকদের পেটাতে শুরু করেন । যদি তাদেরকে একটু জাত করা যায়। পুলিশের কাজই তো অ-জাত কে জাত করা ।

bangla.star@yahoo.com