ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

দেশ সম্পর্কে কিছু জানা-অজানার সাথে দেশাত্মবোধকতা খুব বেশি নাকি কম তা কোনভাবে পরিমাপ করা যায় কি? আমি এই দেশের ১৯৭১, ১৯৫২ ইত্যাদির ইতিহাস জানি। জানি কবে ভাষা দিবস আবার কবে স্বাধীনতা, কবেই বা বিজয় দিবস। কিন্তু যারা জানেনা সেই বাংলাদেশীদের জন্য আমার লজ্জা হয় যদিও কিন্তু তাঁদেরকে জানানোর কোন উদ্যোগ নিতে ইচ্ছা হয়না! বরং একটা ক্যামেরা কিনে সেই লোকদেরকে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে তাদের না জানা বিষয় নিয়ে মজা করতে ইচ্ছা হয়। শেষে সেই ভিডিও অনলাইনে আপলোড করতে পারলে আরও বেশি বাহাদুরি ভাব আসে!

কি অদ্ভুত বাহাদুর আমরা, অদ্ভুত সাংবাদিকতা। বাংলাদেশী হয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে না জানাটা যদি লজ্জার হয় তবে অজ্ঞ মানুষটিকে অনলাইনে ভাইরাল বানানোটা খুব সন্মানের কাজ হয় কি করে? আমাদের যদি অজ্ঞকে জ্ঞান দেবার ক্ষমতা না থাকে তবে কারো অজ্ঞতাকে অপমান করার অধিকার কি ফেসবুক আর ইউটিউব সংরক্ষণ করে? ব্যাপারটা মেনে নিতে কষ্ট লাগে একজন কিছু বিষয়ে জানেনা আর আমরা সেই বিষয়টি তাকে বোঝানোর দায়িত্ব না নিয়ে বরং তাকে উল্টো অপমান তো করিই শেষে বুক ফুলিয়ে একেই ‘একুশের চেতনা’ বলে চালিয়ে দেই।

shohidমিনার

দেশজুড়ে শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে। তাদের পাঠ্য বই কি এক নয়? নাকি ভাষা শহীদদের ইতিহাস, আলোচনা যথেষ্ট পরিমাণে করাই হয়না! লজ্জা যদি পেতে হয় সেইসব মানুষদের লজ্জা হওয়া উচিত, অপমান হওয়া উচিত যাদের হাতে মানুষকে জ্ঞাত করার দায়িত্ব থাকে কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব এড়িয়ে চলছেন। আমি আপনিও সেই ব্যাক্তিদের তালিকায় নাই এর কোন প্রমাণ আছে? আপনি যদি মিডিয়া না জানেন, মিডিয়ার ব্যবহার না জানেন তবে মিডিয়া ছেড়ে  নিজ দায়িত্বে সভা, সেমিনার, কর্মশালা করেন। মানুষের সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরেন। অপমান না করে মানুষকে সঠিক তথ্য দেন। এতে মিডিয়া নিজেই নিশ্চয় আপনার পেছনে সময় খরচ করতে বাধ্য হবে।

১৯৫২ কে ভালো জানা মানুষেরা জ্ঞানের ভারে শহীদ মিনারে উঠে জুতো খুলতে ভুলে যান, কেউ কেউ  ফুল দিতে গিয়ে কে আগে কে পরে নিয়ে মারামারি করেন, অনেক পণ্ডিত আবার শহীদ দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়ে ইংরেজিতে স্ট্যাটাস মারেন! সেই মহামান্য ব্যাক্তিদের চাইতে ২১ অথবা ৫২ না জেনে ফুল দিতে আসা মানুষেরা কম কিসে জানিনা। কারো অজ্ঞতাকে অপমান করতে ফেসবুকে কোন ভিডিও আপলোড করা হলে সেটি কেন সাইবার ক্রাইম নয়? কোন টিভিতে প্রচার করা হলে সে বিষয়ে ঐ ব্যাক্তিটি কেন আইনি ব্যাবস্থা ব্যাবস্থা নিতে পারবেনা? নিশ্চয়ই পারা উচিত। পারা উচিত এই কারণে কারোর না জানার সুযোগ নিয়ে কোন একজন ব্যাক্তি লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে তাকে অপমান করেছে। পারা উচিৎ সেই কারণে ঐ ব্যাক্তিটা ক্যামেরার সামনে তাঁকে অপমান করেছে ঠিকই কিন্তু সঠিক ইতিহাসটা বলার প্রয়োজন বোধ করেনি।

চেতনা হোক না জানা মানুষদের জানানো, চেতনা হোক অজ্ঞতার অবসান, চেতনা হোক মানুষকে ছোট না করার মাহাত্ম্যে।