ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

শেরপুর জেলার নালিতাবাড়িতে একটি ছোট্ট গ্রাম ডালুকোনা। গারো এবং বাঙালি মিলিয়ে প্রায় চারশো মানুষ বসবাস করে এই গ্রামে। গারো পাহাড় ঘেষা এই গ্রামের প্রাকৃতিক নয়ানাভিরাম দৃশ্য দুর-দূরান্তের পথচারীদের মানসিক শান্তি যোগাতো একসময়। কিন্তু প্রকৃতির এই খেয়াল, সৌন্দর্যগুলো মানব সৃষ্ট কিছু  কারনে আজ বিলীন প্রায়। ২০০০ সালের শেষের দিকে রাস্তা ঘাট উন্নয়নের নাম করে যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভাল পর্যায়ে আসার পর থেকেই অবাধে বালু উত্তোলন, পাথর উত্তোলন এবং পাহার কেটে প্রকৃতি নষ্ট করার পেছনে ইন্ধন যোগাচ্ছে কিছু মানুষ। এক সময়কার চেনা প্রকৃতি হঠাৎ বদলে গিয়ে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বালির স্তূপ, বড় বড় গর্ত। একটা সময় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবাধে বালু উত্তোলন থেমে গেলেও কিছুদিন পর পরই প্রভাবশালীদের দাপটে নতুন করে শুরু হচ্ছে এই প্রকৃতি ধ্বংসের  মহোৎসব।

২০১০ সালের আগ পর্যন্ত এই এলাকার মানুষেরা কখনও পানির অভাবে পরেনি। কিন্তু ইদানিং শীতের শেষের দিকে প্রতি বছরই খাবার পানি থেকে শুরু  দৈনন্দিন বেঁচে থাকবার প্রয়োজনে পানির অভাবে ভুগছে এই এলাকার আদিবাসীরা এবং কিছু বাঙালিরাও। এলাকার বেশীরভাগ টিলা বা উঁচু স্থানগুলোতেই আদিবাসীদের বসবাস। এবং ছোট ছোট ঝিরি বা ঝরণা জাতীয় খালগুলো প্রকৃতির নিয়মে পাহাড়ের বা টিলার পাশ দিয়েই বয়ে গেছে। এসব জলাশয়ে তুলনামূলকভাবে বেশী পরিমানে নুড়ি পাথর ও বালু পাওয়াতে অর্থলোভীরা প্রতিনিয়ত পাম্প বসিয়ে বালু তুলছে। যার কারনে টিলা বা পাহাড় ধসে পরার আশংকা বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে।

অন্যান্য এলাকার তুলনায় এখানে শিক্ষার হার কম হওয়ায় প্রতিবাদ করার মতো মানসিকতা যেমন গড়ে উঠছেনা তেমনি বিভিন্ন এলাকার ব্যাবসায়ীরা অল্প পুজিতে বেশী পরিমান টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ইচ্ছায় চালিয়ে যাচ্ছে এইসব ক্ষতিকর কর্মকান্ড। টিলাবাসীদের বেশিরভাগ জনগন জলের অভাব পূরণ করে কুয়া থেকে। যেগুলো খুব বেশী গভীর নয়। তাছারা পাথুরে মাটিতে গ্রাম্য প্রযুক্তি দিয়ে গভীর কূপ খনন করাও তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছেনা। অতিমাত্রায় বালু উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নীচে চলে যাওয়ায় কূপগুলো অকেজো হয়ে পরছে। শুধু মাত্র প্রাকৃতিকভাবে মাটির নীচ থেকে উঠে আসা ছোট্ট ছোট্ট জলাধারগুলো পানির যথেষ্ট যোগান দিতেও পারছেনা। কিন্তু এই বিষয়ে ভ্রূক্ষেপ নেই কারোর ! যে দেশে একাংশ নষ্ট করে নগরায়নের নামে কিছু কিছু এলাকার জন জীবনকে হাঁপিয়ে দেওয়া হচ্ছে সেখানে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর কি কেউ নেই? নাকি ইচ্ছে করেই প্রভাবশালীদের ইন্ধনে প্রশাসন নিজেই ঘটিয়ে চলেছে প্রকৃতির এমন ক্ষতি?